বেহায়া, জাদুকরী, নির্লজ্জ “ভালোবাসা”

মাহমুদ হাসান
দুই প্রজাপতি একজন আরেকজনকে খুব ভালোবাসতো। তাদের মাঝে প্রায়ই তর্ক হতো যে কে কাকে বেশি ভালোবাসে। যাই হোক, একদিন তারা দুজনে একটা বাজি ধরল। বাজির শর্ত ছিল, তারা যেই বাগানে থাকে সেই বাগানের সবচেয়ে সুন্দর ফুলটার উপর একদম সকালে যে আগে বসতে পারবে সেই অন্যজনকে বেশি ভালোবাসে! মেয়ে প্রজাপতিটা রাতে আর ঘুমাল না। সে শুধু ভাবতে লাগলো। ঘুমিয়ে পড়লে যদি ছেলে প্রজাপতিটা আগে চলে যায়! খুব সকালে মেয়ে প্রজাপতিটা তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বের হয়ে উড়তে উড়তে সবচেয়ে সুন্দর ফুলটার কাছে গেলো। তখন ছিল একদম ভোরবেলা। চারিপাশে আলোও ফুটেনি। সে গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো কখন সকাল হবে আর ফুলটা ফুটবে!

সকাল হল। সূর্যের প্রথম কিরণ সেই বাগানের সবচেয়ে সুন্দর ফুলটার উপর পড়লো। আর মেয়ে প্রজাপতিটা গভীর বিস্ময়ে দেখল:
ছেলে প্রজাপতিটা সেই ফুলের মধ্যে বসে আছে। তার দেহে প্রান নেই। আসলে, মেয়েটাকে সকাল বেলা চমকে দেয়ার জন্য সে গত রাত থেকেই ফুলটার মধ্যে ঢুকে যায়। রাতে যখন ঠাণ্ডা খুব বেড়ে যায় তখন সে ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে মারা যায়। মরে সে ফুলের মধ্যেই থাকে। নিজের প্রিয়তমাকে চমকে দিতে!
ভালোবাসা আসলো এমনি। আমাদের যেমন বাঁচতে শেখায় তেমনি মাঝে মাঝে অনেক বেশি দুর্বল করে........।
কি ভীষণ মিষ্টি একটি শব্দ! কি গভীর সুন্দর একটি শব্দ! কি প্রচণ্ড শক্তি সে শব্দের গায়ে! অথচ কি ভীষণ বর্ণচোরা সে, এই দেখি তো সেই দেখিনা এই আছে তো সেই নাই!
শব্দটা আবার কেমন যেন বেহায়া বেপরোয়া! আমরা স্বীকার করলেও “ভালোবাসা” আছে আমরা অস্বীকার করলেও “ভালোবাসা” আছে আমরা কাছে থাকলেও “ভালোবাসা” আছে আমরা দূরে থাকলেও “ভালোবাসা” আছে। আমরা চাইলেও “ভালোবাসা” আছে না চাইলেও “ভালোবাসা” আছে। কি নির্লজ্জ বেহায়া হতে পারে এই ভালোবাসা! কি নির্বাণ জাদুকরী হতে পারে এই ভালোবাসা! শব্দটি শোণা মাত্রই শরীরে কি রিমঝিম বৃষ্টি নামে! আমরা কাকভেজা হয়ে যাই
আমরা মোহ বন্দী হয়ে যাই, আমরা ঐশ্বরিক আনন্দে বুদ হয়ে যাই যদিও আমরা নিছক ছন্দ বদ্ধ দুটি শব্দ মাত্র, একটা শব্দ “তুমি” আরেকটা শব্দ “আমি” আর তার মাঝে আর একটি শব্দ আছে
তার নাম “ভালোবাসা”! “ভালোবাসা”, “ভালোবাসা”, “ভালোবাসা”। ভুল করে লিখা নিছক “ভালবাসা” নয়, ঠিক ঠিক নির্ভুল ভাবে লিখা “ভালোবাসা”! কি অদ্ভুত একটা শব্দ অথচ কি গভীর মায়া! আবেগে আমার কণ্ঠ ভিজে যায় আমি আকণ্ঠ ডুবে যাই জলে আমার চোখে তৃপ্তির কান্না জমে বৃষ্টির ছন্দে আমি প্রান ভরে কাঁদি!