ব্যথার দান। (পর্ব:০১)

দুঃখ-কষ্ট সব সময়ই মন্দ নয়। বালা-মসিবত এমন নয় যে, সর্বাবস্থায়ই তাকে ঘূণা করতে হবে। বিপদ-আপদ কখনও কখনও বান্দার জন্য উপকারী বলেই প্রমাণিত হয়। বান্দা বিপদে পড়ে আন্তরিকভাবে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে; তার তাসবীহ পাঠ করে।

একজন তালেবে ইলম ছাত্র জীবনে কষ্ট করে। ফলে সেই মেহনত তাকে বড় আলেম বানিয়ে দেয়। শুরুতে কষ্ট করে, পরবর্তীতে সে বিখ্যাত হয়ে ওঠে। একজন কবি প্রথমে দুঃখ-কষ্ট সহ্য করলেই পরবর্তীতে তার কবিতাগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। তার সাহিত্য হয়ে ওঠে কালজয়ী।

যে তালেবে ইলম আরাম-আয়েশে জীবন যাপন করে, কষ্ট করে না, এমন ছাত্র সব সময় অলস, অকর্মণ্য ও অনুৎপাদনশীলই হয়ে থাকে। সে জীবনে কোনোদিন উন্নতি করতে পারে না।

যে কবি কষ্ট ভোগ করেনি, যার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়নি, যে দুঃখ-দুর্দশা ও তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখী হয়নি, তার কবিতা কখনও প্রভাব সৃষ্টিকারী ও কালোন্তীর্ণ হয় না। কেননা, তার কবিতা বের হয় তার মুখ থেকে; হৃদয় থেকে নয়। তার কবিতায় শব্দের গাথুনি থাকে, কিন্তু হৃদয়ের আবেগ ও আবেশ মেশানো থাকে না। এর চাইতেও উত্তম ও প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে ইসলামের প্রাথমিক যুগের ঈমানদারদের
জীবন। তাঁদের ঈমান ছিল দৃঢ়। দিল ছিল নেক। কথায় সত্যবাদী। ইলম ও জ্ঞানে প্রাজ্ঞ ও সুগভীর। কারণ, তারা মসিবতের পর মসিবত সহ্য করেছেন। বর্ণনাতীত কষ্ট করেছেন। ক্ষুধা-পিপাসা ও জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন। তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। প্রিয়জনদের ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। নিজেদের পছন্দনীয় বস্তু ত্যাগ করতে হয়েছে। এভাবেই তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও নির্বাচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।


কারণ, আল্লাহর পথে তাদের তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধায় কাতর হওয়া এবং কাফেরদের ক্রোধ উদ্রেক করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে আঘাত প্রাপ্ত হওয়া-এ সবই তাদের আমলনামায় সৎকর্মরূপে গণ্য হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না। [সূরা তাওবা : ১২০]





লেখক : শেইখ ড. আয়িদ আল ক্বরনীর
বই : লা তাহযান বা হতাশ হবেন না
পাঠ নং : (৩৬) ব্যথার দান। (পর্ব:০১)
প্রকাশন : হুদহুদ
( চলবে ইনসাআল্লাহ )



No comments:

Post a Comment