আমাদের এগুতে দিন, ভাল থাকতে দিন
১১ এপ্রিল ২০১৭ মঙ্গলবারশীর্ষ আলেমরা গণভবনে গিয়ে শেখ হাসিনার কাছথেকে স্বীকৃতি এনে শহীদের রক্তের সাথে আমরা বেঈমানী করেছি বলে সমালোচনা করছেন। আচ্ছা বলেন তো, শাপলা চত্বরের গণ-হত্যার প্রতিবাদে আপনারা কি করেছেন? যার সন্তান মরেছে তার থেকে কি আপনাদের দরদ বেশি?
বন্ধু সেজেছেন আজ। ভালবাসা দেখাচ্ছেন। শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি দরদ দেখাচ্ছেন। অথচ আপনাদের স্বর্ণযুগের কথা আমরা ভুলিনি। তখন তো আপনাদের পথের কাটা ছিলাম আমরা। ক্যাম্পাসে আমাদের দাড়াতে দেননি। মিছিল করতে দেননি। দাওয়াত কার্ড বিতরণ করতে দেননি। হোষ্টেলে শান্তিতে থাকতে দেননি। মাঝেমধ্যে হাড়গোড় ভেঙ্গে ফেলারও হুমকি শুনতে হয়েছে আমাদের। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের কোথাও আপনাদের কাছথেকে বন্ধুসুলভ আচরণ আমরা পাইনি।
কওমী সনদের স্বীকৃতি কারো করুণা নয় এটা আমাদের অধিকার্। এ অধিকারের জন্য ১৯৯২ সাল থেকে আমরা সংগ্রাম করে আসছি। আপনারা তো ক্ষমতায় ছিলেন। কওমীর জন্য কি করেছেন? কওমীর প্রতি একটু পরিমাণও ভালবাসা দেখাতে পারেননি। আজ আ'লীগ সরকারের মাধ্যমে কওমী সনদের স্বীকৃতি এসেছে এজন্যই আপনাদের অসহ্য লাগছে। জ্বলেপুরে ছারখার হয়ে যাচ্ছেন। কেন এমন করছেন?
কথায় কথায় শাপলা চত্বরের গণহত্যার ইস্যুকে টেনে আনছেন। এই ইস্যু দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু আওয়ামীলীগই কি কওমী ওয়ালাদের উপর নির্যাতন করেছে? কওমী ওয়ালাদের হত্যা করেছে?
এমন কোন সরকার আসেনি যে তারা কওমী ওয়ালাদের উপর হাত তুলেনি। হত্যা করেনি। জেলে ঢুকিয়ে নির্যাতন করেনি। আপনাদের সরকার কুখ্যাত মুরতাদ তাসলিমা নাসরিন বিরোধী আন্দোলন দমন করতে ছাত্র মজলিসের কিশোর কর্মী ‘আরমান’কে হত্যা করেছে আমরা তা ভুলে যাইনি। আরমানের কি অপরাধ ছিল? কুরআনের ইজ্জত রক্ষার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল এটাই ছিল তার অপরাধ। শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ.-কে একসাপ্তা রাস্তায় রেখেছেন.... অনেক কিছুই করেছেন আপনারা, ভুলিনাই....
আজ আ’লীগের সরকারের কাছ থেকে কওমী সনদের স্বীকৃতি গ্রহণ করায় কঠিন সমালোচনায় মেতে উঠেছেন। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য আপনারা কতবার আওয়ামীলীগের হাতে হাত মিলিয়েছেন, বুক মিলিয়েছেন স্বরণ আছে? আপনারা ভুলে গেলেও জাতির অজানা নয়।
প্লীজ! হিংসা করবেন না। আমাদের এগুতে দিন। ভাল থাকতে দিন। আপনাদের জন্য শুভ কামনা রইলো। কওমী স্বীকৃতির ব্যাপারে বেগম জিয়া কথা দিয়েছিলেন...কিন্তু কথা রাখেননি। শেখ হাসিনা কথা দিয়েছেন এবং রেখেছেন। সুতরাং কওমী স্বীকৃতি না দেয়াটা ছিলো বেগম জিয়ার ব্যর্থতা। কওমী স্বীকৃতি প্রদান করাটা ছিলো শেখ হাসিনার সফলতা।
আর কওমী পড়ুয়া আলেমদের সফলতা হলো... আমরা আমাদের অধিকারকে আমাদের শর্তানুযায়ী অর্জন করাতে পেরেছি। এবং যে মুখ দিয়ে তেঁতুল হুযুর উচ্চারিত হয়েছিলো..সে মুখ দিয়ে আমাদের শায়খের নামের আগে ‘সম্মানিত ও আল্লামা’ শব্দদ্বয় উচ্চারণ করাতে পেরেছি। এমনকি হাইকোর্টের সামনে থেকে মূর্তি অপসারণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
-ইনশাআল্লাহ, এভাবেই আমরা আমাদের দাবীগুলো এক এক করে পূরণ করাবো। আমাদের নিন্দুকেরা যাই বলুক না কেনো, তাদের কথা শুনে আমরা বিএনপির মতো আম-ছালা দুটো হারিয়ে নিঃস্ব হতে চাই না।
আমাদের অবস্হান স্পষ্ট...আর তা হলো, আমরা সুসম্পর্কের মধ্য দিয়ে আমাদের দাবীগুলো পূরণ করাতে চাই। তারমানে এই নয় যে, আমরা শেখ হাসিনার কাছে নিজেদের সঁপে দিয়েছি, কিংবা শাপলার শহীদদের রক্তের সাথে গাদ্দারী করেছি..। বরং শাপলার শহীদদের মর্যাদা রক্ষার্থেই দাবী পূরণের কৌশলী পথে আজ আমাদের পথচলা।
অতএব, যারা আজ কওমী স্বীকৃতি বিষয়ে আমাদের উস্কানী দিচ্ছেন বা আমাদের মুরুব্বীদের নিয়ে কটু কথা বলছেন..তারা সাবধান হয়ে যান।
সর্বপরী আমার কওমী পড়ুয়া ভাইদের বলবো, আমাদের দুশমনেরা চাচ্ছে..যেমনিভাবে বেগম জিয়াকে কুপরামর্শ দিয়ে স্বীকৃতি না দেয়াতে..তেমনি আজ আমাদের স্বীকৃতি প্রাপ্তীকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করতে ।
অতএব, আসুন আমরা আমাদের এ প্রাপ্তীকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করি এবং নিন্দুকদের কথায় কান না দিয়ে ...তাদের চুলকানী বাড়িয়ে দিয়ে পাগলা মলম ব্যবসায়ীদের ব্যবসা চাঙ্গা করি।



No comments:
Post a Comment