মুসা আল হাফিজ
আল্লামা ইকবাল উপমহাদেশের মুক্তিকামী মানুষের আত্মজাগরণের পথিকৃৎ
এক মহান কবি দার্শনিক ও শিল্পী প্রতিভা। তার সৃষ্টি,
শিা, দৃষ্টি ও আদর্শের মধ্যে
আমাদের জাতিসত্তার আত্মপরিচয়ের স্বভাব ও স্বরূপ অসামান্য উজ্জ্বলতায় উৎকীর্ণ। ফলে ইকবাল সত্তায় কেবল এক কবির বসবাস নয় বরং রয়েছে এক মহান আদর্শের উত্তরাধিকার। তার আবির্ভাব ছিলো উপমহাদেশের ঘোরতর দুঃসময়ে ত্রাণকর্তার মতো।
তার স্বতন্ত্র, দুঃসাহসী উচ্চারণ চুরমার করতে চেয়েছে পরাধীন মানুষের হীনম্মন্যতার দেয়াল। তাদের চেতনার ঠান্ডা আকাশ মুখর করে তুলেছে তার চিন্তার জ্যোতিষ্কের কোলাহল। সহিষ্ণু মুসলিম চেতনাসীমায় ইকবালের কবিতা ছিলো স্বপ্নের পুনরুত্থানের মতো। তার চিন্তাধারা ছিলো স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসা নবজন্মের ইশতেহার। ুদ্রতার, সংকীর্ণতার, সংস্কারের সকল প্রাচীরের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলো তার কবিতা। ফলে সেই কবিতার জগত ছিলো গতির গমক, চিন্তার চমক ও দ্রোহী পদেেপ প্রকম্পিত।
তার স্বতন্ত্র, দুঃসাহসী উচ্চারণ চুরমার করতে চেয়েছে পরাধীন মানুষের হীনম্মন্যতার দেয়াল। তাদের চেতনার ঠান্ডা আকাশ মুখর করে তুলেছে তার চিন্তার জ্যোতিষ্কের কোলাহল। সহিষ্ণু মুসলিম চেতনাসীমায় ইকবালের কবিতা ছিলো স্বপ্নের পুনরুত্থানের মতো। তার চিন্তাধারা ছিলো স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসা নবজন্মের ইশতেহার। ুদ্রতার, সংকীর্ণতার, সংস্কারের সকল প্রাচীরের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলো তার কবিতা। ফলে সেই কবিতার জগত ছিলো গতির গমক, চিন্তার চমক ও দ্রোহী পদেেপ প্রকম্পিত।
ইকবালের কবিতায় কান পাতলেই মানবাত্মার কুচকাওয়াজের শব্দ শুনা
যায়। শুনা যায় বসন্তের হাসির মতো ছলকে উঠা শিল্পের স্রোতের স্বনন
রব। চোখ মেললেই দেখা যায় উদ্দাম মৃগহরিণ বাতাসের অরণ্যে বিচরণ করছে,
মহামানবিকতার চকচকে অঙ্গীকার সূর্যের আগুনে পতাকার মতো লাগছে,
তার পতপত আছাড়ে গুড়ো রোদের মতো ছিটকে পড়ছে ইতিহাস। ইকবালের দর্শন নিয়ে কথার উপর কথামালা হয়েছে প্রচুর। তার জীবনবোধ, আত্মোপলব্ধি, চিন্তা ও পয়গামের বিষয়টি এখন আর অগম্য নয়। ইকবাল কাব্যের অনুবাদের মাধ্যমে বাংলাভাষী পাঠক পরিচিত হয়েছেন তার ভাবনাবলয়ের সাথে। কিন্তু অনুবাদ থেকে যে জিনিসটি তারা পাননি, সেটা হলো ইকবাল-কাব্যের ঐন্দ্রজালিক শিল্প ও সৌন্দর্য। কারণ বাংলা ভাষায় যারা ইকবাল-কাব্যের অনুবাদ করেছেন, তাদের অনেকেই সৃজনমতার অভাবে কিংবা আরিকভাবে মূলানুগ হবার মূঢ় বাসনায় উদ্দীপিত
হয়ে ইকবালের কবিতার বিপর্যয় ডেকে এনেছেন। অমীয় চক্রবর্তি,
ফররুখ আহমদ, সৈয়দ আলী আহসান প্রমুখের
কয়েকটি অনুবাদ ছাড়া অন্যান্য অনুবাদে দার্শনিক ইকবালকে পাওয়া যায়, কিন্তু কবি ইকবালের দেখা মিলে না। অথচ দার্শনিক ইকবালের চেয়ে কবি ইকবালের মহিলা কোনো অংশেই কম নয়। কাব্য সৌন্দর্যে তিনি বিশ্বসাহিত্য বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। তার সেই সৌন্দর্যের স্বরূপ কি? বাংলা সাহিত্যের অন্যতম
কবি অমীয় চক্রবর্তীর ভাষায়- ‘তাহার কবিতায় শিল্পী
ও স্রষ্টার সম্মেলন ঘটিয়াছে। ফারসী ও উর্দু উভয়
ভাষারই চোস্ত ও সুমার্জিত কবিতায় ইকবাল মিনারেট সমূহের সুদূরবর্তী ইশারা ও আরবীয় মরু
বালুকার চাকচিক্যময় স্বপ্ন আমাদের চোখে জাগাইয়াছেন।
জীবনের বাস্তবতার পটভূমিকায় নীলিম নিঃসীমতা যেন এখানে গলিয়া
পড়িতেছে। তাহার রহস্যবাদ জীবনের সম্মুখীন হইয়াছে, তবু ইহা যেন রহস্যের অতলতাকে স্পর্শের জন্য ব্যাকুল। তাহার ভাষায়ও প্রাঞ্জল শব্দাবলী যেন অগম্য অতলতাকে প্রকাশিত করিয়া দিতেছে। সুদ জহুরী যেভাবে স্বর্ণ ও মূল্যবান প্রস্তরাদি চয়ন করিয়া থাকে ইকবালও তেমনই সতর্কতাসহকারে
শব্দ চয়ন করিতেন। তবুও তাহার শৈল্পিক নৈপুণ্যতা ও ভারসাম্য
রার অন্তরালে স্রষ্টার বাস্তবতাবোধ প্রভমান। (ইকবাল অমীয় চক্রবর্তী,
মুহম্মদ হাবীবুল্লাহ বাহার সম্পাদিত ‘কবি ইকবাল' বুলবুল হার্ডস, কলকাতা) তিনি আরো লিখেন- ‘কবি ইকবালের কাব্য
কাননে বিচরণ করলে সৌরভিকুঞ্জ দেখতে পাব, খররৌদ্র ধূলিতে
শ্যামল মেলে আছে, অগণ্য মনোহর বীথি আহবান করে নিয়ে যায় গভীর
ভাবনার নির্দেশে। বাক্যের ভঙ্গির রসের উচ্ছল মাধুর্য এবং দিগন্ত
দৃষ্টিময় ব্যঞ্জনা তার বহু কবিতায় উপকর্ষে যে ভাষা পেয়েছে, তা উর্দু বা পারসিক ধ্বনিকে অতিক্রম করে সর্বমানবের চিত্তচারী (সাম্প্রতিক;
পৃষ্ঠা-১২৯)
ইকবালের কাব্য সম্পর্কে প্রখ্যাত উর্দু কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ বলেছেন-
‘ইকবালের বাণীর প্রাণবন্ত ও শক্তির উৎস হচ্ছে তার কাব্য সৌন্দর্য। ইকবালের মতো আর কোনো কবি উর্দু কবিতায় ব্যঞ্জন ও স্বরবর্ণের এতখানি ধ্বনিবৈচিত্র
সৃষ্টি করতে পারেননি। এ পদ্ধতির তিনিই উদগাতা। উর্দুকাব্যে তিনি নতুন ছন্দ প্রবর্তন করেন, প্রথম সার্থকভাবে নামবাচক বিশেষ্য ব্যবহার করেন এবং অসংখ্য নতুন শব্দ আমদানি করেন। ইকবালের অন্বেষা হলো বিশ্বজগৎ ও মানুষ, বিশ্বজগতের মুখোমুখি মানুষ। তার কবিতার শেষ কথা
হলো : মানুষের কথা, মানুষের বিশ্বের কথা, মানুষের একক মর্যাদার কথা। এই মূল্যবোধ ইকবালের কবিকীর্তিক একক মর্যাদায় অভিসিক্ত করেছে।' ইকবালের নির্বাচিত কবিতা, মুহম্মদ মাহফুজ উল্লাহ লিখিত ভূমিকা, পৃ. ৯)
ইকবাল তার এই অবিস্মরণীয় মূল্যবোধ গ্রহণ করেছিলেন ইসলাম থেকে। ইসলামের সারসত্যকে ঋজু, চৈতন্য উদ্দীপক ও মর্মস্পর্শী
আঙ্গিকে তিনি উপস্থাপন করেছিলেন। সেই উপস্থাপনা ছিলো
যুগপথ শৈলী ও বক্তব্যে সমানভাবে ঐশ্বর্যমন্ডিত। কবিতার ঐশ্বর্য সন্ধানে আদর্শকে গৌণ করার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না আল্লামা ইকবাল। তিনি কবিতার প্রাণ হতে পারে, এজন্যে মানবকল্যাণের
মহীয়ান আদর্শ তালাশ করেছেন। এ ল্েয হাত বাড়িয়েছিলেন
পাশ্চাত্যের কাব্যদর্শনের দিকে। কিন্তু সেখানে খুঁজে
পাননি কাম্য আদর্শ। ইকবালের ভাষায় সেই দর্শন- ‘নিজের ছোরায় নিজেই করিবে আত্মহত্যা/পলকাডালে যে বাসা বাধা হয়,
সে হয় না চিরস্থায়ী'। ইকবাল সেখানে বাহারী
চাকচিক্য ছাড়া মানবজীবনের কোনো মৌল আদর্শ খুঁজে পাননি। অতএব এর পিছনে সময়পাত করে ইকবালের আপে- ‘ইউরোপের ঐ শরাবখানায় কাটিয়েছি দীর্ঘকাল/লাভ তো কিছু হয়নি তাতে শিরোপীড়া বাড়লো ছাড়া।'
পশ্চিমা জীবনদর্শন পঠন-পর্যবেণের পর ইকবাল আত্মনিয়োগ করেন ইসলামের
অন্তঃসমীায়। সেখানে তিনি আবিষ্কার করলেন মানবিক কাব্যাদর্শের
আবহায়াত। সেই আদর্শের প্রতি ইকবালের বিশ্বাস ছিলো দৃঢ়। এেেত্র কারো ভ্রুকুটিকে তোয়াক্কা করতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। তার স্পষ্ট ঘোষণা, ‘ইউরোপ বিরক্ত হলে হোক
শুনে ইসলামের নাম/সংকটে স্বনির্ভরতা এই সেই রূহের পয়গাম।' রূহের পয়গাম দ্বারা কবিতাকে কীভাবে সার্থক করে তুলতে হয়, ইকবাল তা দেখিয়েছেন কালোত্তীর্ণ সব কবিতার পটভূমিকায়। যারা কবিতাকে কোনো মৌলআদর্শের বুনিয়াদ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবেন, ইকবালের দৃষ্টিতে তাদের কবিতা হলো পুরোহিতের আত্মার মতো জীবনের
অসুস্থতা। যারা বলেন, কবিতা কেবল শিল্পের
কাছে দায়বদ্ধ, আদর্শের কাছে নয়, তাদের কবিতাকে ইকবাল কুষ্ঠরোগাক্রান্ত মাংস বলে অভিহিত করেন। আদর্শের প্রশ্নে ইকবাল ছিলেন অনড়। ফলে তার কবিতার শিল্পসুষমা
পাঠককে শুধু তাৎণিক আবেগে উদ্দীপিত করে না, এবং মহান এক জীবনীশক্তির পয়গামে তাকে উজ্জীবিত করে। ইকবাল চান কবিতা যেন প্রেম-বিরহ ও হৃদয়ভঙ্গজনিত করুণ অস্থায়ী সংবেদনসমূহে আবদ্ধ
না থাকে। কবিতার ল্য হবে এমন অসাধারণ শিল্পসৃষ্টি, যা হোক বিকীর্ণ হবে অনন্ত আলো ফোয়ারা, প্রবাহিত হবে সৌরভের এমন ঘর ঝরণাধারা, যার সংস্পর্শে আসা মাত্রই মনে হবে-
‘শিল্পীদের সৃষ্টিগুলো ফেরদৌসের সমতূল্য
উন্মুক্ত হলো অস্তিত্বের গোপন ভান্ডারের আবরণ'
কবিতা শিল্পসাফল্য পেলেই পুলকিত হন না, বরং স্বকীয় জীবনাদর্শের প্রবাহধারাকে জাতীয় জীবনে প্রত্য না
করা পর্যন্ত তার কবিতা বিলাপ করতে থাকে। ইকবাল বলেন,-‘মাঁয় বুলবুলে নালা হো এক উজড়ে গুলিস্তাঁ কা' শূন্য পুকাননের আমি এক বিলাপকারী বুলবুলি। কেন সেই বিলাপ? কারণ ইকবাল দেখেছেন মুসলমানদের ‘কলব মে সোজ নেহি, রূহ মে ইহসাস
নেহি।'
আত্মার মধ্যে আন্দোলিত প্রাণবান কোনো অনুভূতি নেই। দিলের মধ্যে নেই কোনো তীব্রদহন। এই প্রাণহীনদের মধ্যে
ইকবাল খোঁজে পান না সত্যিকার মুসলমানের অবয়ব। তিনি বলেন, শোর হায় হো গায়ে দুনইয়া সে মুসলমাঁ না বুদ/হাম
ইহ কাহতে হায় কে থে ভী কহী মুসলমাঁ মৌজুদ?' আওয়াজ উঠেছে ধ্বংস হয়ে গেছে মুসলমান। আমি বলি, পৃথিবীতে মুসলমান কোথায়? আত্মবিস্মৃত, পরানূকরণবাদী, নির্জীবদেরকে ইকবাল ইসলামের প্রতিনিধি ভারতে রাজি নন। তারা জীবনের কর্তব্য থেকে পলায়ন করে খোদার খেলাফতের যিম্মাকে অবজ্ঞা করেছে। ফলে খোদা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কারণ, ‘খোদা-ই জিন্দাহ, জিন্দাহ কা
খোদা হায়।'
জীবিত খোদা জীবিতদেরই খোদা। এই সব জীবমৃতের জন্য ইকবালের প্রার্থনা-ইয়া রব। দিলে মুসলিম কো ওহ জিন্দাহ তামান্না দে/জে কালব কো গরমা দে, জো রোহ কো তড়পা দে/হে রব। মুসলমানদের অন্তরে তুমি জীবন্ত উদ্দীপনা জাগিয়ে দাও। যা কালবকে উত্তপ্ত করে, উজ্জীবিত করে নির্জীব
আত্মাকে।
ইকবালের এই প্রার্থনা হলো- চৈতন্যময় আত্মার এক পরম আলোর দিকে
তন্ময় ও নিরন্তর ঊর্ধ্বারোহণের সবাক চিত্র। যেখানে কবি আত্মার
উদ্ভাসনে মুসলিম জাতিগোষ্ঠী মহামানবতার সূর্যের জ্বালানি হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাসী। সেটা নিশ্চিত করবে ইসলাম। কারণ, ইসলাম নামক ‘আকাশের উপত্যকায় সূর্যদীপ্র
কতো জ্যোতিস্রোতের বৈভব/বিচ্ছিন্ন সূর্যের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এ যেনো ঘনিষ্ট কোলাকোলি/পশ্চিম
জানি কখনো পাবে না সেই আলোকের ছটা/যন্ত্রোস্থিত ফিরিঙ্গির ধূম্রজটাজালে/সেখানে আকাশজুড়ে
অন্ধকার শুধু আচ্ছন্নতা।' অন্ধকারের এই আচ্ছন্নতা
কাটিয়ে উঠে মুসলমানদের আত্মশক্তিতে জেগে ওঠার আহবান তিনি শুনিয়েছেন-
তুমি এক তরবারি, নিজের খাপ থেকে
বাইরে এসো
বাইরে এসো, বাইরে এসো,
বাইরে এসো
সম্ভাবনাকে ঢেকে ফেলা সব পর্দা ফেলো ছিঁড়ে
চন্দ্রকে নাও, সূর্যকে ধরো,
নত্রকে পুষো
ইকবাল বিশ্বাস করতেন তার বিস্ময়কর কাব্যমহিমায় মুসলিম চৈতন্যে
গোলাপের শিখা জ্বলবে। বসন্তের ফুলের মতো তারা জেগে উঠবে। তিনি দেখতে পেয়েছিলেন চতুর্দিকে এই সম্ভাবনা। ইকবাল নিজেকে সম্বোধন করে বলেন, তোমার অগ্নিনিঃশ্বাসে
গোলাপের শিখা জ্বলছে-
হে বাগানের পাখি,
এটাই হলো তোমার গানের পুরস্কার
আরেকটি কবিতায় তিনি বলেন-
আমি বসন্তের সুরেলা নকীব
আমার মনের চারধারে প্রেমের শিখা জ্বলছে
আজ আমি একা বলে উপো করো না
পেছনে আমার ফুলের কাফেলা আসছে।
মানবিকতার নিশানবরদার হিসেবে ইসলামের অনুসারীদের সম্বোধন করে
কথা বললেও ইকবালের ল্য ছিলো সব মানুষের কল্যাণও বিশ্বজনীন শুভেচ্ছা। তার এই আদর্শবাদিতার ছিলো না কোনো সাম্প্রদায়িকতার বার্তাবাহী। মানবতার এক মহান কবিগুরু। সর্বত্রই বরেণ্য তিনি,
কী প্রাচ্যে, কী পাশ্চাত্যে। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ফেডারেল আদালতের বিচারপতি উইলিয়াম ডগলাস ইকবালের সমাধি
দর্শনের অভিজ্ঞতাকে তীর্থযাত্রা বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে- ‘ইকবাল ছিলেন সব জাতির, তার ভাবনার বিশ্বজনীন আবেদন রয়েছে। তিনি সব দেশের, সব ভাষার মানুষের শুভেচ্ছার মানসিকতাকে ল্য
করে কথা বলেছেন। তিনি মানুষের নিত্য- নৈমিত্তিক জীবনাচার থেকে
নিয়ে মানুষের স্রষ্টা মানুষের বিশ্বজগতসহ অনেক কিছুর গান গেয়েছেন। তার সুরে রয়েছে দার্শনিকতার অনবদ্য ঝংকার। নতুন পর্থে ভবিষ্যতের পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য তার ছিলো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব।
রেনল্ড এসে গেছে, সালাউদ্দীন আইয়ূবী কোথায়?
মুসা আল হাফিজ
রেনল্ডের কথা বলছি। মুসলমানদের রক্তপান
না করলে যার কলজে ঠান্ড হতোনা। রেনল্ডের উল্লেখ মানেই
ক্রসেডিয় হিংস্রতার বিবরণ। রেনল্ডের উল্লেখ মানেই
ধর্মের নামে সন্ত্রাসের বৃত্তান্ত। সে শত্র“ খৃষ্টানের, ইহুদীর, মুসলিমের। সে প্রতিপ বিশ্বশান্তির। তার তৎপরতা মানেই রাসুলে কারীমের সা: মর্যাদার বিরুদ্ধে পাশবিক ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত। রেনল্ডের নিঃশ্বাস মানেই বিষের বিষ্ফোর। রেনল্ডের পদেেপ মানেই
মানবতার দুর্দিন। সেই দুর্দিন অতীতে দেখা দিয়েছিলো। মানবতার আকাশকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল কায়েক শতাব্দী। সেই দুর্দিন ইতিহাসের ললাটে রেখেছে কলঙ্কের দাগ।
কিন্তু সেটা এখন আর নিছক ইতিহাসের ব্যাপার নয়। অতীতের কাহিনী নয়। বরং বর্তমান বিশ্বে জীবন্ত ত্রাস হয়ে আবির্ভূত
হয়েছে। রেনল্ড কবরে গেলেও শত শত রেনল্ড আজ দুনিয়া দাবড়ে বেড়াচ্ছে। স্যাম বাসিলেরা আজ রেনল্ডের প্রেতাত্মা হয়ে হুংকার ছুঁড়ছে। তারা বিশ্বশান্তির বুকে পদাঘাত করছে একের
পর এক। তারা মানবতাকে কলঙ্কিত করছে প্রাকাশ্যেই। তারা সভ্যতার গয়ে লাগিয়ে দিচ্ছে বিভ্রান্তির কালিমা। তারা দেশে দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিহিংসার তুফান। তারা ভবিষ্যতের বুকে রোপন করছে সংঘাতের বিষবৃ। তাদের তৎপরতার ফলে দুনিয়া আজ বড় বেশি অস্থির । অনেক বেশি বিপন্ন। তারা টার্গেট করেছে বিশ্বনবীর সা: পবিত্র
মর্যাদা ও মাহাত্মকে। তারা ক্রমাগত আক্রমন করছে মানবতার মহান ত্রাতার
আদর্শ ও চরিত্রের উপর। মিথ্যা ও প্রতিহিংসার অস্ত্র নিয়ে তারা ময়দানে
নেমেছে। তাদের চোখে চকচক করছে ক্রসেডিয় হিংস্রতা। তাদের চেতনায় কিল বিল করছে ইহুদীবাদী স্বর্পেরা। সেই সব স্বপ্ন একের পর এক ফনা তুলে ধেয়ে আসছে মুসলিম জাহানের দিকে।
রেনল্ড ও ধেয়ে এসেছিলো। নিয়ে এসেছিলো নৃশংসতার অন্ধকার। হিংস্র পরায়ণতার ঝড়। বিদ্বেষের প্রবল সুনামি হয়ে সে হামলে পড়েছিলো মদীনার উপর! রেনল্ডের অন্তরে রাহমাতুল্লিল
আলামীনের সা: বিরুদ্ধে শত্র“তার অগ্নিশিখা দাউ দাউ করে জ্বলতো। মহানবীর সা: নাম শুনলেই সে হয়ে উঠতো উত্তেজিত! প্রিয় নবীকে সা: সর্বদাই সে একুরসেড
ক্যামেল ড্রাইভার তথা অভিশপ্ত উষ্ট্রচালক বলে অভিহিত করতো। সে স্বপ্ন দেখতো এমন এক পৃথিবীর, যেখানে নবিজীর
সা: কোন অনুসারী থাকবেনা। ইসলামের আলো থাকবেনা। মানুষের হৃদয়ে ঈমানের ঝর্নাধারা বইবেনা। জীবনের হৃদপিন্ডে লেগে
থাকবেনা নবীপ্রেমের মধু। সে আশ করতো তার ল্য-উদ্দেশ্যকে
গ্রহণ করবে খৃষ্টান বিশ্ব। সমস্ত খৃষ্টান তার
মতো করে মুসলিমশূন্য পৃথিবীর স্বপ্ন দেখবে। এজন্যে সবাই তৎপর হবে
ষড়যন্ত্রে শরীক হবে। অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে। খৃষ্টানদের উত্তেজিত করার জন্য সে মিথ্যা প্রচার চালাতো। অনবরত সে ইসলামের বিরুদ্ধে বলে বেড়াতো। দিনরাত সে মহানবী সা:
নামে ভিত্তিহীন কুৎসা রটাতো। ইসলামের বিরুদ্ধে সে
নিজেই হয়ে উঠে জীবন্ত প্রোপাগান্ডা। তার তৎপরতার ফলে কিছু
মানুষ উত্তেজিত, হলো কিছু মানুষের অন্তরে বিদ্বেষ বাসা বাধলো। কিছু মানুষের রক্তে হিংসার তরঙ্গ বইলো। রেনল্ড তাদেরকে জড়ো
করলো এবং গঠন করলো ভয়ানক সন্ত্রাসী বাহিনী। ইতিহাস তাদেরকে হ্যাকস
নামে চেনে।
হ্যাক মানে বাজপাখি। রেনল্ড আশা করতো প্রতিটি
সদস্য বাজের তীব্রতা ও হিংস্রতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে মুসলিম বিশ্বের উপর। সে তাদেরকে শপথ করাতো ইশ্বরের নামে। তাদের থেকে অঙ্গীকার
নিতো- যেনো তারা বিশ্বনবীর সা: বিরোধিতায় চিরদিন অটল-অবিচল থাকে।
শান্তিবাদী খৃষ্টানরা তাকে পছন্দ করতোনা। তাকে ঘৃনা করতেন ত্রিপোলির রাজা রেমন্ড। তাকে মনে করতেন মানবতার
এক বিষফোঁড়া। কিছু দিন যেতে না যেতেই এ বিষফোঁড়া নিয়ন্ত্রণের
বাইরে চলে গেলো। ১১৫৭ সালে এন্টিওকের রাজার মৃত্যু হলো। রেনল্ড ধূর্ত প্রতিক্রিয়ায় বিয়ে করলো তার বিধবা স্ত্রীকে। দখল করলো সিংহাসন। শুরু করলো প্রজাকূলের উপর উৎপীড়ন। রেনল্ডের সমস্ত প্রজা খৃষ্টান। কিন্তু তাদের প্রতিও
সে সদয় হতে পারেনি। সে সন্তুষ্ট থাকতে পারেনি নিজের রাজ্য নিয়েও। পার্শ্ববর্তী রাজ্য সাইপ্রাস আক্রমনের জন্য শুরু করে ষড়যন্ত্র। তৈরী করে মিথ্যা অজুহাত। বাইজেন্টাইন সম্রাট
ম্যানুয়েল তাকে প্রাপ্য অর্থ দেননি, এ অভিযোগে সে
প্রোপাগান্ডা চালায়। যোগসাজস করে সিসিলির রাজা থোরস এর সাথে। যুদ্ধের জন্য অর্থ চায় এন্টিওকের খৃষ্টান ধর্মগুরু প্যাট্্িরয়াক এর কাছে। ধর্মগুরু অর্থ দিতে রাজী হননি। এতে সে ুদ্ধ হয়ে তাকে
বন্দি করলো। নিরীহ, নিরপরাধ প্যাট্রিয়াক এর দেহ ত-বিত করে মুধ লেপন করলো তার তস্থানে। তারপর দাঁড় করালো প্রখর রৌদ্রালোকে। দাড় করিয়ে রাখলো দিনের
পর দিন। কীট-পতঙ্গের দংশন আর প্রখর রৌদ্রের প্রকোপে অসহায় পুরোহিত হয়ে
উঠলেন উন্মাদপ্রায়। অসহ্য যন্ত্রনায় বিবর্ণ হলো তার মুখ। শরীরে নেমে এলো অবসন্নতা। ব্যথার তীব্রতায় তিনি
ছটফট করতে লাগলেন। অবশেষে নিরোপায় হয়ে রাজী হলেন যুদ্ধের অর্থ
যোগাতে।
শুরু হলো যুদ্ধ যাত্রা। সমগ্র সাইপ্রাস জুড়ে শুরু হলো ধ্বংশলীলা। ঘরবাড়ী ধুলিস্যাত হলো। নিরপরাধ মানুষ নির্বিচারে
নিহত হলো। জনপদ সমূহে আগুন জ্বালানো হলো। সহস্রাধিক খৃষ্টানকে ধরে এনে তাদের নাক কাটা হলো। সেগুলো জড়ো করলে স্তুপ তৈরী হলো। সে জন্য পাঠানো হলো
ইস্তাম্বুলে। আর অগ্নিদগ্ধ সৈন্যদের মস্তক নিয়ে আয়োজন হলো
আনন্দ উৎসবের।
তারপর সে নজর দিলো মুসলিম দুনিয়ার দিকে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ছড়াতে লাগলো সন্ত্রাসের অভিযোগ। বললো-ফিলিস্তিনে খৃষ্টান তীর্থযাত্রীরা মুসলমানদের হুমকির সম্মুখীন! তার হ্যাক
বাহিনী ছড়িয়ে পড়লো নতুন আগুন নিয়ে। শুরু হলো ভয়াবহ উত্তেজনা। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ধন-সম্মপদ লুটপাট, মুসলমান বন্দিদের নির্যাতন, হত্যা, এবং দেশে দেশে আগ্রাসন পরিচালনা শুরু হলো। ১১৫৭ সালে আগ্রাসন চালালো আলে পেপায়। সুলতান নূরুদ্দীন মাহমুদের
হাতে ভীষণ মার খেলো তার বাহিনী। তাকে গ্রেফতার করা
হলো। এবং হাজারো অপরাধ সত্তেও মহানুভব সুলতান আশা করেছিলেন দয়া দ্বারা
তাকে সংশোধিন করবেন। তার হৃদয়ের বিদ্বেষকে উদারতার দ্বারা ধুয়ে
দেবেন। তিনি তাকে করুনা মুক্ত করে দিলেন কিন্তু সে সংশোধিত হলো না। মুক্তি পেয়ে সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলো। এ্যান্টিওকের সিংহাসন
দখলের ষড়যন্ত্র আঁটলো। তা ব্যর্থ হলে জর্দান দখলের আশায় বিয়ে করলো
কাওবাক মোয়াব ও ক্রাক ডু ডেজার্ট এর উত্তরাধিকারীনী স্টিফানিকে।
সে সময় গাজী সালাহ উদ্দীনের সাথে খৃষ্টানদের শান্তিচুক্তি কার্যকর
ছিল। কেউ কাউকে আক্রমন করছিলোনা। রেনল্ড এ শান্তিকে মেনে নিতে পারেনি।
১১৮১ সালে মুসলিম তীর্থযাত্রী ও ব্যবসায়ী কাফেলায় হামলা করে
সে ঘোষনা করলো- এবার যাত্রা মদীনার দিকে। সেখান থেকে নবীজীর
সা. পবিত্র লাশ মোবারক ছিনিয়ে আনবে। ইসলামের সমস্ত নিদর্শনকে
বিনষ্ট করবে। শুরু হলো তার অগ্রাভিযান। গাজী সালাহ উদ্দীনের ভ্রাতুস্পুত্র ফারুক শাহ তাকে বাঁধা দিলেন। দিলেন প্রচন্ড মার। নিহত হলো অসংখ্য সেডার। রেনল্ড পলায়ণ করলো মোরাব এর দিকে।
১১৮২ এর শেষের দিকে আবারো সে ঘোষনা করলো-পবিত্র কা’বা ধূলিসাত করার। রওজা মোবারক থেকে নবীজীর সা: দেহ মোবারক উত্তোলন
করে অবমাননা করার। কারণ বিশ্বনবী সা: নাকি পৃথিবীতে সন্ত্রাস
ছড়িয়েছেন। মুসলমানদের সন্ত্রাস নির্মূলে বিশ্বনবীর সা: লাশ উত্তোলন জরুরী।
অতএব সে তৈরী করলো গুটানোর উপযোগী বিশেষ এক ধরনের নৌযান। সে গুলোকে উটের পীঠে বুঝাই করে মরুভূমির ১৩০ মাইল পথ অতিক্রম করে সহসা হামলে পড়লো
আকাবা উপসাগরের আইলাত বন্দরে। প্রচন্ড আক্রমনে অপ্রস্তুত
শহর দিশেহারা হলো। রেনল্ড দখল করে নিলো শহর টি। লুট করলো সমস্ত সম্পদ। আর হত্যা করলো শ্বাসবিশিষ্ট
প্রতিটি মানুষকে। এরপর তার অদ্ভূদ নৌযান নামালো উট থেকে। সেগুলো ভাসালো লুহিত সাগরের বুকে। এরপর দখল করলো মদীনায়
পন্যসরবরাহকারী বন্দর ইয়ানবুহ। দখল করলো মক্কার নিকটবর্তী
রাবিক বন্দরও । এরপর সে আর এগুতে পারেনি। গাজী সালাহ উদ্দীনের ভাই সাঈদ উদ্দীন মিশর থেকে ধ্র“তগামী এক বাহিনী নিয়ে তাকে প্রতিরোধ করলেন। পর্যুদস্ত করলেন তার গোটা সৈন্য দলকে। বিপুল সংখ্যক সদস্যকে
বন্দি করে নিয়ে গেলেন মদীনায়। ধূর্ত রেনল্ড কোন এক
ফাকে পালালো। সে ছদ্মভেসে আশ্রয় গ্রহণ করলো মোয়াব এলাকায়। রেনল্ড পালিয়েছে শুনে গাজী সালাহ উদ্দীন চিন্তায় পড়ে গেলেন। নবীজীর শানে ধৃষ্টতার শাস্তি তাকে নিজ হাতে দেবেন- মর্মে শপথ করলেন মহান আইয়ূবী। সেদিন থেকে গাজী আইয়ূবী একটি দিনে জন্যও রেনল্ডের পিছু ধাওয়া ছাড়েন নি। রেনল্ডও বসে থাকেনি একটি মুহুর্তের জন্যও।
১১৮৫ সালে রাজা পঞ্চম বল্ডউইন এর সাথে সুলতানের চার বছর ব্যাপী
শান্তিচুক্তি হয়। ১১৮৬ সালে রেনল্ড এ চুক্তি লংঘন করে। মক্কাগামী মুসলিম কাফেলায় হামলা করে। অসংখ্যজনকে হত্যা করে। বন্দি করে নিরীহ পুরুষ ও নারীদের । এক বন্দি শান্তিচুক্তির
কথা তাকে স্মরণ করিয়ে দিলে সে বললো-তোমার মুহাম্মদকে সা: তোমাদের রা করতে বল!
সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী রহ. এবার জিহাদ ঘোষনা করলেন। ১১৮৭ এর ১লা জুলাই বাহিনীসহ তিনি গ্যালিলিতে উপস্থিত হন। ৩রা জুলাই শুরু হলো ঘোরতর যুদ্ধ। যুদ্ধের আগের রাত্রি
ছিলো লাইলাতুল কদর। মুসলমানরা নবীজীর সা: প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে
যুদ্ধে নামলেন। ক্রসেডাররা পরাজিত হলো। বন্দি হলো সম্রাট গাই ও রেনল্ড। তাদেরকে হাজির করা
হলো আইয়ূবীর তাবুতে। দু’জনেই তখন তৃষ্ণার্ত, কান্ত পরিশ্রান্ত, ও বিত্রস্ত। সম্রাট গাই পানি প্রার্থনা করলেন। হারমন পর্বতশৃঙ্গ হতে
আহরিত তুষারগলা সুস্নিগ্ধ পানি তাকে পান করানো হলো। এক পাত্র পানি নিতে চাইলো রেনল্ড। হাত বাড়ালো যেইমাত্র,
সাথে সাথে গাজী সালাহ উদ্দীনের তরবারি কোষমুক্ত হলো। প্রচন্ড এক আঘাতে ভূলন্ঠিত হলো নরাধম রেনল্ডের উদ্ধত শির। ভীত সন্ত্রস্থ গাইকে সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী স্মিত হাস্যে বললেন- সে পানি পান করলে
আমাদের মেহমান হয়ে যেতো। তাকে তো পানি পানের
অনুমতি দেইনি। সে নরপিশাচ। আপনার ভয় নেই। আপনি আমাদের মেহমান।
রেনল্ড সেই থেকে নরকের জ্বালানী হয়ে গেলো। কিন্তু তার পুত্র-কন্যারা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হলোনা। রেনল্ড তাদের আদর্শ। রেনল্ডের হিংস্রতা
তাদের অনুকরণীয়। রেনল্ডের বর্বরতা তাদের ধর্মাচার। রেনল্ডের প্রতিহিংসা তাদের প্রাণশক্তি। নতুন অবয়বে তারা বারবার
রেনল্ডের কথাগুলোই দুনিয়াজুড়ে প্রচার করছে। নিজেরা বর্বরতার চূড়ান্ত
পঙ্কে অবস্থান করেও মুসলমানদের বলছে বর্বর। নিজেরা সন্ত্রাসের
চরম নজির স্থাপন করেও নির্লজ্জভাবে সন্ত্রাসী অপবাধ দিচ্ছে রাহমাতুল্লিল আলামীনের প্রতি!
বিশ্বনবীর সা: বিরুদ্ধে তাদের আক্রোশের শেষ নেই। সবচে নৃশংস মিথ্যাচার এখন ওরাই করছে ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে। মানবতার মহান ত্রাতার বিরুদ্ধে। তাদের কলমও কথা থেকে
উদগীরণ হচ্ছে রেনল্ডের সেই পুরনো আক্রোশ!
হল্যান্ডের সাংবাদিক আয়ান হারসির ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য শুনুন-‘পাশ্চাত্য মানদন্ডে নবী মুহাম্মদ সা: বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন
ও স্বেচ্ছাচারি এক লোক।’ এর পে তার প্রমান হলো রাসুল সা: মাত্র নয়
বছর বয়সের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। সে ঘোষনা দেয়- ব্রাউনের
জীবনের নির্মিত ছবির আদলে মুহাম্মদ সা: এর জীবন নিয়ে ছবি নির্মান করবে। সেখানে নবিজীর জীবনকে এমনভাবে তুলে ধরবে এবং এমন বিষয় সমূহ প্রকাশ করবে,
যা মুসলমানরা পছন্দ করবেনা। উদাহরণ স্বরূপ নিজ পুত্রের স্ত্রীর সাথে প্রেম! এটা কীভাবে সম্ভব? তিনি কয়েক দিন হেরাগুহায় থাকলেন এবং সেখান থেকে এমন যাদুকাটি
নিয়ে এলেন, যার ফলে নিজ পুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করা বৈধ
হয়ে গেল!! দেখুন, আয়ান এখানে মদীনার ইহুদীদের বক্তব্যের পূনরাবৃত্তি
করলো। নবীজী সা: কি আপন পুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন? নবীজীর কোনো পুত্র তো বিয়ের বয়সেই পৌছেননি। তিনি আল্লাহর হুকুমে বিয়ে করেছিলেন যায়েদের রা: তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে। যায়দ রা: ছিলেন নবীজীর সা: পালকপুত্র। এ বিয়ে নিয়ে কাফেররা
প্রোপাগান্ডা চালালে কুরআনে সমুচিত জবাব দেয়া হয়। মিথ্যাচার করার আগে আয়ানের ্উচিত ছিল সে
জবাব পড়ে নেয়া। কিন্তু এ মিথ্যাকে পুজি করেই সে একটি বই লিখলো। যার প্রতিবাদ মুসলামনরা খুব কমই করেছিল। ২০০৫ এর ২৩ নভেম্বর
সাবফো পত্রিকাকে দেয়া এক সাাৎকারে সে বললো- ইদানীং আমি কতক আরব সাংবাদিকের সাথে মিলিত
হই। তাদের সামনে ব্যাগ থেকে কুরআন বের করে আমি ছূড়ে মারতে থাকি। এক ধর্মনিরপে তুর্কি
মহিলা আমাকে অনুরোধ করলো- কুরআন শরীফ ব্যাগে উঠান। আমি তাকে বললাম- এটা আমার কুরআন। আমি যা ইচ্ছা,
তা করতে পারি। তবে এখন কুরআনকে পবিত্র
বলার মুখ তোমার নেই। কারণ তোমাদের নিকট কুরআনের সবকিছু পবিত্র। তোমার সামনে এুনি আমি তা কদর্য করে দিয়েচি।’
এতো গেলো সাংবাদিকের ধৃষ্টতা ও বিকৃত মানসিকতার কিছু নজির। খৃষ্টানদের ধর্মীয় নেতারা এদের থেকে পিছিয়ে নয় মোটেও। ক্রসেডিয় দৈত্য তাদের মাথার উপর চেপেছে বেশ প্রবলভাবে। এই তো দশ বছর আগের কথা। আমেরিকায় প্রটেস্টান্ট
খৃষ্টানরা সম্মিীতভাবে নবিজীর সা: কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয়। অন্যতম পাদ্রী জেরি ফ্যালওয়েল লিখেন একটি বই। ‘হারমাজদুন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি এখনই জরুরী।’ ধর্মীয় সেই মহাযুদ্ধের প্রস্তুতির আহ্বান সম্বলিত এই বইয়ের শুরুতেই হুজুর সা: এর
চরিত্র বিকৃতভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রোশ জাহির করে। এ বইটির জন্য ২০০২ সালে বুশ প্রশাসন প্যাট রবার্টসনের সাথে পুরস্কৃত করে ফ্যালওয়েলকেও। সে লিখেছে- আমার গবেষনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, যিশুখৃষ্ট ভালোবাসার প্রচার করেছেন। একই কাজ মোসেজ করেছেন। কিন্তু মুহাম্মদ সা: করেছেন ঠিক বিপরীত কাজটি।’ ২০০২ এর ৬অক্টোবর এক টি.ভি প্রোগ্রামে সে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস মুহাম্মদ সা: একজন
সন্ত্রাসী।
আমি মুসলমান-অমুসলমানদের লিখিত অনেক কিছুই পড়েছি। যার দ্বারা প্রতীয়মান হয় মুহাম্মদ সা: সহিংসতা প্রিয় লোক।’
দেখুন, ফ্যালওয়েল হারমাজদুর
যুদ্ধ সংগঠিত করতে চায়। এজন্য সে বই লিখেছে। এ ব্যাপারে তার উৎসাহ ও প্রচারনার শেষ নেই। এ যুদ্ধে তাওরাতের বক্তব্য অনুযায়ী পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ মানুষ নিহত হবে। এবং খৃষ্টানদের হাজার বছর ব্যাপী রাজত্ব তৈরী হবে। ফ্যালওয়েল হরিমাজদুর প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বলছে এর মানে পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ মানুষকে
হত্যা করার জন্য তৈরী হতে বলছে। এ তো ভয়াবহ এক সন্ত্রাসের
প্রচারনা! এ তো সর্বনাশা এক প্রলয়ের প্রস্তুতি! ফ্যালওয়েলের এ আহ্বান মানবতার জন্য
ভয়াবহ আতঙ্কের বিষয়। মানবতার ভবিষ্যতকে নিরাপদ করতে চাইলে ফ্যালওয়েরদেরকে
প্রতিরোধ করা দরকার। কিন্তু কী আশ্চর্য! এই সব লোকই ‘শান্তির দূত’ হয়ে পদক পাচ্ছে আর সন্ত্রাসের অপবাধ আরোপ
করছে নবীয়ে পাকের সা: বিরুদ্ধে। পৃথিবীর জন্য এর চেয়ে
বড় অভিশাপ আর কি হতে পারে?
কিন্তু জীবন্ত এই অভিশাপ শুধু ফ্যালওয়েল নয়। পাদ্রী প্যাট রবার্টসন তো ফ্যালওয়েলের চেয়েও ভয়ঙ্কর। আমেরিকায় তার অকল্পনীয় প্রভাব। বুশকে মতায় আনার পেছনে
তার ভূমিকা ছিল সবচে বেশি। ফক্স নিউজের ওয়েব সাইটে
দুনিয়াবাসী দেখেছেন ‘হ্যানিটি কলামস’ অনুষ্ঠানে রবার্টসনের ুব্ধ চেহারা। সে বলছে- ‘এ ব্যক্তি (মুহাম্মদ সা:) যুদ্ধবায ও রক্তপিপাসু ছিল।’ প্রচন্ড উত্তেজনা সহকারে সে বলে চলছে- ‘সন্ত্রাসবাদ তার নেশায় পরিনত হয়েছিলো। শুধু কয়েকজন কট্টরপন্থীর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং তুমি একটি কুরআন ক্রয় করে পড়ে দেখ, কুরআন তোমাকে মারদাঙ্গা ও অসহিষ্ণুতার শিা দেবে।’
মুসলমানদের প থেকে চ্যালেঞ্জ করা হলে সে তার বক্তব্য প্রত্যাহার
করতে বাধ্য হয়েছিলো। কিন্তু তারপরও সে থামেনি। লিখলো-‘দি নেম’ নামে একটি বই। এর ৭১ পৃষ্টায় সে লিখেছে- একজন যুদ্ধবায ব্যক্তি
ইসলামের ভিত্তি রেখেছে। যার নাম মুহাম্মদ সা:। তার শিার ভেতর ইসলাম প্রচারের বিভিন্ন কৌশল বিদ্যমান রয়েছে। যেমন প্রয়োজনে সামরিক অভিযান পরিচালনা কিংবা সহিংসতা।’ রাসুল সা: সম্পর্কে সে লিখে- সে তার অনুসারীদের ঘাতক হতে উদ্বুদ্ধ করতো। সে চরমপন্থার সর্বশেষ উদাহরণ ছিল। সে লোলুপ ডাকাত। তার দাওয়াতে আছে ধোকা ও প্রতারণা। কুরআনের ৮০ ভাগ নকর
করা হয়েছে ইহুদী নাসারাদের গ্রন্থ থেকে।......
জেরি ফায়েঞ্জের কথা চিন্তা করুন। সে ছিলো প্রেসিডেন্ট বুশের ধর্মগুরু। সে বিশ্বনবী সা: সম্পর্কে
বলেছে- তিনি ছিলেন অরুচির মানুষ বাচ্চাদের প্রতি আসক্ত। বারোজন নারী বিয়ে করেছেন। সর্বশেষ ছোট এক নারী
বিয়ে করেছেন, যার বয়স মাত্র নয়.....
খৃষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টের কথাই বা বলছিনা কেন?
তিনি কী প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে সভ্যতার সীমা অতিক্রম করেন নি?
তিনি কয়েকশো বছর আগের এক রাজার উদ্বৃতি দিয়ে বলেছেন- মুহাম্মদ
সা: পৃথিবীতে সন্ত্রাস ছাড়া আর কী এনেছেন?....
অথচ পৃথিবীর ইতিহাসে যত সন্ত্রাস ও সহিংসতা, তার নব্বই শতাংশ ইহুদী-খৃষ্টানদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কোটি কোটি মানুষ তাদের হাতে নিহত হয়েছে। শত শত বছর ব্যাপী যুদ্ধের দাস্তান তারাই তৈরী করেছে। ডাইনী ঘোষনা করে জীবন্ত পুড়িয়ে মানুষ হত্যা তাদেরই কীর্ত্তি! ধর্মের নামে ইশ্বরের
দোহাই দিয়ে সারা পৃথিবীকে লুটপাট ও দস্যুবৃত্তির কলঙ্ক তাদেরই মাথায়। আগুনে দগ্ধ করে বৈজ্ঞানিক হত্যা তাদেরই অবদান। ধর্মের নামে ইউরোপে সংখ্যালঘুদের নির্বিচারে হত্যা তাদেরই ইতিহাস। তারাই পুরো রেড ইন্ডিয়ান জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। তারাই অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের সন্তানদের হত্যা করে নিজেদের কুকুরের খাদ্য পরিবেশন
করতো। পৃথিবীর প্রতিটি দেশকে জোরপূর্বক গ্রাস করেছিলো তারাই। উপনিবেশিক আমলে মানবতার বিরুদ্ধে এমন কোনো অপরাধ নেই, যা তারা করেনি। বিপরীতে ইসলাম পৃথিবীতে শান্তি ও নিরাপত্তা
উপহার দিয়েছে। সভ্যতার জন্ম দিয়েছে। ইউরোপকে শিখিয়েছে কীভাবে কাপড় পরতে হয়। কীভাবে সভ্য জীবন যাপন
করতে হয়। কীভাবে মানুষের সেবা করতে হয়। হুজুর সা: এর গোটা জীবনের সমস্ত যুদ্ধেও পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়নি। অথচ একদিনেই ল ল মানুষকে পশ্চিমারা হত্যা করেছে হিরোসীমা-নাগাসাকিতে! তারপরও কোন
মুখে তারা সন্ত্রাসের অপবাধ দেয় ইসলামের নবীর সা: উপর! পশ্চিমাদের কোনো নৈতিকতা নেই। হাট-বাজারে অবাধ যৌনতা ও কুকুর-শুকরের মতো যত্র-তত্র কামপ্রবৃত্তি চারিতার্থ করা
তাদেরই কলঙ্কজনক অধ্যায়। তাদের যৌনতা নারী-পুরুষের
সীমা মাড়িয়ে পুরুষে পুরুষে সমকামিতায় গড়িয়েছে। সেখানেও গিয়ে ান্ত হচ্ছেনা। তারা অবাধে লিপ্ত হচ্ছে
কুকুরের সাথে, শুকরের সাথে, গাধার সাথে, গরু কিংবা ঘোড়ার সাথে... সেগুলো আবার ইন্টারনেটে
প্রচার করে দুনিয়াবাসীকে নির্লজ্জভাবে জানিয়ে দিচ্ছে। তাদের অধিকাংশ সন্তান-সন্ততি পিতাকে চেনেনা। পিতৃপরিচয়হীন হয়ে উঠেছে তাদের গোটা সভ্যতা। জারজ সন্তানে ভরে গেছে পশ্চিমাদের ঘর-দোর। তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যৌনতার একেক আখড়া। অধিকাংশ পাদ্রী ধর্মকে পুঁজি করে যৌনবানিজ্যের দুকান খুলে বসেছে। প্রত্যেকেরই যৌনদাসীর সংখ্যা কোনো জায়গায় গিয়ে থামছেনা, বেড়েই চলছে। এরকম এক উলঙ্গ, নির্লজ্জ, চরিত্রহীন সভ্যতার সবচে উগ্র ও মিথ্যাচারি
কিছু মুখপাত্র যখন নবীয়ে পাক সা: এর পবিত্র চরিত্রে কলঙ্ক আরোপ করতে চায়, তখন অবাক হইনা। কারণ যে মা মেরিকে
তারা খোদার সাথে শরীক করেছে, তাকেই তারা অসামাজিক
কাজে কলঙ্কিত নারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তালমুদ গ্রন্থে আছে-
ঈসা হচ্ছে অবৈধ সন্তান। তার মা এক ঋতু পরিমান সময় সৈনিক বান্দিরার
সঙ্গ গ্রহণ করে গর্ভবতি হয়েছে।’ তালমুদে আছে-‘ঈসা মসীহ ছিলো যাদুকর ও মূুর্তিপূজক।’
‘খৃষ্টান ‘ইয়ামু’ জাহান্নামের গভীর প্রকোষ্টে বিদ্যমান।’ খুলুন দ্বিতীয় সামুঈল গ্রন্থ। তাতে পূর্ণ একটি অধ্যায়
জুড়ে দাউদ আ: এর কুৎসা। অধ্যায়টির নাম তরা দিয়েছে- ‘দাউদের ধোকা ও বিচ্যুতি।’ তারা লিখেছে দাউদ আ: সৈনিক উরিয়্যাকে মারার উদ্দেশ্যে যুদ্ধে পাঠান। যাতে তার স্ত্রী তিনি দখল করতে পারেন। উরিয়্যার স্ত্রীর সাথে
দাউদ আ: আগেও যৌনকর্ম করেছে। যার ফলে দাউদের দ্বারা
সে গর্ভবতি ও হয়েছে।’ তাদের কথিত মজলুম উরিয়্যার ব্যাপারে তারা
লিখেছে- সে খুব কম বয়েসের এক মেয়েকে স্ত্রী বানায়। ছোট বাচ্চার মতো সে উরিয়্যার কূলে ঘুমাতো। এতদসত্তেও উরিয়্যার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ নেই। তাহলে কেন অভিযোগ হযরত আয়েশার রা: বিয়েকে নিয়ে? এ যে বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার কারণেই হচ্ছে, তা শিশুরাও বুঝে।
হুজুর সা: নয়জন স্ত্রী গ্রহণ করেছেন এজন্য তারা রাসুল সা: এর
কুৎসা রটায়। এর বিপরীতে দাউদ আ: এর উপর জঘন্য অপবাদ সত্তেও
তাদের গ্রন্থে খুবই সম্মান সহকারে দাউদের আ: উল্লেখ রয়েছে। অধিকন্তু তারা সুলাইমান আ: এর ব্যাপারে বলেছে তার সাত শত স্ত্রী ছিল। তিনশত ছিল রতিা। সে নারীরাই নবী সুলাইমানকে আ: আল্লাহ বিমুখ
করে দিয়েছিল। তারা লিখেছে- নবী লূত আ: মদপান করে নিজের
দুই কুমারী মেয়েকে ধর্ষণ করেছেন।
আশ্চর্য! এটাই যাদের ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রকৃতি, তারা কীভাবে আল্লাহ কর্তৃক হালালকৃত আমাদের নবীর সা: স্ত্রীদের
ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখায়! যে বিয়ের যুক্তিসংগত কারণও সবার নিকট স্পষ্ট। হাজারো প্রমান আছে, যা দ্বারা আমরা বলতে
পারি রাসুল সা: যৌন আকাঙ্খার তাড়নায় একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করেননি।
কিন্তু যুক্তি ও প্রমানে তাদের কী যায় আসে? তারা তো সেই জনগোষ্ঠি, যাদের সম্পর্কে তালমুদে আছে- খৃষ্টান হলো সে ব্যক্তি যে মিথ্যার ফুলঝুরি তৈরী করে।’ আর ইহুদীরা? তারা তো নবীদের আদি
দুশমন। নবীদের সা: বিরুদ্ধে সমস্ত মিথ্যা রটনায় রয়েছে তাদের হাত। তারা হত্যা করেছে হাজার হাজার পয়গাম্বরদের সা:। সেই অভিশপ্ত ইহুদী ও মিথ্যার অনুসারী এক শ্রেণীর খৃষ্টান বিশ্বনবী মুহাম্মদ সা:
এর বিরুদ্ধে উটে-পড়ে লাগবে, এটাই তো স্বাভাবিক
তারা মিথ্যা ও উস্কানীর বাজার গরম করবে,
এতে বিস্মীত হবার কিছু নেই। এরা ডেনমার্কের জিল্যান পোষ্টে নবীজীর সা: ব্যঙ্গচিত্র আঁকছে, এরা এগারোটি মুরগীর কার্টুন একে মধ্যখানে হুজুর সা: কে রেখে
ব্যঙ্গ করছে, এরা হিরসা এ্যালীর মতো ব্যক্তিকে দিয়ে মুসলিম
শূণ্য ইউরোপের শ্লোগান তুলছে, এরা বুশ-ওবামার আকৃতিতে
মুসলিম নিধনের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। এরা আমেরিকান পাদ্রীর
নামে ঘোষণা দিচ্ছে বার্ণ এ্যাড কুরআন তথা কুরআন পুড়াবার দিবস উদযাপনের। এরা গ্রন্থ লিখছে। নাম দিচ্ছে’ দি ওয়ার্ল্ড উইদাউট ইসলাম,’ তথা এমন এক পৃথিবী,
যেখানে ইসলাম থাকবেনা। এরা স্যাম বাসিলের আকৃতি নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে, তৈরী করছে ধৃষ্টতাপূর্ণ মুভি-ইনোসেন্স অব মুসলিম।
এরাই আজকের পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চারদিকে। সত্যকে ঢেকে দিচ্ছে মিথ্যার আলকাতরা দিয়ে। এরা মানুষের মুখোশ পরে ঢেকে রাখতে চায় হায়েনা চরিত্র। কেউ নেই তাদের মুখোশ খুলে দেবার। কেউ নেই তাদের দৌরাত্মকে
চ্যালেঞ্জ জানাবার। কেউ নেই তাদের হুক্কাহুয়ার বিরুদ্ধে হুংকার
ছোঁড়ার। আমাদের দুনিয়ায় শহীদ হবার অসংখ্য লোক আছেন। তারা সবাই নবী প্রেমিক। কিন্তু এখন বড় বেশি
প্রয়োজন এমন নবী প্রেমিকের, যিনি সালাহুদ্দীন আইয়ূবীর
মতো গুঁড়িয়ে দেবেন অভিশপ্ত রেনল্ডের দম্ভ। রেনল্ডের আওলাদরা দুনিয়া
দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আইয়ূবীর সন্তানেরা আজ কোথায়? যারা এগিয়ে এলে মুসলমানরা শুধু অনুতাপ আর বিােভ প্রদর্শন করেই
ান্ত হবেনা বরং কার্যকর মোকাবেলা করবে। সেই মোকাবেলা হবে যথাযত
ও যথোচিত পন্থায়। সেই মোকাবেলার মেনিফোস্টো কী হবে,
তা উল্লেখ করা একান্ত প্রয়োজন। নতুন যুগের আইয়ূবীরা কীভাবে অগ্রসর হবেন- তা সবিস্তারে উল্লেখ করার প্রয়োজন পূরনে
পাঠককে দাওয়াত দিয়ে রাখলাম এ লেখার পরবর্তি কিস্তিতে।
সাম্রাজ্যবাদী মিডিয়া মানুষের চোখে ধুুলো দিচ্ছে। তারা প্রচার করছে কুরআনে নাকি সন্ত্রাসের ইন্ধন রয়েছে। কথাটা বললেও প্রমাণ উপস্থাপনের সাধ্য তাদের
নেই। কুরআনে সন্ত্রাসের ইন্ধন নেই, কিন্তু তারা কুরআনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। আর ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থে সন্ত্রাসের উপাদান থাকলেও সেটা চেপে রাখা হচ্ছে। ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ পড়–ন। পড়–ন ওল্ড টেস্টামেন্টের ডিউটারনমির বর্ণনা....