আফজাল চৌধুরীর ‘হে পৃথিবী নিরাময় হও’


মুসা আল হাফিজ

কে যেনো শূণ্যলোকে ডাক দিলো তাকেÑ ‘কাছে আয়! কাছে আয় নারে ডাক আসছে কোন এক গভীর আলোক থেকেতখন রাত্রির শেষ যাম কে সে ? না, কবি তাকে জানেন না কিংবা কোনো দিনই দেখেন নিকিন্তু সে বড়ো রহস্যময়তার ডাকের আওয়াজ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে গাছের শাখে ঘুমের ঘোরে পাখিরাও ডাকলো, আঙিনায় পায়রারা বকতে শুরু করলো, দূর পল্লীর গৃহস্থ মোরগদল দীর্ঘপ্রণবনাদে অরুণোদয়ের পূর্বাভাস গাইতে লাগলোএ পরিস্থিতি কি নতুন নির্মাণের শিহরণ জাগাবে কবিচিত্তে ? যে কবির রক্তের ভিতর কোন এক ব্রতচারি আলো আলো আরো আলো বলে প্রগাঢ় ইমান ব্যক্ত করে যায়! হ্যাঁ, কবি  সচকিত হলেন
তিনি নিদ্রা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলেনদেখলেন আলোর অভিঘাতে কাঁপছে যেনো রাত্রিশেষআলো আফজাল চৌধুরীর মর্মালোকে বিধাতার বীণা হয়ে বেজে উঠেছিলোফলে দীপ্তিমান কোলাহলে সমতল আত্মার সংগীত তিনি ছড়িয়েছেন কালের কপথেবোধের অতীত অন্য এক বোধ নিয়ে রাশি রাশি পুলকের স্পন্দমান উপমা দাঁড় করিয়েছেনচারদিকের অস্বচ্ছ শূণ্যতাকে কাঁিপয়ে তুলে তিনি উচ্চারণ করেছেনÑ ‘বলিও আমার প্রেম ইশ্বরের ভস্ম নয় ভূমা
ষাটের দশকের অগ্রগণ্য কবি আফজাল চৌধুরীর কল্যাণব্রত কাব্যগ্রন্থে সেই সংগীত, সেই উপমা আর সেই উচ্চারণ দীপ্ত হয়ে উঠেছিলো ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয় গ্রন্থটিবিধাতা ও মানুষের এক মিশ্র ঐকতানে কথকতা ও কারুকর্মের যুগলবন্ধিতে গ্রন্থটি হয়ে উঠে হৃদয়বৃত্তির ধনাগারনাশকতাময় বাচনভঙ্গিতে কাসিকাল স্বাস্থ্য নিয়ে গভীরতর নৈশব্দের তর্জনী উঁচিয়ে এ গ্রন্থটি চিনিয়ে দেয় এমন এক আফজাল চৌধুরীকে, যার কণ্ঠস্বর আলাদা ও স্বকীয়, স্বাদে ও চরিত্রে অভিনবতার শব্দশরীর অন্যদের কবিতার শব্দশরীর থেকে আলাদাতার আঙ্গিক আলাদা, জীবনানুভূতিও আলাদাবিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ভাষায় Ñ ‘তার কবিতা পড়তে বসে টের পাই এক সজীব বিশ্বসময়তা ছুয়েঁ আছে তার কবিতার হাতএক রোমাঞ্চিত অসীমের চঞ্চল উন্মুখ শিহরণ উত্তাল হাওয়ার মতো দোল দিয়ে যাচ্ছে তার কবিতার বিস্রস্ত পাতায় পাতায়। ( ত্রৈমাসিক কণ্ঠস্বর, কবিতা সংখ্যা ১৯৭০১)
কল্যাণব্রতের পর দীর্ঘ নীরবতাএক দশক পরে ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয় তার ব্যাতিক্রমী কাব্যকৃতিÑ হে পৃথিবী নিরাময় হওগ্রন্থটি প্রকাশ করেন বাংলা সংলাপ সাহিত্য ফ্রন্ট সিলেট এর পে মুহাম্মদ আসাদ্দর আলী ও আবদুস শহীদ খানউৎসর্গ করা হয় Ñ দ্রোহী কিন্তু প্রেমিক এই জেনারেশনকে১২০ পৃষ্ঠার এই কাব্যনাট্য আঙ্গিক, উপকরণ ও বাচনশৈলীর সিদ্ধি সহকারে বাংলা কাব্যনাট্যের ঐতিহ্যে অভূতপূর্ব এক বাঁক নির্মাণ করেবাংলা কাব্যনাট্যের ঐতিহ্যের সূত্রপাত হয় মধুসুদনের মেঘনাদবধ কাব্যের নাট্যরূপ সৃষ্টির মধ্য দিয়েএতে মুক্তবন্ধ কাব্যরীতি প্রয়োগের স্বার্থকতা পরিলতি হয়সে হিসেবে বাংলা কাব্যনাট্যের বয়স তেমন বেশি নয়যদিও বিশ্বসাহিত্যে ইস্কাইলাসের এগামেমনন, সফোকসের থ্রি থ্যাবান প্লেইজ, কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম, সেক্সপীয়রের হেমলেট ও গ্যেটের ফাউস্ট কাব্যনাট্য হিসেবে বরেণ্যবাংলা ভাষায় সেই ধারায়, ধ্রপদী আঙ্গিকে কাব্যনাটক লিখেন রাজকৃষ্ণ রায়তার হরধনুর্ভঙ্গ এবং গীরিশচন্দ্র ঘোষের রাবন বধ নতুন যুগের প্রবর্তন করেএরপরে দীনবন্ধু মিত্রের লীলাবতী, গিরিশচন্দ্রের  চন্ড রবীন্দ্রনাথের বিসর্জন, চিত্রাঙ্গদা, সতী ও মালিনী দ্বিজেন্দ্রলালের ভীষণ ীরোদপ্রসাদের নবনারায়ন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবোধ চন্দ্রোদয় ও চন্ডকৌশিক সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের আয়ুস্মতী ফররুখ আহমদের নৌফেল ও হাতেম হয়ে যে স্রোতোধারা পরিপুষ্ট হয়, তা সৈয়দ শামসুল হক, আফজাল চৌধুরীতে এসে নবতর সিদ্ধি অর্জন করে
বাংলা কাব্যনাট্যের পটভূমিতে আফজাল চৌধুরীর  হে পৃথিবী নিরাময় হও রূপে ও আত্মায় স্বতন্ত্র বীভা ধারণ করেছেআধুনিক বাংলা কবিতা যেখানে এসে বৃত্তবদ্ধ হয়েছে, সেখানে এই কাব্যনাটক নতুন ডাইমেনশনে প্রবাহিত হয়েছেনাটকের ভূমিকায় ঘোষিত হয়েছেÑ ‘জীবন আবিস্কৃত হয়েছে এখানে অস্তিত্বের এমন ডাইমেনশনে, যা শাশ্বত কিন্তু উপেতি এই কালে পুরো নাটকেই এই ঘোষণার বিশ্বস্ত প্রতিফলন জীবন্ত হয়ে উঠেছেবলিষ্টভাবে আত্মার শক্তি ও শুদ্ধির উচ্চারণের মধ্য দিয়ে গতিশীল অস্তিত্ববাদের দীপিত দলিল যেন রচিত হয়েছে বইটিতেগ্রন্থ সম্পর্কে এর প্রকাশক অধ্যাপক আসাদ্দর আলী লিখেছেনÑ ‘‘পশ্চিমের বিবিধ য়িঞ্চু ভাবান্দোলনের সামনে আজ কোনো পরমাত্মীয় দ্বীপ নেই খ্রীস্টীয় বৈরাগ্যবাদ অথবা সেক্যুলার অস্তিত্ববাদ ব্যক্তিকে পুঁজি ও প্রাচুর্যময় সেই বৈরী বিশ্বে স্বাভাবিক অভিব্যক্তি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বরং মারণাস্ত্রের সহিংস উদ্ভাবন ছাড়া অন্যকে দেবার মত কোনো প্রীতি উপহার তার নেইঅথচ মুক্তবিশ্বের নামে তৃতীয় বিশ্বের রণশীল সমাজ এখনো পশ্চিমের মোহে দুল্যমান, কিন্তু যারা এই থেকে মুক্তি ঘোষণা করেছেন তারাও হয় উত্তরের নয়তো ঈশানের তন্ত্রমন্ত্রের প্রহেলিকায় জীবন বাজী রেখে বসেছেনঅনুন্নত এই বিশ্ব দারিদ্র ও হীনমন্যতার পাঁকেই নিমজ্জিতএখন আপন আত্মার ঐশ্বর্য ছাড়া কে এই ব্যক্তি ও বিশ্বকে বাঁচাবে? নির্দয় এই যুগান্তর দাজ্জাল এর রূপ ধরে বিশ্বের তিন নম্বর মানুষটিকেও প্রথম ও দ্বিতীয়ের মতই গ্রাস করতে চাইছেযদি তাই হয়, তবে পৃথিবীর ধ্বংস ঠেকায় কে? তবে কি দুনিয়া সত্যই মিসমার হয়ে যাবে? নাভিশ্বাস ওঠা শেষ মানুষটিও বাঁচবে না? ব্যক্তি ও বিশ্বের এই দুর্যোগের রণত্রে হতেই উদ্ভূত এই নাটকের মূল্যমানÑ যখন, ঝড়ের রাত্রির অন্ধকারে একজন পূণ্যাত্মার স্বর আকাশকে পরিষ্কার করে বলছেঃ পৃথিবী হে নিরাময় হও, হে পৃথিবী নিরাময় হও! দাজ্জাল ও পূণ্যাত্মার এই কুরুেেত্র একজুটি তরুণ তরুণীর জীবনে ঘটছে বিবর্তনÑ এই বিবর্তনই এখন প্রকৃতির ইঙ্গিতে তৃতীয় বিশ্বের সূর্যোদয়
ভূমিকায় আফজাল চৌধুরী লিখেছেনÑ ‘ইতিমধ্যে গোলক রাজনীতির শিবিরাশ্রয় প্রবর্তিত হচ্ছে সর্বত্র এবং গণহত্যা ও গণকবরের এই দেশে শ্রেণী হিংসা ও অতিনান্দনিকতার দুই বিপরীত উন্মার্গগামীতায় সহজ সমজদারিত্বের রাজবর্ত্ম প্রায় অবরুদ্ধকিন্তু  এই দুই বিপরীতের মধ্যবিন্দুতেই চিরন্তরন মানবিকতার সপে অনেকের মত আমিও এক নান্দনিক অভিসার লালন করে আসছিলাম শুভ ও অশুভের উদ্দাম চিরকালীন দ্বন্ধে সেই অভিসার কাব্যকুশলতায় শিল্পের মর্যাদা অর্জন করেঅনবরত রহস্যভেদের দুর্বার আকাঙ্খা, অনবরত কল্পনার উদ্দাম বিহার ও ভাবের নিগূঢ় তরঙ্গ এবং অনবরত দ্বন্ধের মধ্য দিয়ে প্রাকৃত বস্তু ও অতিপ্রাকৃত বস্তু আপন পরিচয়ে উন্মোচিত হয়একদিকে পূণ্যাত্মা আরেক দিকে দাজ্জাল, এক দিকে উম্মার্গ বিকার আরেক দিকে চিকিৎসা ও শুশ্রষাএক দিকে মহাপরাক্রান্ত অশুভ আরেক দিকে সৃষ্টিধর শিল্পীপ্রতিভা আখতারকাব্যনাটকের প্রধান চরিত্র আখতারযুগযন্ত্রণায় বিধ্বস্ত , জীবনজিজ্ঞাসায় বিব্রত, আত্মার পিপাসায় কাতর মানবচিত্তের এক নিখুঁত প্রতিবিম্ব আখতার  সে অশুভের প্রজা হতে রাজী নয়মিথ্যার বৈজয়ন্তী কাধেঁ নিতে রাজী নয়চিত্তবৈকল্যকে  মেনে নিয়ে আপাত সুখের ললিত আশীর্বাদকেও গ্রহণ করতে রাজী নয়সে গড্ডালিকা প্রবাহ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে স্রোতের বিরুদ্ধে বিকল্প স্রোত হয়ে দাঁিড়য়েছেএবং মানুষকে, মানুষের জীবনকে, মানুষের পৃথিবীকে নিরাময়ের দিকে টানছেপরমপথে ডেকে চলছেআখতার মুক্তিকামীসে মুক্তি চায় মোহ ও বস্তুর কারাগার থেকেঅভিজ্ঞান মানবযাত্রীদের দার্শনিক সম্পত্তিকে পরিক্রম ও পর্যটন করে এগুতে থাকেÑ
ওই দেখুন অনেক প্রতিকৃতি ও ছবি চার দেয়ালে ঝুলানো
..........              .............
ওই চার্বাক মুনি লাত্তৎসে হোমার ও স্কাইলাম
কার্লমার্কস, লেলিন পরপর সারিতে
কালিদাস, রবীন্দ্রনাথ ও বোদলেয়ারের ছবি ঝুলছে
ক্যানভাসে অসমাপ্ত একটি লেম্প পোট্রেট
পড়ে আছে তার
যার চেহারার সাথে মিল পাওয়া যায় একমাত্র
হতভাগ্য শিল্পী ভ্যানগগের
ছবিগুলো আখতারের আঁকানিজেদের তৈরী মিউজিয়ামের দেয়ালে শিল্পী আখতার ছবিগুলো এঁেকছিলেনতখন তার সঙ্গী ছিলো বেহালা, বিথোফেন ও মোজার্টকিন্তু হঠাৎ সব ফেলে দিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে ছুটে গেলো শিল্পী আখতারফলে শিল্প ও ভাস্কর্যপূর্ণ মিউজিয়াম শোকস্তব্ধ, সুসজ্জিত সেলফে থরে থরে সজ্জিত দুর্লভ গ্রন্থ ও পান্ডুলিপি মৌন হয়ে আছে গভীর অভিমানেএবং পরিবারের সকল সদস্যের  চোখে বিধুর সন্ধ্যা ঘণিয়ে আসছে অন্ধকার স্তব্ধতার সাথে এই বিচ্ছেদের ভার নিয়ে যাচ্ছে দূরান্তরে, ‘বারান্দার মাঝখানে স্পন্দ:হীন মিঠে পেপে গাছটির মতো দাঁড়িয়ে আছেন আখতারের মাতার বাবা ছেচল্লিশে কলকাতায় দাঙ্গায় শহীদ হনদাঙ্গা তাদেরকে ছিন্নমূল করে কলকাতা থেকে হিজরত করতে বাধ্য করেএখন এই সিলেটের উত্তরাঞ্চলে পার্বত্য এলাকায় নীড় গড়ার পর আখতারের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া পরিবারটিকে আরেকবার বিপর্যস্ত করলোআখতারকে খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে জানা গেলোÑ 

উদভ্রান্ত কূটযন্ত্রণায় সে নাকি ছুটে বেড়াচ্ছে
পাহাড়ে জঙ্গলে নানা স্থানে
পীর- ফকিরের মাজারে ও আস্তানায়

হ্যাঁ, আখতারের অবস্থান এখন মাজারেআপন পিতামহ হযরত জাফর চিশতি নিজামীর মাজারঅবস্থান যেখানে, তা উঁচু-নিচু পাহাড়-টিলায় পূর্ণসেখানে পরিবেশ বর্ণাঢ্য আর কি এক আশ্চর্য আনন্দবিস্তারÑ

উপত্যকা-অধিত্যকাব্যাপী শান্তনিসর্গ প্রলেপে
ঘনমেঘলুপ্ত এই আকাশের নিচে থরেথরে
একেকটি পর্বতশ্রেণী হিমালয় পানে উঠে গেছেÑ
পাহাড়ের চূড়াগুলো একটিও উলঙ্গ নয়, আর
নিবিড় সবুজ ঘন গাছে-গাছে আদিগন্ত ঢাকা

সিলেটের সবুজ পাহাড় ও প্রকৃতি চিত্রণে আফজাল চৌধুরীর কৃতীত্ব লীলাময় সৌন্দর্যের মতোইসেই সৌন্দর্যের মাঝে প্রশান্ত নিকেতনের মতো বসে আছে মাজারকুসংস্কার আর ভন্ডামীর মহড়া চলে বহু মাজারেসেখানেও এর ব্যতিক্রম নয়আখতার এর সাথে শুরু করেন সংঘাতমাজারে সেজদা করা নিষেধÑ বিজ্ঞপ্তি লটকিয়ে শুদ্ধতার পাহারা শুরু করলেনকবরকারবারীরা তার প্রতিরোধে বিব্রতআখতারের চোখে ওরা বর্বর কাঙাল নেড়া, গ্রাম্যভেড়া অভিশপ্ত লাশÑ ‘ভন্ডপীরÑ ‘নেকড়ে খাদেম দল যারা চালিয়ে যাচ্ছে কবরপূজা হরদমতারা আখতারকে অভিহিত করে আজব পাগলাকাটমোল্লাপাক্কা ওহাবীর পাগলা নাতিআখতার তাদের এক চেলাকে সেজদারত অবস্থায় কান টেনে ধরে বলছেনÑ ‘ওঠো দিকি সোনা চাঁদ/বারে ভক্ত হনুমানজীউ!/ নাচোতো হে কল্পতরু, নাচো, নাচো, নাচো,/নাচোরে বাদর নাচো, ভক্ত নাচো, নাচোরে বাঙাল!দিনে চলে শুদ্ধতার সংঘাত আর রাতে কৃষ্ণপরে দ্বিতীয়ার জ্যোৎস্নায় স্পষ্ট আলোকিত নিভৃতকুঞ্জে আখতার আবিষ্কার করেন Ñ

এই তো নিভৃত লোকে আমার ধ্যানের মসজিদে
হীরের কুচির মতো ছড়িয়ে রয়েছে চাঁদনী রাত
তুমুল ফেনার রাজ্যে পাহাড়ের রূপালী দেয়ালে
অসীম দুধেল ঝরণা পড়েছে অতল ঝাঁপ দিয়ে
শত শত ফুট নীচে অলৌকিক গুঞ্জন সমেত
অশ্লীল পৃথিবী থেকে বহুদূরে এসে গেছি বেশ,
এখানে কখনো আমি মৃত্যু ছাড়া কিছুই ভাবিনা
মৃত্যুর মোহন নৃত্য বারবার চোখ বুজে দেখি,
পরলোক ছায়া ফেলে এই কুঞ্জে দাঁড়াই যখনি,
প্রেতের বচন বেশ ফিসফিসিয়ে ওঠে চারপাশে,
এখানের সবকিছুতে ওপারের আয়োজন পাতাÑ
গাছ-বৃ-পাথরেও তুহিন সংলাপ অনন্তের!

আখতার যখন পাথরের উপরে বসে রহস্যের নিখিল দরোজা খুলতে চাচ্ছেন, তখনি হাজির হন প্রাচীন মহাসম্রাটগণনমরুদ, শাদ্দাদ, রেমেসিসআখতার তাদেরকে প্রত্যাখান করেনপার্থিব রাজ্যমোহ তার ইপ্সা নয়আখতারের দৃষ্টিতে ওরা প্রেতলোকের আগন্তুকওদের প্রলোভন তার জন্য এক অশুভ বার্তাতাই তাদের উদ্দেশ্য কঠোর উচ্চারণÑ

এখন আপন কর্মে যার যার ধামে ফিরে যান
পুনশ্চ: অনধিকার উঁকি দেয়া বাঞ্চনীয় নয়

আসেন অনিত্য জীবন সাধকেরামজদকি, চার্বাক, কার্লমার্কসযারা পৃথিবী নিয়ে ভয়ানক আন্দোলিত হয়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেনতাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্নÑ

বলুন অনন্তলোকে সত্যিকার ঠিকানা কোথায়?
এখন কি পরলোকে বিশ্বকে বাতুল মনে হয়?’

মতবাদের বাধাগতে আখতারের আস্থা নেইকারণ এই সবে নেই আপন সত্য পরিচয়এগুলো নিয়ে নিজেরই মুখোমুখি দাঁড়ানো যায় নামুখ থুবড়ে পড়া ব্যবহৃত নানান মতবাদ নিখিল রহস্যজাল ভেদ করতে ব্যর্থতারা ব্যর্থতা স্বীকার করে করে চলে গেলেন আখতারের নিকুঞ্জ থেকেএলেন  অস্তিত্বের ব্যাখ্যাকাররামনসুর হাল্লাজরামানুজনীটসে- ফ্রেডারিখ
তারা বললেনÑ

১ম আগন্তুকÑ নিজেকে বিলীন করো তুমি
২য় আগন্তুকÑ নিজেই দেবতা হও তুমি
৩য় আগন্তুকÑ নিজেকে সংহার করো তুমি

তারা আশীর্বাদের মুদ্রা ফুটিয়ে প্রস্থান করলেনআখতার তখন উত্তেজিতকারণ সদুত্তর মিলেনি জিজ্ঞাসারতার যা চাই, তা মেলেনি কারো কাছেঅতপর আবির্ভাব হবে পূণ্যাত্মারতার উদ্দেশ্যে আখতারের জিজ্ঞাসা Ñ

জীবন কি অর্থহীন, প্রেতমার্গে সত্য খুঁজে খুঁজে
এই কুঞ্জে প্রতিদিন মৃত্যুর জগৎ ধ্যান করে,
প্রেতের সান্নিধ্যে এসে নেশাগ্রস্ত হয়ে গেছি যেন,
চোখ মুদলেই দেখি সম্মুখে দাঁড়ান  এসে কেউ,
বিভিন্ন নায়ক কিংবা দার্শনিক ইতিহাসশ্র,
বুঝিনা কিভাবে আমি জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি
এতটা সহজগামী, আমি কি পাগল হয়ে গেছি?’

পূণ্যাত্মার জবাবÑ

অবশ্য পাগল নও কিন্তু তবুও দিব্যোন্মাদ বটে
অতিশয় আন্দোলিত আলো-অন্ধকারের দোলকে
শুভাশুভ, ন্যায়-অন্যায় সীমাহীন আদিলোক হতে
মানুষের নিয়তিকে রণত্রে করেছে বাছাই
অতএব সাবধান, দৌহিত্র আমার, বাছাধন,
আসবে লুণ্ঠনকারী অচিরেই সান্নিধ্যে তোমার
তার প্রলোভন হতে সযতেœ সরিয়ে নিয়ো মন,
ভবিতব্য নির্ধারিত হতে পারে এ মোকাবেলায়

আখতার চূড়ান্ত সিদ্ধির জন্যে অশুভের সাথে চূড়ান্ত মোকাবেলার প্রস্তুতি নেননিজের চৌচির বিত্ত পুণরায় জোড়া লাগিয়ে পূণ্যাত্মার অলৌকিক উপস্থিতিতে সাধনার সাফল্যকে সামনে দেখতে পানকিন্তু তখনই হাজির হয় দাজ্জালবিশ্বাসের হত্যাকারী, মানবাত্মা লুণ্ঠণকারী সে সে আসে যাদুকরী পোশাকে নিখিল গরিমা ফুটিয়ে মোহন সুরধ্বণি লয়েসে প্রলোভন বিস্তার করে বললোÑ

তোমার সত্তায় সেই প্রতীকী সংকট সভ্যতার
খেলা করছে, আন্দোলিত হচ্ছো তুমি দুর্লভ বিরোধে
ভয় নেই, এসবের নিরসন হবে আর তুমি,
আসলেতো ভাগ্যবান, অয় কীর্তির সংস্থাপক,
যুগ যুগ ধরে তুমি পৃথিবীতে স্মরণীয় তবে,
তারই সনদ দিতে এসেছি তোমাকে আমি আজ

একান্তই যদি তুমি মজবুত ভাগ্য-গড়া চাও,
তাহলে সহজ হবে, এবং যখন দেখা যাবে,
অসংখ্য মানুষগুলো তোমার কথায় অনায়াসে
ওঠা-বসা করছে সুখে, আত্মহুতি দিচ্ছে অকাতরে,
তুমিও শাসনদণ্ড ছিনিয়ে নিয়েছো নিজ হাতে,
স্বদেশের সর্বময় কর্তাব্যক্তি হয়েছো হেলায়-
ভক্তেরা তোমার ছবি ঘরে-বাইরে ঝুলিয়ে দেয়ালে,
পূজা করছে, পৃথিবীতে নিজ নামে প্রচারিত হচ্ছে
মতবাদ, যার ফলে জুটেছে নতুন সংজ্ঞা কূটনীতির,

আখতারের জবাবÑ

না- না, যাও-যাও!
তুমিতো আলোকময় সত্তা নও কোনো,
বরং আগুন আর লেলিহান শিখা এক তুমি,
তোমার দুচোখে ফিরে এসেছে আবার ঝলসানো,
নিষ্ঠুর আগ্নেয় দৃষ্টি, সূর্যের মতোন মাহীন
অন্তহীন পাবকতা, দাউদাউ নিষ্ঠুরতা, থুঃ

ধিক্কার তোমাকে, আমি স্বীকার করিনা, যাও, যাও-
শাশ্বত মানবতার উত্তরাধিকার নিয়ে আমি,
এই দ্যাখো দাঁড়ালাম, অস্বীকৃতি জানালাম দ্যাখো,
তোমার এ দান আমি চাইনা, চাইনা, না- না,
শয়তান................

সাধনার আগুনে পুড়ে আখতার সোনা হলেনকিন্তু তিনি যে উদভ্রান্ত, ঘরছাড়াপূণ্যাত্মা ও তার সহমর্মিরা ঘর ছাড়া আখতারকে ঘরে ফিরে সহধর্মিনী জমিলার বাহুবন্ধনে নতুন পৃথিবী রচনা করতে প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন 

হে পৃথিবী নিরাময় হও কাব্যনাট্যের প্রথম অঙ্কের এ হচ্ছে কিছু দৃশ্য, কিছু উত্তাপ, কিন্তু সংঘাত ও পরিণতিএখানে নাটকীয়তাগুণের যে উল্লস্ফন ঘটেছে, রহস্যের জল যেভাবে ঘূর্ণিত হয়েছে, শ্বাসরুদ্ধকর ক্রমযাত্রা যেভাবে বেড়া টপকিয়েছে, তা বহুবর্ণিল পালক ও বিচিত্র আনন্দে নাটককে জীবন্ত নাটকের গরিমা দিয়েছেঅভিনব সংলাপ, প্রকৃতিচিত্র, সমাজবাস্তবতা, দ্বন্ধ ও উত্তরণ অপূর্ব বীর্যে পরাক্রম রচনা করেছেকিন্তু সবকিছু এগিয়েছে যে নিবিড় কাব্যময়তায়, তাতে পাঠক ধন্ধে পড়তে বাধ্য যে- গ্রন্থটির কাব্যমূল্য অধিক না নাট্যমূল্য?
নাটকটি রচিত হয়েছে তিন অঙ্কেনাটকে পঞ্চাঙ্ক যোজনা সুপ্রচলিত হলেও তিনাঙ্ক যোজনা বিশ্বব্যাপী সচলপ্রাচীন গ্রীসে ট্রিলোজি ছিলো খুবই জনপ্রিয়কালক্রমে ট্রিলোজি সংপ্তি হয়ে কাব্যনাট্যে তিন অঙ্ক রূপ ধারণ করেছে কি নাÑ তা বিশেষজ্ঞরা ভালো বলতে পারবেনফররুখ আহমদের নৌফেল ও হাতেম তিন অঙ্কের কাব্যনাটিকাপ্রথম অঙ্কে পাঁচ দৃশ্যহে পৃথিবী নিরাময় হও এর প্রথম অঙ্কেও পাঁচ দৃশ্যছন্দরীতির েেত্র এতে প্রধাণত সাবলীল অরবৃত্ত মহাপয়ার ব্যবহৃত হয়েছেমাঝে মাঝে স্থান- কাল পাত্রের দাবিতে মাত্রাবৃত্ত এবং ছড়ারূপ নির্মিতি দেখা গেছেতা সৃষ্টি করেছে স্বতন্ত্র চমক এবং স্বাদের বিশিষ্টতাছন্দপতনের ঘটনা এতই কম ঘটেছে যে তা একেবারে অনুল্লেখ্য বলা যায়কাব্যনাটকে আফজাল চৌধুরীর ছন্দরীতির মিল দেখা যায় দীনবন্ধু মিত্রের লীলাবতি ও রবীন্দ্রনাথের বিসর্জনের সাথে এই সব নাটক অরবৃত্ত পয়াররীতিতে রচিততবে কোনো কোনো দৃশ্যে গদ্যরীতি ব্যবহৃত হয়েছেআফজাল চৌধুরীর েেত্রও ব্যতিক্রম হয়নি  ইতোপূর্বে অমিল গদ্যে কাব্যনাটক লিখেছেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, (প্রবোধ চন্দ্রোদয় ও চন্ড কৌশিক) এমন কি রবীন্দ্রনাথও (চিত্রাঙ্গদা) ফররুখ আহমদের নৌফেল ও হাতেম অমিল দীর্ঘ পয়ারে রচিতসত্যেন্দ্রনাথ দত্তের আয়ুস্মতীর মতোকিন্তু )ছন্দের আদল অনুরূপ হলেও নাটকীয়তাগুণে নৌফেল ও হাতেম অনেক বেশি উত্তীর্ণএর কারণ আয়ুস্মতী যতখানি নাটক, তার চাইতে অনেক বেশি কাব্যরবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা সম্পর্কেও অনুরূপ বলা চলেকিন্তু হে পৃথিবী নিরাময় হও, যতটুকু কাব্য, ঠিক ততটুকু নাটকওফলে বাংলা কাব্যনাট্যের ভাড়ারে তা স্বতন্ত্র মহিমার দাবি রাখে
এ নাটকে অনেকগুলো চরিত্র থাকলেও প্রধান চরিত্র আখতার পাঠককে দেখিয়েছেন জীবনের রহস্যময় দ্বীপযার পাশে নিসর্গের গাঢ় কান্তি হয় জমাট, সংকটের পাহাড় দুলতে থাকে আদিগন্তব্যাপী ব্যর্থতায়, যার ল্য একান্ত আত্মবিনিয়োগে নতুন এক পৃথিবী নির্মাণÑ সেই আখতার কি তৃতীয় বিশ্বের স্বপ্ন প্রতিভূ? সে কি আত্মিক পূণরোজ্জীবনের বৈশ্বিক অভিযাত্রার প্রতিক? নাকি আখতার কবি আফজাল চৌধুরীর প্রতিরূপ? যে মোহন শিল্পচর্চার ললিত আয়োজনে ব্যস্ত ছিলো নিজেকে না জেনেইবস্তুর চাকচিক্য যার চিত্তকে জিব্রিলবিহিন দর্শনে নিমগ্ন রেখেছিলোনতুন সত্যের দিকে আখতারের অভিযাত্রা কি আফজাল চৌধুরীরই আত্মকাহিনী? দাজ্জালের মুখোমুখি দাঁড়ানো আখতার তাহলে বস্তুবাদ ও অবিশ্বাসের বিপরীতে দণ্ডায়মান কবিরই স্থিরচিত্র? এভাবে কেউ ভাবলে অবান্তর বলবো নাআফজাল চৌধুরীর জীবনে এমনই পালাবদল ঘটেছেএক সময় ছিলেন মার্কসবাদÑ ফ্রয়েডিজমে নিমগ্ন জীবনশিল্পীপরে আকাশের দিকে যখন তাকালেন, জানালার পর্দা তুলে পাখি হয়ে উড়ে গেলেন বিশ্বাসের সেই বিভূতির দিকে, যেখানে দাঁড়িয়ে সত্যসাধক ঘোষণা করতে পারেনÑ ‘অশ্লীল পৃথিবী থেকে বহু দূরে এসে গেছি বেশআফজালের জীবনে আধ্যাত্মিক সাধনার আলো সমস্ত দ্বন্ধ ও দর্শনের অনধিকার কুয়াশাকে প্রত্যাখান করে জ্বলে উঠেছিলোফলে সাধনার আগুনে সিদ্ধ হয়ে তার ভেতর থেকে জন্ম নিলো প্রগাঢ় বিশ্বাসী একন এক কবি, যে বিধাতার কাছে নিজের বিবরণ দিচ্ছেনÑ

তোমাকে দেখেছি আমি একদিন নিরীশ্বররূপে
এখন  শুধুই দেখি ভারসাম্যে আর ভরসায়,

কবির জীবনের এই দ্বিবিধ যাত্রাপথ চিত্রিত যেনো আখতারের চরিত্রেযেভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গোরার মুখ দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করেছেন, গোরার চিন্তারাজ্যে নিজের ভাবনারাজ্যকে স্থাপন করেছেন, গোরা চরিত্রে আপনাকে প্রতিফলিত করতে চেয়েছেন, আফজাল চৌধুরী তেমনই আখতারের জীবনে নিজের জীবনকে উন্মোচিত করেছেনআফজাল চৌধুরী বৈরাগী ছিলেন নাতার চোখে বৈরাগ্য কোনো সারবত্তা রাখে নাÑ

বিহ্বল দরবেশের মতো অসহায় অধ্যাত্মচিন্তায়
মুক্তি চাইলামÑ
কিন্তু বৈরাগ্য কি কোনো দিন কোনো কালে স্বাধীন মানবাত্মার ম্ুিক্ত দিতে পারে
(দাও পরকাল)

অতএব ঘর ছাড়েননি তিনিপরিপূর্ণ মনযোগি ও পরিশ্রমি ছিলেন আপন ঘর গেরস্থালিতেকিন্তু এর ভিতরেই আত্মা ত বিত ছিলো সাধনা যাত্রায়সফর করেছিলো বস্তুতন্ত্র থেকেসাঁতারু হয়েছিলো অতল সত্যলোকেকিন্তু আখতার সম্পর্কে এই সম্ভাবনা শেষ কথা হতে পারে নাতার অমর সৃষ্টি আখতার চরিত্র বহুবিধ বিশ্লেষণের সম্ভাবনা নিয়ে শেষ পর্যন্ত  সত্যে আত্মলীন এক অনির্বচনীয় প্রতিকযে বিলীন হয়ে গেছেনিজেকে নাই করে ফেলেছেমিশে গেছে সাগরে এবং এরই মধ্য দিয়ে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেতাকে যখন প্রশ্ন করা হচ্ছেÑ  তোমার কি নাম?’ জবাব দিচ্ছেÑ ‘মানবাত্মা‘Ñতোমার পিতার নাম?’ জবাব আসছেÑ ‘পিতার নামহ্যাঁ, বিধাতা মহানঅনুভূতির সেই মোহনা থেকে সে আর ফিরে আসবে নাযেখানে সে জীবনদ্রষ্টা, রহস্য ডুবুরী আর অস্তিত্বগ্রন্থের নিপুণ পাঠকÑ

এই সুস্থ দেহ নিয়ে পৃথিবীকে বোঝানো কঠিন
কেমন অসুস্থ আমিবোধ থাকলে বুঝে নাও নারী!
প্রখর মর্মানুভূতি থাকে যার, বুঝে নেয়া তার,
কিছুই কঠিন নয়ডাকিনীতো সেই বাস্তবিক,
মায়ের আকুতি নেই যে নারীরÑ এই যথা তুমি

গ্রন্থের প্রকাশক  মুহম্মদ আসাদ্দর আলী লিখেছেনÑ ‘অম্লান বক্তব্য ও দিব্যদৃষ্টির জন্যেই হে পৃথিবী নিরাময় হও কে গ্রন্থ প্রকাশনার দুঃসাহসী পদেেপ আমরা সংলাপ সাহিত্য সংস্কৃতি ফ্রন্টের প্রথম উদ্যোগরূপে বাছাই করে নিয়েছিকেননা ধ্রপদী নাট্যকর্মের এই সফল নিরীায় আমাদের আত্মা প্রতিফলিত এবং এক নতুন যাত্রার প্রতিশ্রতি ও সত্তার আমূল অভিনিবেশের সাফল্যে আর বিধৃত অভিজ্ঞতার অতলস্পর্শে এই কাব্যনাট্যের তৃতীয় ভূবনে আছে অচিন্তনীয় সুস্বাদএক সুপ্রাচীন ফর্মের উজ্জল উন্মোচনে  ফলিত এই মহাজীবন্তিকার রূপকর্মে, বিগত দশকের নত্র উজ্জল গ্রন্থ কল্যাণব্রত এর কবি আফজাল চৌধুরী এবারেও স্বঐতিহ্যে সফলকামহে পৃথিবী নিরাময় হও এই সুনিকেত নির্ভাবনায় তিনি আজ সুদৃঢ়ভাবেই দণ্ডায়মান