মুসা আল হাফিজ এর কবিতা

সমাধান

পথের দুপাশে ছড়ানো মায়া কুড়াতে গিয়ে
নিজেকেই ছড়ানো দেখি বিশ্বের বিস্তারে

যেখানেই হাত রাখি হৃদয়ে লাগে তার দাগ
দৃষ্টি আমার শোষে নেয় দিগন্তের সুধা

সহসা অবাক করলো করমচার পাতা
আমার শিহরণকে সে অনুদিত করে
নড়ে উঠলো সুগভীর শিহরণে!

ভাগ্যলীপি যে সব ধানের গায়ে আমার নাম লিখে রেখেছিল
আমি তার সন্ধানে নেমে অবাক বিস্ময়ে দেখি
সমস্ত প্রাণীকূলে আমারই ব্য¯’তা

কোন সুরে মঞ্জরিত হয় বসন্তের কুঁড়ি
কীভাবে উদয়াস্তের নিখিলে জাগে স্নেহের শিখা
কী আশা আবেগে প্রেমে লেলিহান হয়েছে সাগর
কোন অন্তমিল নিয়ে মাটি হয় প্রাণের সুষমা


অনন্ত জিজ্ঞাসা নিয়ে পুরোহিত মাথা কুটে পাথরে পাথরে

কিš‘ ল বছর ধরে আমার অন্তরতলে
জ্বলছে যে সুমধুর দ্বীপ, তার আলো
সমস্ত রহস্যের অন্ধকারে লিখে চলছে
সুবাসিত অমল জবাব!

হে পৃথিবী! সংকটে বিমূঢ় হয়েও পড়বে না তা আজো?

তখনও লিখবো প্রেমের কবিতা

অস্তমিত সূর্য আমার থালায়
মাথার উপর দিগন্তের ছেড়া ছেড়া মেঘ
আমার ডানে বর্ণহীন দিন বামে গভীর ভয়াল কৃষ্ণবিবর
দূরে, সভ্যতার গোলাঘরে ডাকাতি চলছে প্রহরব্যাপী
বেলাশেষের হু হু হাওয়া সেই সংবাদ জানিয়ে গেলো যখন,
তখনও লিখবো প্রেমের কবিতা?

বধির সাপের মতো দিবসের ঘরে নেমে এসেছে দূর্যোগ
ফসল তোলার স্বপ্নকে ঘিরে ধেই ধেই করে নাঁচছে বিনাশী প্লাবন
উঠানে প্রত্যাশার পায়চারি আর নেই, সেখানে অগ্নিবৃষ্টি
নিয়ে ধেয়ে আসছে যখন কাপালিক ড্রোন,
তখনও লিখবো প্রেমের কবিতা?

বসন্তের সংবিধান সংশোধন করছে কাকের সংসদ
স্বার্থের দাঁত দিয়ে ইঁদুরেরা কেটে ফেলছে হৃদয়ের অভিধান
বিবেকের পূণ্যপাত্রে প্রস্রাব করছে ব¯‘র পুরোহিত
নারী ও নিসর্গ নিয়ে তুমুল জমেছে যখন প্রগতির দাবা,
তখনও লিখবো প্রেমের কবিতা?

ছন্দ

তাপস হাওয়ার নাব্য সুপর্ণ সংগীত
প্রাণের প্র”ছদপটে আলোকদীপ্ত ফুল
অন্তহীন অস্তিত্বগ্রšে’ অনাদী অতীত
নিযুত রশ্মিশ্লোকে ছন্দিতÑ রাসূল! রাসূল!

নির্বিকল্প সেই ছন্দে বিশ্বাত্মা দাঁড়ানো
বিশ্বাসের শস্য আর প্রেমপূর্ণ আতরে
মানুষের মহাউত্থান সপ্তাকাশও ছাড়ালো
সূর্যের অধিক সূর্য জ্বললো তিমির পাথরে

প্রেমের রঙে সকল রঙ লীন হলো দু চোখে
সূরভিঢলে ভেসে গেলো প্রলয়ের কালো মুখ
অজস্র রূপ যেনো নিভে গেলো ময়ূখের লোকে
সব রঙরূপছন্দে সেই ছন্দ ছড়ালো সত্যসুখ

যে পেয়েছে সেই ছন্দ সে তো পেয়ে গেছে সবি
সেই ছন্দে মগ্নমুগ্ধ বিধাতাও, কবি!

রুহ যখন জাগে

চৌরাস্থায় ওরা আমাকে করেছিল খুন
ছিন্নভিন্ন করেছিলো গোটা দেহ।ধুলোর জায়নামাজ রক্তে ভিজিয়ে
মত্ত উল্লাসে দুষ্ট জিনের মতো নেঁচে উঠলো ওদের আলখেল্লা

কিন্তু না, মুসা আল হাফিজকে টুকরো টুকরো করে দিলেও
তার মদ্যপান শেষ হবে না, তার পানপাত্র ছিনিয়ে নিতে পারবে না
কোনো দুঃশাসন!

যদি সে পানশালায় না যায়, তাহলে পৃথিবীর নিঃশ্বাস থেমে যাবে
বাতাসে ধ্বণিত হবে কালের মর্সিয়া
নীলিমায় ছড়িয়ে পড়বে শোকের হাহাকার

মদের সুরাইটিকে তোমরা অবজ্ঞা করো না, শ্বেত-কৃষ্ণ হায়েনারা
তোমাদের অবজ্ঞা করবে। চাঁদের জ্যোৎস্নায় ফরমালিন মিশিয়ে
শুরু হবে বহুজাতিক তেজারতি।
কবিও প্রসব করবে মুন্ডহীন উদভ্রান্ত জারজ ফলাফল
মস্তক গণনা হবে আদমশুমারিতে, কিন্তু কোথাও মগজ থাকবে না
লক্ষ লক্ষ ভেড়ার পালের জন্য থাকবে না একজনও বিশ্বস্থ রাখাল!

শুনো, আমি এক ছিন্নভিন্ন দেহমাত্র
যাকে চাইলে এখনই কবর দেয়া যায়
কিন্তু পানপাত্রে অমর আত্মা থৈ থৈ করে নাঁচছে!
তার উচ্ছাসে সামার মাহাফিলে মৃত্যু এসে আত্মসমর্পণ করেছে
উদয়াস্ত দরখাস্ত করেছে বসার অনুমতি চেয়ে! যদি না থাকে শরাবের মৌতাত
তাহলে আমার ত্রিভূবন ধুলোয় মিশে যাবে

হে প্রতারিত আত্মার অন্ধকার উৎপাত!
আমার সহস্র মরণেও মূঢ় অন্ধের কী বা আসে যায়?

সে কি জানে
আমি মরছি আর জীবিত হচ্ছি প্রত্যহ
এভাবেই ক্রমে ক্রমে জীবন-মৃত্যু আমাকে রচনা করছে
না আমি প্রণয়ন করছি তাদের জীবন্ত ব্যাকরণ!

ফানার প্রতীক্ষা

মধ্যনিশিতে সত্তার হিরক ফাটিয়ে উছলে উঠা হে রশ্মিধারা!
তোমার ঝংকারে বিবরের তল থেকে লাফিয়ে উঠছে রাত্রির লাশ
নিদ্রাকে ভষ্ম করে দিচ্ছে গোলাপের দাউ দাউ পাপড়িদল
নেশাগ্র্রস্থ সময়ের ট্রাক উল্টে গেছে বৃক্ষের উচ্ছাসে
জ্যোৎস্নার চেকপোস্টে বন্দি হয়ে গেছে নক্ষত্রের গুপ্তচর

হৃদয়ের কুচকাওয়াজে থরথর কম্পমান এই রাতে
অলৌকিক বজ্রপাতে ভেঙে গেলো আত্মনাশা
বিলাশের পাথুরে পাচিল। অন্ধকারে ছলকে উঠলো সুতুমুল উজ্জীবন,
যেনো সুমধুর কোনো বিস্ফোরণে পালিয়ে গেলো মৃত্যুর সন্ত্রাস

এইবার দেহের কবর ভেঙে সত্তার পূণরোত্থান কে ঠেকাবে?

অস্তিত্বের প্রতিটি কণায় তরুণ নক্ষত্রের মতো জ্বলে উঠছে
পরমের নামের নামতা। রক্তের গহিনে তার ঘোরের ঘূর্ণি লেগে
সুবিমল যে জোয়ার সবেগে জেগেছে
তার তোড়ে জীবনের প্রাণ পেয়ে গেলে
আমি বলে আর কোনো প্রতিমা থাকবে না

আমি হীন উদ্ভাসনের শুদ্ধপ্রাণঝড়ে
মহাবিশ্বে জেগে উঠবো অন্তহীন অস্তিত্বের জ্বলন্ত সিনাই

দেহ ও আত্মা

সবুজের তুলিতে আঁকা মেঠোপথ মাড়িয়ে
যাচ্ছি অশেষপুরে কালের পথিক
সহসা বৃক্ষের কান্না, শোকাতুর হাওয়া
পথে এক ক্ষীণতোয়া দুঃখিত জলধারা
উপেক্ষার স্বৈরাচারে ধুঁকে ধুঁকে বহমান
বুক ভরা বালুজুড়ে কালো সংবাদ

রাত্রির পথিক আমি নিষন্ন নদীকে বলি
কী তোমার অসুখ?

নদী বলে আমি তো হে চলমান
তোমারই জীবন। নিজের অসুখটাকে নিজেও জানো না?

শামসে তাব্রিজকে হারিয়ে র“মী

ভষ্ম হলো দিবস, যেভাবে বজ্রপাতে পুড়ে যায় বৃক্ষের ডাল
ভষ্ম হলো রাত আততায়ী বিচ্ছেদের বারুদে
লাভানিঃস্রাবী সূর্যকে আমার তুষারঝড়ে নিভিয়ে দাও
তুহিন কুমেরুর তুষার পাহাড় আমার আগুনে গলিয়ে দাও

মৃত্যুকে পাকড়াও করে ইতিহাসের বিষুবরেখায় পুঁতে ফেলো
জন্মকে ব্যথাহত চক্রবালে অশ্রুমুক্তোয় মিলিয়ে দাও

পৃথিবীতে থাকবে শুধু অথৈ প্রেমালাপ

যেখানে প্রেম নেই, ঝরে পড়ো বিষাদের ফুল
যেখানে প্রেম নেই, লুপ্ত হও গুমড়া আকাশ
যেখানে প্রেম নেই, ছিন্নভিন্ন করে ফেলো প্রেতায়িত চাঁদ
যেখানে প্রেম নেই, পশুত্বে সমাচ্ছন্ন মিথ্যার পৃথিবীকে
পদাঘাতে হাবিয়ায় ছুড়ে ফেলো

যেখানে প্রেম নেই, সৃষ্টি করো নতুন পৃথিবী

সেই পৃথিবীর জন্য আমি মত্ত আদিঅন্তে ছুটি
শামসের মুখে আহা আছে যার দীপ্ত মুখোচ্ছবি!


আবদুল্লাহ আল জামিলের ছড়া-কবিতা
ছায়াহীন বৃক্ষতলে

আমাকে ফিরতে হবে।পথ চেয়ে বসে আছে উত্তরাধিকার
বুক পকেটটা খালি এখনো
জীবনের জ্বলা পুড়া প্রান্তরে কোথায় পাবো প্রাণের আবহায়াত?
ডানে-বামে-সামনে-পেছনে-উপরে-নিচে
আশার দীপ্তিতে ক্রমাগত স্বপ্নের সাঁতার

অথচ:
সময়ের আয়নায় ঝলসে উঠে দুর্ভিক্ষের ক্যালেন্ডার
আহা দুর্ভিক্ষ! মানবতার দুর্ভিক্ষ! মানবতাবাদীর দুর্ভিক্ষ!
মোমের চোখে মুখে লেপ্টে আছে কুৎসিত আলো
কুসুমের বুক তছনছ। কোথাও নেই পবিত্রতা!

নদী-নক্ষত্র পুড়ে ছাই। স্বার্থপরতার আগুনে
ভালবাসা ভালবাসা বলে দীর্ণ করি
চাদের উদর, জ্যোৎস্নার চাদর
শকুনের ডানায় ভর করে উড়ে গেছে মমতা।

হায়রে শকুন! কোথায় সবুজ?

একটি হৃদয় বিরহ কাতর
ছায়াহীন বৃক্ষতলে কোনো রকম বেঁচে আছে
মানুষের কবিতা......


নিষিন্ধ অবলোকন-১
পতিতা

ঐ সে
কইছে
খেয়ে খেয়ে মাল

তার কাছে কি যে আছে!
নাই না কি কারো কাছে
টকটকে লাল!

তার নাম লাকী
শাহবাগে দিনরাত
করে মাখামাখি....

ফ্রি সেক্স-২

ভালবাসা দিবসে
ছেলেমেয়ে ফ্রি-বসে
নো মাইন পার্কে

রমনার বটমূলে
যৌবন মট খুলে
ডুবে যায় ডার্কে!

মার শালাকে-৩

শাহবাগী ইমরান
কানধরে চিমরান
যেথা পান নাগালে

ছুটো বীর শাহবাগে!
পেয়ে যাবে আগেবাগে
আরেকটু আগালে

পুলিশ কি এই জন্য?-৪

পতিতারা দরকারি
কাজ করে সরকারি
নেতাবাবু ডাকলে

মঞ্চ জমে তাড়াতাড়ি
মদ নিয়ে কাড়াকাড়ি
পাহারাটা থাকলে

খেয়ালের রাজনীতি-৫

রাজনীতি
বাজনীতি
দালালের ধর্ম
আলালের কর্ম

শেয়ালের গর্ব
খেয়ালের পর
ভিনদেশি বর্ম
একজিমা চর্ম

কেটে ফেলো
চেটে ফেলো
নেই পথ অন্য
মুক্তির জন্য।

তার খুঁজে- ৬

ঐ হাঁসে  দিলদার
তার সাথে মিল কার
সুখে থাকে রোজ

দিল ওয়ালা
মিল ওয়ালা
তারে করি খোঁজ।

আমি ডিজিটাল- ৭

ভালো লাগে খুন করা
দালালের গুণ করা
জ্ঞানীদের দোষ

ডিজিটাল তাই আমি
রাতারাতি নামি দামি
মেম সাব খোশ!