লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক

 মাহমুদ হাসান
একটা গান কি কারো দু’আ হতে পারে? সেই দু’আ আবার আরশেও পৌঁছুতে পারে? জীবনের খুব বড়ো কোন স্বপ্নের সাথে আল্লাহ একটি গানকে এতো বেশি জড়িয়ে দিয়েছেন! ভাবতেই আবেগাপ্লুত হই। কৃতজ্ঞতায় অবনত মস্তকে একটাই শুধু অভিব্যক্তি, ‘ইন্নাকা সামী’ আদ-দু’আ’…দু হাজার দশ সালের কোন এক শুভ দিনে অনলাইনে পরিচিত হয়েছিলাম প্রিয় মানুষ, প্রিয় শিল্পী মারুফ আল্লাম ভাইয়া’র সাথে। আমি তখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। অধুনালুপ্ত এসবি ম্যাগাজিনে তখন আমার কাঁচা হাতের কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছিলো। ভ্ইায়াও ওখানে লিখতেন নিয়মিত। আমার পঁচা সব লেখা সত্ত্বেও যে ক’জন বিশাল হৃদয়ের মানুষ উৎসাহ ও ভালোবাসা দিয়ে এগিয়ে নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ভাইয়া অন্যতম। একদিন বললেন, ‘তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে হয়।
একটা ছবি পাঠাও তো।’ বরাবরের মতোই নিভৃতচারিতা ভালোবাসতাম, কিন্তু কি যেন ভেবে ভাইয়াকে ছবি পাঠাতে মনস্থির করলাম। তখন আবার সাংঘাতিক সুবোধ বালক ছিলাম আমি! স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে আব্বুম্মুর স্বপ্ন ও চাহিদার বৃত্তে নিজেই বন্দী হয়েছিলাম। আব্বুকে বললাম ছবি পাঠাবো কি না। আব্বু নিজেই ‘রাত কি কেটে যাবে ঘুমে অলসে?’ এবং ‘দুয়ারে আইসাছে পালকি’ গান দুটোর জন্যে ভাইয়ার ভক্ত। সম্মতি দিলেন। আমার পুরনো স্মৃতির মধ্যে ওই একটা ছবিই সম্ভবত আছে এখনো।
সে যাই হোক, তখন ভাইয়ার সদ্য প্রকাশিত একটি অ্যালবাম, ‘বিকেলের সৈকতে’। অনলাইন থেকে গানগুলো ডাউনলোড করে নিলাম। আমার জানাশোনা অ্যালবামগুলো থেকে খুব প্রিয় কয়েকটির মধ্যে এটি অন্যতম। আব্বুম্মুও দারুণ পছন্দ করেছেন গানগুলো। বিশেষত ‘বিকেলের সৈকতে’ এবং ‘জান্নাত লিখে দিও নসীবে আমার’। দুটো আবার আমারও প্রিয়। দ্বিতীয় গানটি যাকেই শুনিয়েছি, তিনিই অসম্ভব অনুপ্রাণিত এবং আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। আরেকজন প্রিয় মানুষ, নিভৃতচারী কবি ও গীতিকার বিলাল হোসাইন নূরী স্যার লিখেছেন গানটি।
সবগুলো গান ছাপিয়ে একটা গান আমার হৃদয়ে খুব বেশি জায়গা করে নিয়েছিলো নিজের অজান্তেই:
“কাফনের কাপড়টাকে গায়ে জড়াবার আগে
ইহরাম গায়ে বাঁধার সুযোগ করে দিও
মরণের আগে একবার কাবার ধারে নিও…
বেশি কিছু চাইনি আমি, চেয়েছি কাবার ধারে
ঝরাব নয়ন-গলা পানি
মনের ধারে যুগে যুগে জমে থাকা পাপের সারি,
মুছে নেবো মনের যত গ্লানি…”
আমি নিজেও জানি না, কিভাবে সারাদিন এই গান মুখে লেগে থাকতো আমার। আল্লাহরই ইচ্ছা, গানটা গাইতে গিয়েই সাধ ও স্বপ্নের সবগুলো রেখা আস্তে আস্তে সেই পবিত্র ভূমির কেন্দ্রবিন্দুতে গিয়ে মিলে যেতো…! প্রিয় নবীজির (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি নিদারুণ ভালোবাসা তো আজন্ম লালন করে এসেছি, এবার সেই প্রেম-বৃক্ষটা ফুলে-ফলে আরো বেশি সতেজ-সজীব হতে শুরু করে। হাঁটতে-চলতে, ঘুরতে-ফিরতে আর উঠতে-বসতে কেবলই কা’বার গিলাফ ছুঁয়ে চোখের পানি ঝরাবার স্বপ্ন, প্রিয় নবীজিকে সব আবেগ-উচ্ছ্বাস মিশিয়ে একটি সালাম প্রদানের তীব্র আকাক্সক্ষা…! সবুজ গম্বুজের পাশে দাঁড়িয়ে হৃদয়াবেগ উজাড় করে একটি কবিতা নিবেদনের অদম্য বাসনা…! বদর আর উহুদের প্রান্তরে দাঁড়িয়ে বুক ভরে একটি তাকবীর ধ্বনি তোলার জন্যে আকুলতা…! জাবালে নূরের সুউচ্চ শিখরে, হেরা গুহার সম্মুখে গিয়ে ‘ইক্বরা বিসমি রব্বিকাল্লাজি খালাক্ব’ পড়ার ব্যাকুল অভিলাষ…!
অবাক কাণ্ড… আমি আমার নিত্যদিনের দু’আয় কেবল এই গান গেয়েছি নীরবে। রাত্রির নিঝুম নিস্তব্ধতায় একা একা গেয়েছি আর অশ্রু ঝরিয়েছি অনুপম ভালো লাগায়…।
দাদুর মুখে গল্প শুনে শুনেই আশৈশব আমার চোখে ঘুম এসেছে। হাজ্জ্ব থেকে ফিরে দাদু যখন প্রতিনিয়ত তাঁর অভিজ্ঞতার কথাগুলো বলতেন, কেমন তন্ময় হয়ে শুনতাম। বায়তুল্লাহ যিয়ারাতের স্বপ্নফুল ওভাবেই পাঁপড়ি মেলতে শুরু করেছিলো। তারপর শুনলাম আব্বুর মুখে। প্রেম-জ্বরে আক্রান্ত হলাম দারুণ ভাবে। স্বপ্নের থার্মোমিটারে ব্যাকুলতার পারদ খুব অস্থিরভাবে উঠানামা শুরু করেছিলো তখনই।
নবম শ্রেণিতে চলে এলাম ঢাকা। ভাইয়াকে সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে ক্যাম্পাসে সীরাতুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত সঙ্গীত সন্ধ্যায়। আমার মুখে তখনো সেই গান কোনভাবে বিশ্রাম নিতে রাজি হয় নি। সবটুকু আবেগ আর অনুরাগ মিশিয়ে কাতর কণ্ঠে প্রিয়তম মালিককে বারবার হৃদয়ের আকুতি জানিয়েছি এই গান গেয়েই। আমি তখনো জানতাম না, আল্লাহ কতো তাড়াতাড়ি অধমের দু’আয় সাড়া দিচ্ছেন।
পরের বছর, যখন দশম শ্রেণিতে পড়ি, দাদুভাই আর দাদীমণির ‘উমরাহ-তে যাবার কথা। দু’জনে এর আগে হাজ্জ্ব পালন করে এসেছেন। তবে এবারের উদ্যোগটা মেজো আব্বু এবং মেজো আম্মুর নেয়া। একজন অনেকদিন ‘বাবা-মা’কে দেখেন না, আরেকজন মিস করেন ‘আব্বা-আম্মা’কে। প্রবাস জীবনে বড়ো হওয়া আমাদের দুই ভাই-বোনও এখনো তাদের দাদুভাই আর দাদীমণিকে দেখে নি। প্রথম বায়তুল্লাহ যিয়ারতে যাচ্ছেন ছোট আম্মু, দুই পিচ্চি সহ। বাড়ির এই বিশাল একটি অংশের এমন সৌভাগ্যের খবরে আমি খুবই বিষণ্ন হয়ে পড়লাম। আহা, আমিও যদি তাঁদের সাথী হতে পারতাম…! বিষণ্নতার প্রহরগুলো একেবারেই কাটছিলো না তখন। আল্লাহর হয়তো ভিন্ন পরিকল্পনা ছিলো, সে বছর তাঁরা কি যেনো জটিলতায় ভিসা পাননি।
গ্রীষ্মের ছুটিতে গেলাম বাড়িতে। মাহমূদ স্যার তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে কক্সবাজার ট্যুরে যাবেন। খুব ইচ্ছে হোল আমাকেও সাথে নেবেন। নাহ! আমি তো কোনভাবেই রাজি হই না। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি, আল্লাহর ঘর দেখার আগে ট্যুর-ফ্যুর সব বাদ… স্যার যথারীতি মান-অভিমানের দোলাচলে দুলতে শুরু করলেন। আমিও নির্বিকার। তবে আব্বুর প্রচেষ্টায় তাঁর অভিমান ভাঙাতে পেরেছি শেষমেষ।
পুকুরের পূর্ব পাড়টিতে যেখানে খড়ের স্তূপ, গাছ-গাছালির নিবিড় ছায়াঘেরা স্থানটি… গ্রীষ্মের সময়টাতে ওখানে পেয়ারা গাছের নিচে দাদীমণি সুযোগ হলেই চাটাই বিছিয়ে কুরআন পাঠ করতে বসেন। ঝিরিঝিরি বাতাসে গা এলিয়ে দাদীমণির পাশে বসে গল্প করতে বসে যেতাম আমিও।
ঢাকায় আসার পর আমার সেই সোনালী বিকেলগুলো খুব মিস করেছি। এবার তাই দাদীমণিকে একটু বেশি সময় দিতে টান অনুভব করলাম। এবার অবশ্য আমার ভালোবাসায় ভাগ বসানোর জন্যে নাতি-নাতনিদের সংখ্যা বেড়েছে। দাদী-নাতির গল্প বেশ জমেছে তখন। দাদুভাইও আছেন সাথে, একটা মোড়ায় বসে চিরাচরিত অভ্যাস মতো খুব মনোযোগ দিয়ে বাসি কোন পত্রিকার উপ-সম্পাদকীয়তে চোখ বুলাচ্ছিলেনন।
আহ! কতদিন পর দাদীমণি আমার চুলে বিলি কাটছেন!
– অ নাতি, ছারর ফোঁয়ারে ন যছ্ ক্যা? হ ছাই! (নাতি, স্যারের সাথে যাস্ নি কেনো? বল্ তো!)
প্রথমে খুব অপ্রস্তুত হলাম। কী জবাব দেবো? দাদীমণি নন শুধু, আমাদের পরিবারের সবাই-ই তখন স্যারের অনুরক্ত। সে এক আশ্চর্য শক্তি ছিলো তাঁর, সবাইকে এত্তো এত্তো কাছে টেনে নিতে পারতেন! আমাকে কেনো জানি এতো বেশি ভালোবাসা দিয়েছিলেন, জানি না। আমি আমতা আমতা করে খুলে বললাম হৃদয়ের অব্যক্ত অনুভূতিটা। আরো বললাম, তাঁদের উমরাহ যাবার সংবাদে আমার মন খারাপের কথা। জানালাম এই গানের কথা, গানটা বুকে জড়িয়ে কান্নার কথা…। দাদীমণি তো অবাক! একেবারে থ মেরে চেয়ে রইলেন।
– এ হথা তইলে! আঁরে এথদিন ন উনালি ক্যা? (এ কথা তাহলে! আমাকে এতদিন শোনাস্ নি কেনো?)
– ব্যাজ্ঞুনে আবার আঁসাআঁসি গরিত্ ফারে আঁর ফলাই উইনলে, ইথাল্লাই। (সবাই আবার হাসাহাসি করতে পারে আমার পাগলামোর কথা শুনলে, সে জন্যে)
– এন্নেকি ত! উগগা গান মেইনষরে এত উতালা বানাইত ফারে দে! আঁরে উনাইছ তোর বিয়াক। (তাই নাকি! একটা গান মানুষকে এত উতলা করতে পারে! আমাকে তোর সবকিছু শোনাবি।)
দাদুভাইয়ের দিকে তাকিয়ে,
– উইন্ননা তোঁয়ার নাতির হথা? (শুনেছো তোমার নাতির কথা?)
– উনিইইর! নোয়া হথা না? আঁরা অজত যেবশশতিয় ত হেন্দিল ইথে! (শুনছিইই! নতুন কথা নাকি? আমরা হাজ্জ্বে যাবার সময়ও তো কেঁদেছিল সে!)
আমি কোন উত্তর দিই না। চুপ করে তখনো গানটা বিড়বিড় করছি।
রাতে খাবার সময় দাদুভাই জিজ্ঞেস করলেন,
– তোর দাহেল ফরীক্কা হঁত্তে শ্যাষ অব? (তোর দাখিল পরীক্ষা কবে শেষ হবে?)
– এয়েদ্দে বছর মার্চত। (আগামী বছর মার্চে)
– অ এইচ্ছা। তোরে লই যেয়ম দে আঁরা। (ও আচ্ছা। তোকে নিয়েই যাবো আমরা।)
আমি মোটেও ভাবিনি, দাদুর এই আশাটা যে সত্যি হবে খুব তাড়াতাড়ি।
ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে চলে আসলাম। আমার দু’আও থেমে নেই। এরই মধ্যে মেজো আব্বু একদিন ফোন করলেন আবূ নাঈম স্যারের সেল ফোনে। বুঝলাম এই অসময়ে ফোন আসাটা দাদীমণির কারসাজিতেই হয়েছে। বরাবরের মতো তাঁকে কেনো জানাই নি, এই নিয়ে হাল্কা উষ্মা। তারপর বললেন সামনের ছুটিতে শিগগির পাসপোর্ট করে ফেলতে। আব্বুর সাথে কথা বলে মিষ্টি আব্বুকে সবকিছু ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্যে বললেন। মেজো আব্বু খুব ভালোবাসতেন জানতাম। কিন্তু এত্তটুকু? এত্তবেশি? হয়তো আল্লাহর ইচ্ছা!
আমি তখন মাত্রাতিরিক্ত আনন্দে আত্মহারা। না, বেশি আবেগতাড়িত হওয়া যাবে না। সুস্থির হয়ে দু’রাকাত সালাত আদায় করলাম। এরই মধ্যে আমার পাগলামোর কাহিনী শুনে বড় ফুফুও অসাধারণ অনুপ্রাণিত হলেন, তাঁর সুপ্ত বাসনাটাও জেগে উঠলো হঠাৎ। এবং তিনিও অবশেষে আমাদের সাথী হতে মনস্থির করলেন। [মজার বিষয়, একইভাবে দু’জন সহপাঠীও হঠাৎ করে আবেগতাড়িত হয়ে টাকা জমাতে শুরু করেছে, উরিব্বাস! আন্তরিক দু’আ করি, আল্লাহ তাদের ইচ্ছে কবূল করুন।]
গতবার রামাদানে আমাদের যাবার কথা ছিলো। আমরা আবেদন করবার আগ মুহূর্তে ভিসা দেওয়া বন্ধ। কিছুটা মন খারাপ হলেও খুব মর্মাহত হই নি, আল্লাহর উপর ভরসা রেখেছি। আব্বু বললেন, রামাদানে যেহেতু জটিলতা দেখা যাচ্ছে, তার আগেই ব্যবস্থা হোক। যদিও আমার ই’তিকাফের স্বপ্নটা ভঙ্গ হবে, এই ভেবে মনে মনে খানিকটা বিষণ্ন ছিলাম। এ সময় আবার দাদুভাইয়ের অসুস্থতায় সেটাও হলো না। তবু তাওয়াক্কুল হারাই নি সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারীর উপর। ইদানিং ফারিজাপুর হাজ্জ্ব স্মৃতির নোট গুলো পড়ে অবশ্য একটু বেশি উতলা হয়ে পড়েছিলাম।
আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে আল্লাহ ক্ববূল করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা ইন শা-আল্লাহ জুমাবার রওনা দেবো।
এর মাঝে আরেকটি দুঃস্বপ্নের ঘানি এসে হাজির। খানিকটা বিষণ্নতা অনুভব করছি; কারণ আমাকে সাথে নিয়ে ’উমরাহর স্বপ্ন দেখা দাদুভাই আর দাদীমণি দু’জনই এবার যেতে পারছেন না। দাদুভাই হঠাৎ করে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবু আমরা আল্লাহর সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছি। দাদুর জন্যে আমরা সকলের কাছে দু’আ চাই। দাদীমণি অনেকটাই অপ্রস্তুত এবং স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় হতচকিত। ভাবছিলাম আমি সান্ত্বনা দেবো, কিন্তু আমাকেই উল্টো সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘তোমরাই যাও। হয়তো আল্লাহ এর মধ্যেই আমাদের কল্যাণ রেখেছেন।’
তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপযুক্ত কোন ভাষা এই অধমের নেই প্রভূ! মহাকালের উর্ণজালে জড়িয়ে আমি কতোভাবে কতোবার তোমাকে ভুলেছি, ভুলছি… অথচ! অথচ সেই তুমি একটিবারের জন্যেও বিরাগভাজন হওনি তোমার ক্ষুদ্র বান্দাটির উপর। আমার শতো ভুল আর অসঙ্গতির বিরক্তিকর রোদ তোমার রহমের ছায়ায় বিলীন করে দিয়েছো বারবার…।
আমার কিছুই চাওয়ার নেই প্রভু। অবনত মস্তকে কেবলই বারবার বলতে ইচ্ছে করছে, আমার সবটুকু ভালোবাসা, ভালো লাগা এবং হৃদয়াবেগ তোমার জন্যে নিবেদিত হোক, হে দ্বীন দুনিয়ার মালিক!