পকেটে ১০টাকা, সি.এন.জি ভাড়া

মাহমুদ হাসান
কিছুক্ষন আগে এক লোক আমার অফিসে ভুলে মানিবেগ রেখে গেছেন, তার মানিব্যাগটা ফিরিয়ে দিতে বন্দর থেকে কিংব্রিজ পেরিয়ে অইপারে গেলাম। সে ধন্যবাদান্তে একটা কোল্ড ড্রিংক্স ধরিয়ে দিল আমায়,অফিসের পথে রওয়ানা হলাম। কিংব্রিজের মুখে এসে সি.এন.জি খুজছি। হঠাত দেখলাম ৮/৯ বছরের একটা ছেলে রিক্সা ড্রাইবারকে বলছে,
ভাই ঠেলালাগবে, ভাই ঠেলা....?? ১৫-২০ জন ড্রাইভারকে সে এভাবে বলেছে, বাট কোনো ড্রাইভারই তাকে পাত্তা দেয়নি। কারণ, সে ছোট। আমি ছেলেটাকে ডাকদিলাম।
-তোমার বাড়ি কোথায়?
-হবিগঞ্জ।
-ভাইবোন কতোজন?
- চার জন।
-তুমি সবার বড়?
- হ্যাঁ...।
-আব্বু আম্মু কি করেন...?
-আব্বা মরিগেছুইন আর আম্মা বেমার কিচ্ছু খরতা ফারুইন্না..., সবাইরে আমারও ছালানি লাগে(সিলেটি ভাসায়)।
-দুপুরে কিছু খাইছ...?
- না....টেখা নাই, সারাদিনে ২০টেখা ফাইছি।
আমার হাতে তখনো ঐব্যাক্তির দেয়া ঠান্ডাটা। আর পকেটে ১০টাকা, সি.এন.জি ভাড়া। কি করব বুঝতেছিনা..., অবশেষে সহানুভুতির সেই ঠান্ডাটাএবং পকেটের ১০টাকার নোটটা তাকে দিলাম । বলললাম - ভালো থেকো, আর পড়ালেখার কোন বিকল্প নেই। সে একা নয়। তার মতো এরকম শিশু আরো আছে সিলেট শহরে।
আমার শহরের এবং দেশের কান্ডারিদের প্রতি অনুরোধ,  সিলেটকে বাহ্যিকভাবে আধুনিক শহর করার আগে সিলেটের মানুষদের আধুনিক করুন। কারন সিলেটবাসী এবং কমপক্ষে আমি তো এমন আধুনিক ও উন্নত শহর চাইনা, যে আধুনিক ও উন্নত শহরের মানুষ ,অনুন্নত, মুর্খ ও নোংরা থাকবে। আমার বিশ্বাস যে শহরের মানুষ আধুনিক সে
সহরও আধুকি, আর যে শহরের মানুষ অনাধুনিক সে শহরও 
অনাধুনিক।
মাহমুদ হাসান
৩.৮.২০১৫ইং
৩.১১pm