দাসপ্রথা

মাহমুদ হাসান
দুনিয়াতে সব চাইতে বর্বর , নির্মম ও নিষ্ঠুর যে প্রথা মানব সমাজে প্রচলিত ছিল , দাসপ্রথা ছিল সবার ওপরে।এই একবিংশ শতাব্দীতে বসে কল্পনাও করা যাবে না সেই দাস প্রথা কতটা অমানবিক ও ভয়াবহ ছিল। বিভিন্ন ইসলামি বিতর্কে ইসলামী চিন্তাবিদরা দাবী করে , ইসলাম নাকি দাস প্রথা রদ করেছে। এবার দেখা যাক বিষয়টা আসলে কি ।
কার সাথে যৌন কাজ করা যাবে সে সম্পর্কে কোরান বলেছে :
হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন-- সূরা আহযাব- ৩৩: ৫০
এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। সূরা আল মুমিনুন- ২৩: ৫-৬
দাস প্রথা চালু থাকলে বা রাখলেই দাসীর প্রসংগ আসে , আর আসে তাদেরকে যৌনভাবে উপভোগ করা যাবে কি না- এ প্রশ্ন। পরম করুনাময় আল্লাহ তার যৌনকাতর বান্দার অসুবিধা দুর করার জন্য তাই অকাতরে দাসীদের সাথে যৌন কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছে। তবে আল্লাহ একটা বিষয়ে বেশ কঠোর , তা হলো দাসীদের সাথে যত ইচ্ছা যৌন আনন্দ কর , সমস্যা নাই, তবে তাদেরকে দিয়ে বেশ্যাবৃত্তি করান যাবে না , যেমন :
তোমাদের দাসীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের লালসায় তাদেরকে বেশ্যাবৃত্তিতে বাধ্য কারো না। যদি কেহ তাদের উপর জোর-জবরদস্তি করে, তবে তাদের উপর জোর-জবরদস্তির পর আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সূরা আন নুর - ২৪: ৩৩
তার মানে দাসীর মালিক যত ইচ্ছা খুশী তার সাথে যৌন কাজ করুক সমস্যা নাই , শুধু তাদেরকে দিয়ে বেশ্যাবৃত্তি করান যাবে না , এটা দাসীদের প্রতি আল্লাহর বিরাট করুনার একটা উদাহরন।
যুদ্ধে বন্দিনী নারীরাও আসলে দাসী হিসাবে ইসলামে গন্য হবে ও তাদের সাথে যৌন কাজ করতে আল্লাহ অনুমতি দিচ্ছে এমন কি যদি তাদের স্বামীরা বেঁচেও থাকে, আর সেসব স্বামীর সামনেই তাদের সাথে যৌন কাজ করতে পরম করুনাময় আল্লাহ তার বান্দাদেরকে অনুমতি দিচ্ছে , কারন আল্লাহ তার যৌনকাতর বান্দার প্রতি বড়ই করুনাময় , যেমন :
এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ। সূরা নিসা - ৪: ২৪
এখানে উক্ত -এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। দ্বারা বুঝাচ্ছে , যে মুসলমানদের কোন বিবাহিতা নারীর সাথে যৌন কাজ করা যাবে না , তবে যাদেরকে দক্ষিন হস্ত দ্বারা অধিকার করা হয়েছে অর্থাৎ ক্রয় বা যুদ্ধের মাধ্যমে দখল করা হয়েছে যে সব নারীকে তাদের সাথে যৌন কাজ করা যাবে। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা দেখা যায় হাদিসে :
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪৩২
উবায়দুল্লাহ ইবন উমর ইবন মায়সারা কাওয়ারীরী (র)......।আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা) হুনায়নের যুদ্ধের সময় একটি দল আওতাসের দিকে পাঠান । তারা শক্রদলের মুখোমুখী হয়েও তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয় । এদের মধ্য থেকে বন্দিনী নারীদের সাথে সহবস করা রাসুলুল্লাহ (সা) -এর কয়েকজন সাহাবী যেন না জায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে । আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভূক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধ্বা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ-, অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, (কোরান-৪:২৪) যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ন করে নিবে ।
তার মানে দেখা যাচ্ছে বন্দিনী নারীদের স্বামী বেঁচে থাকার কারনে সাহাবীরা উক্ত নারীদের সাথে যৌন কাজ করতে ইতস্তত বোধ করছিল। মনে হয় প্রচলিত মানবিক বোধ থেকে। কিন্তু আল্লাহ তাদের এ মানবিক বোধকে গুরুত্ব দেয় নি। কারন আল্লাহর কাছে মানবিকতার ভিন্ন সংজ্ঞা আছে। আর তাই সে সাহাবীদেরকে অনুমতি দেয় , যেমন খুশী বন্দিনী নারীদেরকে ভোগ করা যাবে, কোন সমস্যা নাই। আর আমাদের দ্বীনের নবীও সাথে সাথে দেরী না করে তার সাহাবিদেরকে হুকুম দিলেন - বন্দিনী নারীদেরকে ভোগ কর।
বন্দিনী নারীদের সাথে যৌন কাজ করার আরও বহু হাদিস আছে । যেমন :
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৩৭১
ইয়াহইয়া ইবন আবু আয়্যুব, কুতায়বা ইবন সাঈদ ও আলী ইবন হুজর (র)......ইবন মাহায়রিয (র) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি এবং আবু সিরমাহ আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর নিকট গেলাম । আবু সিরমাহ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবু সাঈদ ! আপনি কি রাসুলুল্লাহ (সা) -কে আযল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যা আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) -এর সাথে বনূ মত্তালিকের যুদ্ধ করছি । সে যুদ্ধে আমরা অনেক ভাল ভাল আর সুন্দরী বাঁদী ( যুদ্ধ বন্দিনী নারী) হিসেবে লাভ করি । এদিকে আমরা দীর্ঘকাল স্ত্রী সংস্পর্শ বর্জিত ছিলাম । অন্যদিকে আমরা ছিলাম সম্পদের প্রতি অনুরাগী । এমতাবস্হায় আমরা বাদীদের দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল করার এবং আযল করার ইচ্ছা করলাম । কিন্তু আমরা এ কথাও আলোচনা করলাম যে, আমরা কি এ কাজ করতে যাব, অথচ রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদের মধ্যে উপস্হিত রয়েছেন । তাঁর নিকট আমরা এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করব না! তাই আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) -কে জিজ্ঞাসা করলাম । তিনি বললেনঃ ঐ কাজ না করাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই । কেননা, আল্লাহ পাক কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ সৃষ্টি করার কথা লিখে রেখেছেন সে সব মানুষ সৃষ্টি হবেই ।
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৩৭৩
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আসমান যুবায়ী (র)......আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমরা কিছু সংখ্যক যুদ্ধ বন্দিনী লাভ করেছিলাম । (তাদের সাথে) আমবা আযল করছিলাম । এরপর আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) -কে জিজ্ঞাসা করলাম । তিনি আমাদের বললেন, অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে । অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে । অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে । (বিনয় প্রকাশ করে বললেন) বস্তুত কিয়ামত পর্যন্ত যত প্রানা সৃষ্টি হওয়ার তা সৃষ্টি হবেই ।
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৩৮৩
আহমাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইউনুস (র)......জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা) -এর কাছে এসে বলল, আমার একটি দাসী আছে যে আমাদের খিদমত ও পানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত । আমি তার নিকট আসা যাওয়া করে থাকি, কিন্তু সে গর্ভবতী হোক তা আমি পসন্দ করি না । তখন তিনি বললেন, তুমি ইচ্ছে করলে তার সাথে আযল করতে পার । তবে তার তাকদীরে সন্তান থাকলে তা তার মাধ্যমে আসবেই । কিছু দিন অতিবাহিত করল । তারপর সে রাসুলুল্লাহ (সা) -এর কাছে এসে বলল, দাসীটি গর্ভবতী হয়েছে । তিনি বললেন, আমি তোমাকে এ মর্মে জানিয়ে ছিলাম যে, তার তাকদীরে যা আছে তা আসবেই ।
নবীর স্বীয় জামাতা , ৪র্থ খলিফা আলীও খুব আনন্দের সাথে বন্দিনী নারীদের সাথে যৌন কাজ করত, যেমন :
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৯ :: হাদিস ৬৩৭
হযরত মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রঃ)......... হযরত বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আলী (রাঃ) কে খুমুস (গনীমতের এক পঞ্চমাংশ) নিয়ে আসার জন্য খালিদ (রাঃ) এর কাছে পাঠালেন। (রাবী, বুরায়দা বলেন, কোন কারনে) আমি আলী (রাঃ) এর প্রতি নারাজ ছিলাম, আর তিনি গোসলও করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর কাছে ফিরে আসলে আমি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন, হে বুরায়দা! তুমি কি আলীর প্রতি অসন্তুষ্ট? আমি উত্তর করলাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার উপর অসন্তুষ্ট থেকোনা। কারন খুমসের ভিতরে তার প্রাপ্য অধিকার এ অপেক্ষাও বেশি রয়েছে।১
১) হযরত বুরায়দা (রাঃ) আলী (রাঃ) এর প্রতি নারাজ হয়ে যাওয়ার কারন ছিলো: তিনি দেখেছেন যে, আলী কয়েদীদের মধ্যে থেকে একজন বাঁদীকে নিজের জন্য নির্বাচন করে নিয়েছিলেন। এবং আলীর শেষ রাতের গোসল এবং বাঁদীর চুল থেকে পানির ফোঁটা টপকানো দেখে তিনি উভয়ের একত্রে রাত্রি যাপনেরও সন্দেহ করলেন। অথচ এখনো রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) সেই গনীমত মুজাহিদদের মধ্যে বন্টন করে দেননি। পরে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) কে জানানো হলে তিনি বুরায়দাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আলীকে গনীমত বন্টন করে দেয়ার হুকুমও দেয়া হয়েছিলো।
এছাড়াও আল্লাহ দাস-দাসীর মালিকদের প্রতি বেশ করুনাময়। সেটা হলো যদি কোন দাস দাসীকে মুক্তি দেয়া হয় সেটা মালিকের জন্য পূন্য অর্জনের উপায় , যেমন কোরানে আছে :
মুসলমানের কাজ নয় যে, মুসলমানকে হত্যা করে; কিন্তু ভুলক্রমে। যে ব্যক্তি মুসলমানকে ভূলক্রমে হত্যা করে, সে একজন মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে এবং রক্ত বিনিময় সমর্পন করবে তার স্বজনদেরকে; কিন্তু যদি তারা ক্ষমা করে দেয়। অতঃপর যদি নিহত ব্যক্তি তোমাদের শত্রু সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয়, তবে মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে এবং যদি সে তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয়, তবে রক্ত বিনিময় সমর্পণ করবে তার স্বজনদেরকে এবং একজন মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে। অতঃপর যে ব্যক্তি না পায়, সে আল্লাহর কাছ থেকে গোনাহ মাফ করানোর জন্যে উপর্যুপুরি দুই মাস রোযা রাখবে। আল্লাহ, মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। সূরা নিসা - ৪: ৯২
তার মানে কেউ যদি অন্য কাউকে খুন করে ফেলে তাহলে তার পরিবর্তে একটা দাস মুক্তি দিলেই সে হত্যার অপরাধ থেকে মুক্তি পাবে। দাস মালিকদের হত্যা গুনাহ থেকে রক্ষা করার এক অপূর্ব নিদর্শন আল্লাহর তরফ থেকে বলাবাহুল্য। উক্ত আয়াত থেকে দেখা যাচ্ছে - ক্রীতদাস মুসলমানও হতে পারে। এছাড়াও দেখা যায় , কেউ শপথ করে তা রক্ষা করতে না পারলে , তা থেকে মুক্তির সহজ একটা পথ আল্লাহ বাতলাচ্ছে, দাস মুক্তির মাধ্যমে :
আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না তোমাদের অনর্থক শপথের জন্যে; কিন্তু পাকড়াও করেন ঐ শপথের জন্যে যা তোমরা মজবুত করে বাধ। অতএব, এর কাফফরা এই যে, দশজন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করবে; মধ্যম শ্রেনীর খাদ্য যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে দিয়ে থাক। অথবা, তাদেরকে বস্তু প্রদান করবে অথবা, একজন ক্রীতদাস কিংবা দাসী মুক্ত করে দিবে। যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন রোযা রাখবে। এটা কাফফরা তোমাদের শপথের, যখন শপথ করবে। তোমরা স্বীয় শপথসমূহ রক্ষা কর এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। সূরা মায়েদা - ৫: ৮৯
সুতরাং দাস দাসী ক্রয় করে অথবা যুদ্ধের মাধ্যমে বন্দি করে দাস দাসী অধিকার করার মধ্যে অনেক ফজিলত নিহিত । সময়ে সময়ে বিভিন্ন গুহাহের কাজ করার পর তাদেরকে মুক্তি দিলে গুনাহ মাফ। পরে আবার যুদ্ধ করে বা বাজার থেকে নতুন করে দাস সংগ্রহ করে নিলেই হলো নতুন গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসাবে।
তবে সব সময় যে নবী দাস-দাসী মুক্ত করে পূন্য অর্জনের জন্য উৎসাহিত করতেন , সেটা ঠিক না। অকারনে দাস-দাসী মুক্ত করার পক্ষপাতী তিনি ছিলেন না। যেমন দেখা যায় :
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৩ :: অধ্যায় ৪৭ :: হাদিস ৭৬৫
ইয়াহইয়া ইব্ন বুকায়র (রঃ)........... মায়মূনা বিনত হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) এর অনুমতি না নিয়ে তিনি আপন বাদীকে আযাদ করে দিলেন। তারপর তার ঘরে নবী (সাঃ) এর অবস্থানের দিন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ ! আপনি কি জানেন আমি আমার বাদী আযাদ করে দিয়েছে? তিনি বললেন, তুমি কি তা করেছ ? মায়মূনা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, শুনো ! তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করতে তাহলে তোমার জন্য তা অধিক পুণ্যের হত। অন্য সনদে বাকর ইব্ন মুযার (রঃ) ............. কুবায়ব (র) থেকে বর্ণিত যে, মায়মুনা (রাঃ) গোলাম আযাদ করেছেন।
অর্থাৎ মুক্ত না করে আত্মীয় স্বজনকে দান করে দেয়া যায়।
আমাদের নবী নিজেই স্বয়ং নারী - শিশু বন্দি করে দাস- দাসী বানাতেন এবং তাদের মধ্য থেকে সুন্দরী নারীদেরকে গণিমতের মাল হিসাবে নিজের ভাগে নিতেন , সেটা দেখা যায় :
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৯ :: হাদিস ৫১২
সুলায়মান ইবন হারব (র) ...... আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) খায়বারের নিকটবর্তী এক স্থানে প্রত্যুষে সামান্য অন্ধকার থাকতেই ফজরের নামায আদায় করলেন। তারপর আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করে বললেন, খায়বার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা যখনই কোনো গোত্রের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছি তখনই সতর্ককৃত সেই গোত্রের সকাল হয় অশুভ রুপ নিয়ে। এ সময়ে খায়বার অধিবাসীরা (ভয়ে) বিভিন্ন অলি-গলিতে গিয়ে আশ্রয় নিতে আরম্ভ করল। নবী (সা) তাদের মধ্যেকার যুদ্ধে সক্ষম লোকদের হত্যা করলেন। আর শিশু (ও মহিলাদের)-দের কে বন্দী করলেন। বন্দীদের মধ্যে ছিলেন সাফিয়্যা [বিনত হুইয়াই (রা)] প্রথমে তিনি দাহইয়াতুল কালবীর অংশে এবং পরে নবী (সা)-এর অংশে বন্টিত হন। নবী (সা) তাঁকে আযাদ করত এই আযাদীকে মোহর ধার্য করেন (এবং বিবাহ করে নেন)। আবদুল আযীয ইবনু সুহায়ব (র) সাবিত (র) কে বললেন, হে আবু মুহাম্মদ! আপনি কি আনাস (রা)—কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, নবী (সা) তাঁর [সাফিয়্যা (রা)-এর] মোহর ধার্য করেছেন? তখন সাবির (রা) ‘হাঁ-সূচক’ ইঙ্গিত করে মাথা নাড়লেন।
পরে অবশ্য সাফিয়াকে নবী বিয়ে করেন। কিন্তু প্রথমে তিনি সাফিয়াকে দাহিয়া কালবির কাছ থেকে নিয়ে নেন তার সৌন্দর্য ও আকর্ষণীয় দেহ বল্লরীর কারনে। আমাদের নবী নারীর রূপ ও সৌন্দর্যের কদর করতেন।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে মাঝে মাঝে কিছু পূন্য অর্জন বা হত্যা খুনের অপরাধ থেকে রক্ষা পাওয়া ছাড়া দাস দাসী মুক্তি দেয়ার কোন উদাহরন নেই। আর এটাকে কোনভাবেই দাস মুক্তির বিধান বলে না। কোরান বা হাদিসের কোথাও নেই যে - আল্লাহ বা মোহাম্মদ বলছেন - অদ্য হতে সকল দাস মুক্ত করে দেয়া হলো , অত:পর মানব জাতির মধ্যে কোন দাস প্রথা বিরাজমান থাকবে না। যেমনটা আমরা অন্য অনেক বিষয়ে কোরান হাদিসে সরাসরি নির্দেশ দেখতে পাই। কিভাবে কাফের নাস্তিক, অমুসলিমদেরকে আক্রমন করে তাদেরকে মেরে কেটে সাফ করে , তাদের সম্পদ গণিমতের মাল হিসাবে বন্টন করে নিতে হবে , তাদের শিশু ও নারীদেরকে কিভাবে দাস- দাসী হিসাবে ভাগ বন্টন করে নিতে হবে , সেসবের সুস্পষ্ট নির্দেশ কোরান হাদিসে আছে , কিন্তু দাস প্রথা উচ্ছেদের কোনই বিধান কোরান হাদিসে নাই।
ইসলামে দাস প্রথার বিলোপের কোন বিধান না থাকায়ই পরবর্তীতে দেখা গেছে , মুসলমানরা যেসব দেশ দখল করেছে , তারা ব্যাপকভাবে নর-নারী বন্দি করে দাস হিসাবে ব্যবহার করেছে , তাদেরকে বিক্রি করেছে , নারীদেরকে ধর্ষণ করেছে। এবং এখনও আাফ্রিকার কিছু কিছু মুসলমান দেশে গোপনে দাস প্রথা চালু আছে আর এটাকে তারা অন্যায়ও মনে করে না। এই তো সেদিন , নাইজেরিয়াতে বোকো হারাম পশ্চিমা শিক্ষা গ্রহনকারী ২০০ এর বেশী ছাত্রীকে মুনাফেক গণ্য করে তাদেরকে অপহরন করে , অত:পর গণিমতের মালের মত দাসী বানিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। এই খবর সারা বিশ্বে সাড়া জাগিয়েছে। বোকো হারামের নেতা স্বদম্ভে ঘোষনা করেছে - আল্লাহই তাকে উক্ত বন্দিনী মেয়েদেরকে বিক্রি করতে বলেছে।
দাস প্রথার অভিশাপ থেকে মানব জাতিকে রক্ষা করেছে ইসলামের কাছে কাফির , ইহুদি ,নাসারা কথিত মানুষদের দ্বারাই। আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলামের দ্বারা বা তার অনুসারী মুসলমানদের দ্বারা নয়। অর্থাৎ আল্লাহ চায় নাই দাস প্রথা মানব জাতি থেকে উচ্ছেদ হোক। ইসলাম তাই দাস প্রথাকে চিরন্তন প্রথা হিসাবে স্বীকার করে তার ব্যাপারে কোন কিছুই বলে নি। কারন সেটাই আল্লাহর ইচ্ছা। অবশ্য খালি ইসলাম না , ইহুদি খৃষ্টান হিন্দু ইত্যাদি ধর্মও দাস প্রথা উচ্ছেদের ব্যাপারে কোন পরিস্কার বিধান কোথাও জারি করে নি। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে এইসব ধর্মের তথাকথিত ঈশ্বর দাস প্রথাকে চিরন্তন প্রথা হিসাবে চালু রাখার পক্ষপাতী ছিল। কিন্তু কাফির নাস্তিক নাসারারা বরং সেটা হতে দেয় নি। এরা কিভাবে কখন দাস প্রথা বাতিল করে তা বাস্তবায়ন করেছে তার বিস্তারিত বিবরন আছে নিচের সাইটে :
উক্ত তালিকা থেকে দেখা যায় , সর্ব শেষে যারা দাস প্রথাকে উচ্ছেদ করেছে তাদের মধ্যে একমাত্র ভুটান বাদে সবাই মুসলিম দেশ আর তাদের মধ্যে প্রায় সর্বশেষে যারা এটাকে উচ্ছেদ করেছে সে হলো ইসলামের সুতিকাগার সৌদি আরব :
1948: UN Article 4 of the Declaration of Human Rights bans slavery globally.[70]
1952: Qatar abolishes slavery.
1958: Bhutan abolishes slavery.
1960: Niger abolishes slavery (though it was not made illegal until 2003).
1962: Saudi Arabia abolishes slavery.
1962: Yemen abolishes slavery.
1963: The United Arab Emirates abolishes slavery.
1970: Oman abolishes slavery.
1981: Mauritania abolishes slavery.
আর এরা আসলে দাস প্রথা উচ্ছেদ করতে চায় নি , বরং বাধ্য হয়েই করেছে সেটা বোঝা যায় ১৯৪৮ সালের জাতি সংঘের মানবিক অধিকারের ঘোষনা থেকে। এরা কেন দাস প্রথা উচ্ছেদ করতে চায় নি ? কারন হলো ইসলাম দাস প্রথা উচ্ছেদ করে নি। আর তাই আরব আফ্রিকার মুসলমান দেশগুলো অবশেষে বাধ্য হয়ে দাস প্রথা উচ্ছেদ করেছে।অর্পা মুসাইসি.... আপনি যতগুলো কথা বললেন, তার রেফারেন্স দেন। আর আয়াতের ব্যাখ্যা ভুুল দিয়েছেন। সঠিকহল যে... দুনিয়াতে সব চাইতে বর্বর , নির্মম ও নিষ্ঠুর যে প্রথা মানব সমাজে প্রচলিত ছিল , দাসপ্রথা ছিল সবার ওপরে।এই একবিংশ শতাব্দীতে বসে কল্পনাও করা যাবে না সেই দাস প্রথা কতটা অমানবিক ও ভয়াবহ ছিল। বিভিন্ন ইসলামি বিতর্কে ইসলামী চিন্তাবিদরা দাবী করে , ইসলাম নাকি দাস প্রথা রদ করেছে। এবার দেখা যাক বিষয়টা আসলে কি ।
কার সাথে যৌন কাজ করা যাবে সে সম্পর্কে কোরান বলেছে :
হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন-- সূরা আহযাব- ৩৩: ৫০
এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। সূরা আল মুমিনুন- ২৩: ৫-৬
দাস প্রথা চালু থাকলে বা রাখলেই দাসীর প্রসংগ আসে , আর আসে তাদেরকে যৌনভাবে উপভোগ করা যাবে কি না- এ প্রশ্ন। পরম করুনাময় আল্লাহ তার যৌনকাতর বান্দার অসুবিধা দুর করার জন্য তাই অকাতরে দাসীদের সাথে যৌন কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছে। তবে আল্লাহ একটা বিষয়ে বেশ কঠোর , তা হলো দাসীদের সাথে যত ইচ্ছা যৌন আনন্দ কর , সমস্যা নাই, তবে তাদেরকে দিয়ে বেশ্যাবৃত্তি করান যাবে না , যেমন :
তোমাদের দাসীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের লালসায় তাদেরকে বেশ্যাবৃত্তিতে বাধ্য কারো না। যদি কেহ তাদের উপর জোর-জবরদস্তি করে, তবে তাদের উপর জোর-জবরদস্তির পর আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সূরা আন নুর - ২৪: ৩৩
তার মানে দাসীর মালিক যত ইচ্ছা খুশী তার সাথে যৌন কাজ করুক সমস্যা নাই , শুধু তাদেরকে দিয়ে বেশ্যাবৃত্তি করান যাবে না , এটা দাসীদের প্রতি আল্লাহর বিরাট করুনার একটা উদাহরন।
যুদ্ধে বন্দিনী নারীরাও আসলে দাসী হিসাবে ইসলামে গন্য হবে ও তাদের সাথে যৌন কাজ করতে আল্লাহ অনুমতি দিচ্ছে এমন কি যদি তাদের স্বামীরা বেঁচেও থাকে, আর সেসব স্বামীর সামনেই তাদের সাথে যৌন কাজ করতে পরম করুনাময় আল্লাহ তার বান্দাদেরকে অনুমতি দিচ্ছে , কারন আল্লাহ তার যৌনকাতর বান্দার প্রতি বড়ই করুনাময় , যেমন :
এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ। সূরা নিসা - ৪: ২৪
এখানে উক্ত -এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। দ্বারা বুঝাচ্ছে , যে মুসলমানদের কোন বিবাহিতা নারীর সাথে যৌন কাজ করা যাবে না , তবে যাদেরকে দক্ষিন হস্ত দ্বারা অধিকার করা হয়েছে অর্থাৎ ক্রয় বা যুদ্ধের মাধ্যমে দখল করা হয়েছে যে সব নারীকে তাদের সাথে যৌন কাজ করা যাবে। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা দেখা যায় হাদিসে :
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪৩২
উবায়দুল্লাহ ইবন উমর ইবন মায়সারা কাওয়ারীরী (র)......।আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা) হুনায়নের যুদ্ধের সময় একটি দল আওতাসের দিকে পাঠান । তারা শক্রদলের মুখোমুখী হয়েও তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয় । এদের মধ্য থেকে বন্দিনী নারীদের সাথে সহবস করা রাসুলুল্লাহ (সা) -এর কয়েকজন সাহাবী যেন না জায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে । আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভূক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধ্বা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ-, অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, (কোরান-৪:২৪) যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ন করে নিবে ।
তার মানে দেখা যাচ্ছে বন্দিনী নারীদের স্বামী বেঁচে থাকার কারনে সাহাবীরা উক্ত নারীদের সাথে যৌন কাজ করতে ইতস্তত বোধ করছিল। মনে হয় প্রচলিত মানবিক বোধ থেকে। কিন্তু আল্লাহ তাদের এ মানবিক বোধকে গুরুত্ব দেয় নি। কারন আল্লাহর কাছে মানবিকতার ভিন্ন সংজ্ঞা আছে। আর তাই সে সাহাবীদেরকে অনুমতি দেয় , যেমন খুশী বন্দিনী নারীদেরকে ভোগ করা যাবে, কোন সমস্যা নাই। আর আমাদের দ্বীনের নবীও সাথে সাথে দেরী না করে তার সাহাবিদেরকে হুকুম দিলেন - বন্দিনী নারীদেরকে ভোগ কর।
বন্দিনী নারীদের সাথে যৌন কাজ করার আরও বহু হাদিস আছে । যেমন :
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৩৭১
ইয়াহইয়া ইবন আবু আয়্যুব, কুতায়বা ইবন সাঈদ ও আলী ইবন হুজর (র)......ইবন মাহায়রিয (র) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি এবং আবু সিরমাহ আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর নিকট গেলাম । আবু সিরমাহ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবু সাঈদ ! আপনি কি রাসুলুল্লাহ (সা) -কে আযল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যা আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) -এর সাথে বনূ মত্তালিকের যুদ্ধ করছি । সে যুদ্ধে আমরা অনেক ভাল ভাল আর সুন্দরী বাঁদী ( যুদ্ধ বন্দিনী নারী) হিসেবে লাভ করি । এদিকে আমরা দীর্ঘকাল স্ত্রী সংস্পর্শ বর্জিত ছিলাম । অন্যদিকে আমরা ছিলাম সম্পদের প্রতি অনুরাগী । এমতাবস্হায় আমরা বাদীদের দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল করার এবং আযল করার ইচ্ছা করলাম । কিন্তু আমরা এ কথাও আলোচনা করলাম যে, আমরা কি এ কাজ করতে যাব, অথচ রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদের মধ্যে উপস্হিত রয়েছেন । তাঁর নিকট আমরা এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করব না! তাই আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) -কে জিজ্ঞাসা করলাম । তিনি বললেনঃ ঐ কাজ না করাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই । কেননা, আল্লাহ পাক কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ সৃষ্টি করার কথা লিখে রেখেছেন সে সব মানুষ সৃষ্টি হবেই ।
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৩৭৩
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আসমান যুবায়ী (র)......আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমরা কিছু সংখ্যক যুদ্ধ বন্দিনী লাভ করেছিলাম । (তাদের সাথে) আমবা আযল করছিলাম । এরপর আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) -কে জিজ্ঞাসা করলাম । তিনি আমাদের বললেন, অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে । অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে । অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে । (বিনয় প্রকাশ করে বললেন) বস্তুত কিয়ামত পর্যন্ত যত প্রানা সৃষ্টি হওয়ার তা সৃষ্টি হবেই ।
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৩৮৩
আহমাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইউনুস (র)......জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা) -এর কাছে এসে বলল, আমার একটি দাসী আছে যে আমাদের খিদমত ও পানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত । আমি তার নিকট আসা যাওয়া করে থাকি, কিন্তু সে গর্ভবতী হোক তা আমি পসন্দ করি না । তখন তিনি বললেন, তুমি ইচ্ছে করলে তার সাথে আযল করতে পার । তবে তার তাকদীরে সন্তান থাকলে তা তার মাধ্যমে আসবেই । কিছু দিন অতিবাহিত করল । তারপর সে রাসুলুল্লাহ (সা) -এর কাছে এসে বলল, দাসীটি গর্ভবতী হয়েছে । তিনি বললেন, আমি তোমাকে এ মর্মে জানিয়ে ছিলাম যে, তার তাকদীরে যা আছে তা আসবেই ।
নবীর স্বীয় জামাতা , ৪র্থ খলিফা আলীও খুব আনন্দের সাথে বন্দিনী নারীদের সাথে যৌন কাজ করত, যেমন :
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৯ :: হাদিস ৬৩৭
হযরত মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রঃ)......... হযরত বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আলী (রাঃ) কে খুমুস (গনীমতের এক পঞ্চমাংশ) নিয়ে আসার জন্য খালিদ (রাঃ) এর কাছে পাঠালেন। (রাবী, বুরায়দা বলেন, কোন কারনে) আমি আলী (রাঃ) এর প্রতি নারাজ ছিলাম, আর তিনি গোসলও করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর কাছে ফিরে আসলে আমি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন, হে বুরায়দা! তুমি কি আলীর প্রতি অসন্তুষ্ট? আমি উত্তর করলাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার উপর অসন্তুষ্ট থেকোনা। কারন খুমসের ভিতরে তার প্রাপ্য অধিকার এ অপেক্ষাও বেশি রয়েছে।১
১) হযরত বুরায়দা (রাঃ) আলী (রাঃ) এর প্রতি নারাজ হয়ে যাওয়ার কারন ছিলো: তিনি দেখেছেন যে, আলী কয়েদীদের মধ্যে থেকে একজন বাঁদীকে নিজের জন্য নির্বাচন করে নিয়েছিলেন। এবং আলীর শেষ রাতের গোসল এবং বাঁদীর চুল থেকে পানির ফোঁটা টপকানো দেখে তিনি উভয়ের একত্রে রাত্রি যাপনেরও সন্দেহ করলেন। অথচ এখনো রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) সেই গনীমত মুজাহিদদের মধ্যে বন্টন করে দেননি। পরে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) কে জানানো হলে তিনি বুরায়দাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আলীকে গনীমত বন্টন করে দেয়ার হুকুমও দেয়া হয়েছিলো।
এছাড়াও আল্লাহ দাস-দাসীর মালিকদের প্রতি বেশ করুনাময়। সেটা হলো যদি কোন দাস দাসীকে মুক্তি দেয়া হয় সেটা মালিকের জন্য পূন্য অর্জনের উপায় , যেমন কোরানে আছে :
মুসলমানের কাজ নয় যে, মুসলমানকে হত্যা করে; কিন্তু ভুলক্রমে। যে ব্যক্তি মুসলমানকে ভূলক্রমে হত্যা করে, সে একজন মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে এবং রক্ত বিনিময় সমর্পন করবে তার স্বজনদেরকে; কিন্তু যদি তারা ক্ষমা করে দেয়। অতঃপর যদি নিহত ব্যক্তি তোমাদের শত্রু সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয়, তবে মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে এবং যদি সে তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয়, তবে রক্ত বিনিময় সমর্পণ করবে তার স্বজনদেরকে এবং একজন মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে। অতঃপর যে ব্যক্তি না পায়, সে আল্লাহর কাছ থেকে গোনাহ মাফ করানোর জন্যে উপর্যুপুরি দুই মাস রোযা রাখবে। আল্লাহ, মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। সূরা নিসা - ৪: ৯২
তার মানে কেউ যদি অন্য কাউকে খুন করে ফেলে তাহলে তার পরিবর্তে একটা দাস মুক্তি দিলেই সে হত্যার অপরাধ থেকে মুক্তি পাবে। দাস মালিকদের হত্যা গুনাহ থেকে রক্ষা করার এক অপূর্ব নিদর্শন আল্লাহর তরফ থেকে বলাবাহুল্য। উক্ত আয়াত থেকে দেখা যাচ্ছে - ক্রীতদাস মুসলমানও হতে পারে। এছাড়াও দেখা যায় , কেউ শপথ করে তা রক্ষা করতে না পারলে , তা থেকে মুক্তির সহজ একটা পথ আল্লাহ বাতলাচ্ছে, দাস মুক্তির মাধ্যমে :
আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না তোমাদের অনর্থক শপথের জন্যে; কিন্তু পাকড়াও করেন ঐ শপথের জন্যে যা তোমরা মজবুত করে বাধ। অতএব, এর কাফফরা এই যে, দশজন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করবে; মধ্যম শ্রেনীর খাদ্য যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে দিয়ে থাক। অথবা, তাদেরকে বস্তু প্রদান করবে অথবা, একজন ক্রীতদাস কিংবা দাসী মুক্ত করে দিবে। যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন রোযা রাখবে। এটা কাফফরা তোমাদের শপথের, যখন শপথ করবে। তোমরা স্বীয় শপথসমূহ রক্ষা কর এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। সূরা মায়েদা - ৫: ৮৯
সুতরাং দাস দাসী ক্রয় করে অথবা যুদ্ধের মাধ্যমে বন্দি করে দাস দাসী অধিকার করার মধ্যে অনেক ফজিলত নিহিত । সময়ে সময়ে বিভিন্ন গুহাহের কাজ করার পর তাদেরকে মুক্তি দিলে গুনাহ মাফ। পরে আবার যুদ্ধ করে বা বাজার থেকে নতুন করে দাস সংগ্রহ করে নিলেই হলো নতুন গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসাবে।
তবে সব সময় যে নবী দাস-দাসী মুক্ত করে পূন্য অর্জনের জন্য উৎসাহিত করতেন , সেটা ঠিক না। অকারনে দাস-দাসী মুক্ত করার পক্ষপাতী তিনি ছিলেন না। যেমন দেখা যায় :
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৩ :: অধ্যায় ৪৭ :: হাদিস ৭৬৫
ইয়াহইয়া ইব্ন বুকায়র (রঃ)........... মায়মূনা বিনত হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) এর অনুমতি না নিয়ে তিনি আপন বাদীকে আযাদ করে দিলেন। তারপর তার ঘরে নবী (সাঃ) এর অবস্থানের দিন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ ! আপনি কি জানেন আমি আমার বাদী আযাদ করে দিয়েছে? তিনি বললেন, তুমি কি তা করেছ ? মায়মূনা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, শুনো ! তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করতে তাহলে তোমার জন্য তা অধিক পুণ্যের হত। অন্য সনদে বাকর ইব্ন মুযার (রঃ) ............. কুবায়ব (র) থেকে বর্ণিত যে, মায়মুনা (রাঃ) গোলাম আযাদ করেছেন।
অর্থাৎ মুক্ত না করে আত্মীয় স্বজনকে দান করে দেয়া যায়।
আমাদের নবী নিজেই স্বয়ং নারী - শিশু বন্দি করে দাস- দাসী বানাতেন এবং তাদের মধ্য থেকে সুন্দরী নারীদেরকে গণিমতের মাল হিসাবে নিজের ভাগে নিতেন , সেটা দেখা যায় :
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৯ :: হাদিস ৫১২
সুলায়মান ইবন হারব (র) ...... আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) খায়বারের নিকটবর্তী এক স্থানে প্রত্যুষে সামান্য অন্ধকার থাকতেই ফজরের নামায আদায় করলেন। তারপর আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করে বললেন, খায়বার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা যখনই কোনো গোত্রের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছি তখনই সতর্ককৃত সেই গোত্রের সকাল হয় অশুভ রুপ নিয়ে। এ সময়ে খায়বার অধিবাসীরা (ভয়ে) বিভিন্ন অলি-গলিতে গিয়ে আশ্রয় নিতে আরম্ভ করল। নবী (সা) তাদের মধ্যেকার যুদ্ধে সক্ষম লোকদের হত্যা করলেন। আর শিশু (ও মহিলাদের)-দের কে বন্দী করলেন। বন্দীদের মধ্যে ছিলেন সাফিয়্যা [বিনত হুইয়াই (রা)] প্রথমে তিনি দাহইয়াতুল কালবীর অংশে এবং পরে নবী (সা)-এর অংশে বন্টিত হন। নবী (সা) তাঁকে আযাদ করত এই আযাদীকে মোহর ধার্য করেন (এবং বিবাহ করে নেন)। আবদুল আযীয ইবনু সুহায়ব (র) সাবিত (র) কে বললেন, হে আবু মুহাম্মদ! আপনি কি আনাস (রা)—কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, নবী (সা) তাঁর [সাফিয়্যা (রা)-এর] মোহর ধার্য করেছেন? তখন সাবির (রা) ‘হাঁ-সূচক’ ইঙ্গিত করে মাথা নাড়লেন।
পরে অবশ্য সাফিয়াকে নবী বিয়ে করেন। কিন্তু প্রথমে তিনি সাফিয়াকে দাহিয়া কালবির কাছ থেকে নিয়ে নেন তার সৌন্দর্য ও আকর্ষণীয় দেহ বল্লরীর কারনে। আমাদের নবী নারীর রূপ ও সৌন্দর্যের কদর করতেন।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে মাঝে মাঝে কিছু পূন্য অর্জন বা হত্যা খুনের অপরাধ থেকে রক্ষা পাওয়া ছাড়া দাস দাসী মুক্তি দেয়ার কোন উদাহরন নেই। আর এটাকে কোনভাবেই দাস মুক্তির বিধান বলে না। কোরান বা হাদিসের কোথাও নেই যে - আল্লাহ বা মোহাম্মদ বলছেন - অদ্য হতে সকল দাস মুক্ত করে দেয়া হলো , অত:পর মানব জাতির মধ্যে কোন দাস প্রথা বিরাজমান থাকবে না। যেমনটা আমরা অন্য অনেক বিষয়ে কোরান হাদিসে সরাসরি নির্দেশ দেখতে পাই। কিভাবে কাফের নাস্তিক, অমুসলিমদেরকে আক্রমন করে তাদেরকে মেরে কেটে সাফ করে , তাদের সম্পদ গণিমতের মাল হিসাবে বন্টন করে নিতে হবে , তাদের শিশু ও নারীদেরকে কিভাবে দাস- দাসী হিসাবে ভাগ বন্টন করে নিতে হবে , সেসবের সুস্পষ্ট নির্দেশ কোরান হাদিসে আছে , কিন্তু দাস প্রথা উচ্ছেদের কোনই বিধান কোরান হাদিসে নাই।
ইসলামে দাস প্রথার বিলোপের কোন বিধান না থাকায়ই পরবর্তীতে দেখা গেছে , মুসলমানরা যেসব দেশ দখল করেছে , তারা ব্যাপকভাবে নর-নারী বন্দি করে দাস হিসাবে ব্যবহার করেছে , তাদেরকে বিক্রি করেছে , নারীদেরকে ধর্ষণ করেছে। এবং এখনও আাফ্রিকার কিছু কিছু মুসলমান দেশে গোপনে দাস প্রথা চালু আছে আর এটাকে তারা অন্যায়ও মনে করে না। এই তো সেদিন , নাইজেরিয়াতে বোকো হারাম পশ্চিমা শিক্ষা গ্রহনকারী ২০০ এর বেশী ছাত্রীকে মুনাফেক গণ্য করে তাদেরকে অপহরন করে , অত:পর গণিমতের মালের মত দাসী বানিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। এই খবর সারা বিশ্বে সাড়া জাগিয়েছে। বোকো হারামের নেতা স্বদম্ভে ঘোষনা করেছে - আল্লাহই তাকে উক্ত বন্দিনী মেয়েদেরকে বিক্রি করতে বলেছে।
দাস প্রথার অভিশাপ থেকে মানব জাতিকে রক্ষা করেছে ইসলামের কাছে কাফির , ইহুদি ,নাসারা কথিত মানুষদের দ্বারাই। আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলামের দ্বারা বা তার অনুসারী মুসলমানদের দ্বারা নয়। অর্থাৎ আল্লাহ চায় নাই দাস প্রথা মানব জাতি থেকে উচ্ছেদ হোক। ইসলাম তাই দাস প্রথাকে চিরন্তন প্রথা হিসাবে স্বীকার করে তার ব্যাপারে কোন কিছুই বলে নি। কারন সেটাই আল্লাহর ইচ্ছা। অবশ্য খালি ইসলাম না , ইহুদি খৃষ্টান হিন্দু ইত্যাদি ধর্মও দাস প্রথা উচ্ছেদের ব্যাপারে কোন পরিস্কার বিধান কোথাও জারি করে নি। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে এইসব ধর্মের তথাকথিত ঈশ্বর দাস প্রথাকে চিরন্তন প্রথা হিসাবে চালু রাখার পক্ষপাতী ছিল। কিন্তু কাফির নাস্তিক নাসারারা বরং সেটা হতে দেয় নি। এরা কিভাবে কখন দাস প্রথা বাতিল করে তা বাস্তবায়ন করেছে তার বিস্তারিত বিবরন আছে নিচের সাইটে :
উক্ত তালিকা থেকে দেখা যায় , সর্ব শেষে যারা দাস প্রথাকে উচ্ছেদ করেছে তাদের মধ্যে একমাত্র ভুটান বাদে সবাই মুসলিম দেশ আর তাদের মধ্যে প্রায় সর্বশেষে যারা এটাকে উচ্ছেদ করেছে সে হলো ইসলামের সুতিকাগার সৌদি আরব :
1948: UN Article 4 of the Declaration of Human Rights bans slavery globally.[70]
1952: Qatar abolishes slavery.
1958: Bhutan abolishes slavery.
1960: Niger abolishes slavery (though it was not made illegal until 2003).
1962: Saudi Arabia abolishes slavery.
1962: Yemen abolishes slavery.
1963: The United Arab Emirates abolishes slavery.
1970: Oman abolishes slavery.
1981: Mauritania abolishes slavery.
আর এরা আসলে দাস প্রথা উচ্ছেদ করতে চায় নি , বরং বাধ্য হয়েই করেছে সেটা বোঝা যায় ১৯৪৮ সালের জাতি সংঘের মানবিক অধিকারের ঘোষনা থেকে। এরা কেন দাস প্রথা উচ্ছেদ করতে চায় নি ? কারন হলো ইসলাম দাস প্রথা উচ্ছেদ করে নি। আর তাই আরব আফ্রিকার মুসলমান দেশগুলো অবশেষে বাধ্য হয়ে দাস প্রথা উচ্ছেদ করেছে। ইসলাম কিভাবে দাস প্রথা উচ্ছেদ করল? বা উচ্ছেদ করতে সাহায্য করল ? অথবা ইসলাম কি আদৌ দাস প্রথা উচ্ছেদ সমর্থন করে ? সোজা সাপটা উত্তর- "না"
বরং আল্লাহ পাকের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে দেখুন-
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ 05
এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।
إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ 06
তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।
পারলে কেহ দেখান কোন আয়াত দ্বারা দাস দাসী প্রথা উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমি তহলে অবশ্যই মাথা পেতে মেনে নিব।
শুধু তাই নয়, পূর্ণাঙ্গ ইছলাম পালন করতে গেলে আমাদেরকে রাছুলুল্লাহ ও ছাহাবাদের কালে যা যা প্রচলিত ছিল সবই আমাদের ইছলামিক সংস্কৃতিতিতে আনলে পরে আমরা তবেই পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হওয়ার দাবী করতে পারব। অন্যথায় পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হওয়ার দাবি করা যায়না।
আর তা ছাড়া খোদ কোরানেই যেখানে দাশীকে যৌন সংগিনী করার সমর্থন দিচ্ছে এবং অসংখ্য হাদিছ সাক্ষ্য দেয় যে রাসুলুল্লাহ ও ছাহাবা গন দাস দাশীর সংস্কৃতি চালিয়ে গিয়েছেন-যুদ্ধ বন্দিনীদের সহিত যৌন সংসর্গ চালিয়ে গিয়েছেন এবং কোন আয়াত দ্বারা মানছুখ (রহিত)ও করা হয়নাই।
এটা যদি মুসলমান বা মানব জাতির জন্য কোন অমানবিক বা বর্রর প্রথা হইত, তাহলে মাত্র একটি আয়াত ই যথেষ্ঠ ছিল এটাকে হারাম ঘোষনা করে দেওয়ার জন্য।
আল্লাহ তাহলে স্পষ্ট ভাষায় আয়াত অবতীর্ণ করতেন-
“আজ হতে তোমাদের জন্য দাস-দাসী প্রথা হারাম ঘোষনা করা হইল।“
এর মধ্যে নিশ্চয়ঈ মঙ্গল নিহিত আছে বলে তা আল্লাহ করেন নাই।
আর আপনাদেরকে এটাও দৃঢ় ভাবে ঈমান রাখতে হবে, কোরান শুধু মাত্র তৎকালীন আরবদের মঙ্গলের জন্যই অবতীর্ন হয় নাই।
বরং এটা অবতীর্ণ হয়েছে সুদূর ৫০ লক্ষ বছরের পরের মানব জাতির মঙ্গলের কথা বিবেচনায় রেখেও।
আল্লাহ যেটাকে হারাম ঘোষনা করেন নাই, সেটাকে আমাদের হুট করে হারাম ঘোষনা করার কোনই অধিকার নাই।
কোরানের বানী কী আপনারা ভূলে গিয়েছেন ? "আল্লাহর রাছুলের আদর্শই সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ" ( রেফারেন্সটা এখন দিতে পারছিনা)
অতএব পূর্নাঙ্গ মুসলমান থাকতে গেলে আমাদেরকে আল্লাহ ও রাসুলের সমর্থিত দাস দাসী প্রথাকে উচ্ছেদ করে নয় বরং অবশ্যই পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে ফিরিয়ে আনতে হবে।এইটাই প্রকৃত ইছলাম।
এখানে অসংখ্য ইছলামিক পন্ডিতগন বসে আছেন, কেহ পারলে আমার বক্তব্যকে গালাগালি করে নয়. বরং কোরান হাদিছ হতে যুক্তির মাধ্যমে ঘন্ডন করুন তো?

 ...............................................

 সূরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন,
وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ أَنْ تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُمْ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآَتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا (24)
"নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী তথা কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধে অধিকার করা বন্দিনী ছাড়া সকল সধবা নারী তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ। তোমাদের জন্য এটি আল্লাহর বিধান। উল্লেখিত নারীরা ছাড়া অন্য নারীদের অর্থ ও মোহরানার বিনিময়ে বিয়ে করা তোমাদের জন্য বৈধ। এসব বিয়ের উদ্দেশ্য পবিত্রতা ও সম্ভ্রম রক্ষা অবৈধ যৌন সম্পর্ক নয়। আর যে সব নারীকে তোমরা অস্থায়ীভাবে বিয়ের পর সম্ভোগ করেছ তাদেরকে নির্ধারিত মোহর দেয়া তোমাদের জন্য অবশ্য পালনীয় কতর্ব্য। মোহর নির্ধারনের পর কোন বিষয়ে পরস্পরে রাজী হলে তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। আল্লাহ সর্বজ্ঞ এবং প্রজ্ঞাময়।" (৪:২৪)
পূর্ববর্তী আয়াতের ধারাবাহিকতায় এই আয়াতে আরো দুই ধরনের বিয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং আল্লাহ তা'লা এই দুই ধরনের বিয়েকে বৈধ করে মুমিনদেরকে আল্লাহর বিধান মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। যুদ্ধ মানব সমাজের একটি তিক্ত বাস্তবতা। যুদ্ধে জড়িত উভয় পক্ষের বহু পুরুষ প্রাণ হারায় বলে বহু নারী ও পরিবার অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, যুদ্ধ বিগ্রহের প্রাচীন প্রথায় যুদ্ধ-বন্দীদের রাখার জন্য কোন স্থান বা বিশেষ কারাগার ছিল না বলে পুরুষ যুদ্ধ-বন্দীদেরকে দাস এবং বন্দিনী নারীদেরকে দাসীতে পরিণত করা হত। ইসলাম এই প্রথাকে একতরফাভাবে নিষিদ্ধ না করলেও মুক্তিপণ প্রথার মত বিভিন্ন নিয়মের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে বন্দী মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ইসলাম নারী বন্দিনীদের বিয়ে করাকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। কারণ,তাঁরা এর ফলে স্ত্রী ও মায়ের মর্যাদা পাচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় সে সব নারী বন্দিনীদের ভবিষৎ নিয়ে যাদের স্বামী জীবিত রয়েছে। ইসলাম তাদের বন্দিদশাকে স্বামী থেকে বিচ্ছিন্নতা বা তালাকের মত বলে ধরে নিয়েছে এবং এ ক্ষেত্রেও তারা অন্তসত্ত্বা কিনা তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পুণরায় তাদের বিয়ে করার অনুমতি দেয়নি। বন্দিনী মহিলাদেরকে তাদের নিজেদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেয়া বা তাদের স্বাভাবিক চাহিদার প্রতি গুরুত্ব না দেয়ার চেয়ে ইসলামের এই বিধান বেশী যৌক্তিক ও উন্নত। অন্যদিকে বহু মুসলমান পুরুষও শহীদ হওয়ায় তাদের পরিবারবর্গ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। ইসলাম এই সমস্যা সমাধানের জন্য দুই ধরনের পদ্ধতি পেশ করেছে। একটি হলো, পুরুষদেরকে বহু স্ত্রী রাখার অনুমতি দেয়া। আর দ্বিতীয় বিধান হলো,স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করা এবং তাদের সাথে প্রথম স্ত্রীর মত আচরণ করা। পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত এ ধরনের পরিকল্পনার বিষয়ে আমরা আগেও আলোচনা করেছি।
এই আয়াতে আরো একটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটি হলো,অস্থায়ী বিয়ে। স্থায়ী বিয়ের মত এ বিয়ের চুক্তিকেও আল্লাহ বৈধ এবং শর্তযুক্ত করেছেন। অস্থায়ী বিয়ের সময়সীমা সীমিত বা নির্ধারিত হলেও তা নবায়নযোগ্য। তবে অনেক বুদ্ধিজীবী ও পাশ্চাত্য পন্থী ব্যক্তি ইসলামের এই রীতি তথা অস্থায়ী বিয়েকে উপহাস করে একে মহিলাদের প্রতি অসম্মান বলে মন্তব্য করেছেন। অথচ পাশ্চাত্যে নারী ও পুরুষের সম্পর্কে কোন লাগাম ও নিয়ন্ত্রণ নেই। পাশ্চাত্যে বহু পুরুষের সাথে একজন নারীর অবাধ ও গোপন সর্ম্পককে বৈধ মনে করা হয়। তাহলে কি নারী ও পুরুষের লাগামহীন সম্পর্ক এবং তাদের মধ্যে পাশবিক তাড়নার সম্পর্ক নারী অধিকারের লঙ্ঘন নয়? আর নারী ও পুরুষের সম্পর্ক যদি বিয়ের চুক্তির মত নীতিমালার আওতায় পবিত্র থাকে তা কেন নারীর প্রতি অসম্মান হবে ?
দুঃখজনকভাবে, আল্লাহর এই বিধানের ব্যাপারে ইসলামের প্রাথমিক যুগেই দৃষ্টিভঙ্গীগত মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল এবং অস্থায়ী বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে গোপন সম্পর্ক ও ব্যভিচারের পথ প্রশস্ত হয়। কারণ, অস্থায়ী বিয়ে নিষিদ্ধ করা হলেও মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা বন্ধ হয়ে যায়নি এবং অনেক মানুষ এই চাহিদা মেটানোর জন্য অবৈধ পস্থার আশ্রয় নেয়।
এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো,
প্রথমত : সামাজিক ও পারিবারিক বিষয়ে বাস্তববাদী হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিরুচি বা গোষ্ঠীগত দৃষ্টিভঙ্গীর অনুসরণ না করে আল্লাহর বিধানই মেনে নেয়া উচিত। কারণ, আল্লাহ মানুষের স্রষ্টা ও সর্বজ্ঞ হিসেবে তাদের ব্যক্তিগত এবং সামাজিক চাহিদা সম্পর্কে বেশী অবগত।
দ্বিতীয়ত : বিয়ে স্থায়ী বা অস্থায়ী যাই হোক না কেন, তা নারী ও পুরুষের সম্ভ্রম এবং চারিত্র্যিক পবিত্রতা রক্ষার এক শক্তিশালী দূর্গ।
তৃতীয়ত : বিয়ের মোহরানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সন্তুষ্টিই এর বৈধতার মূল শর্ত। শুধু পাত্র পক্ষই মোহরানা নির্ধারনের অধিকারী নয়।
সূরা নিসার ২৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক বলেছেন-
وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِنْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِكُمْ بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ فَانْكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآَتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ مُسَافِحَاتٍ وَلَا مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ فَإِذَا أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ الْعَنَتَ مِنْكُمْ وَأَنْ تَصْبِرُوا خَيْرٌ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ (25)
"তোমাদের মধ্যে যারা স্বাধীন ও ঈমানদার নারী বিয়ে করার মত আর্থিক সঙ্গতি রাখে না, তারা নিজেদের অধিকারভুক্ত ঈমানদার ক্রীতদাসীদের বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে বেশী জানেন। তোমরা একে অপরের সমান। সুতরাং তাদেরকে বিয়ে করবে তাদের মালিকের অনুমতি নিয়ে। তারা ব্যভিচারী অথবা উপপতি গ্রহণকারিণী না হয়ে সতী-সাধ্বী হয়ে থাকলে তাদের মোহরানা ন্যায় সঙ্গতভাবে দেবে। বিয়ের পর তারা যদি ব্যভিচার করে, তবে তাদের শাস্তি স্বাধীন নারীর অর্ধেক । এ ধরনের বিয়ে তাদের জন্যেই, যারা স্ত্রী না থাকার কারণে পাপে লিপ্ত হতে পারে বলে ভয় করে। কিন্তু ধৈর্য ধরা ও স্বাধীন নারীদের বিয়ে করাই তোমাদের জন্য উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং দয়ালু।" (৪:২৫)
আগের আয়াতে দাসী ও যুদ্ধ বন্দিনী নারীদের বিয়ে করাকে বৈধ বলে উল্লেখের পর এ আয়াতে মোহরানার অর্থ পরিশোধে অক্ষম মুসলিম পুরুষদেরকে যুদ্ধ বন্দিনী নারীদের বিয়ে করতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। এই উভয় শ্রেণীর নারী ও পুরুষ যাতে অনৈতিক পন্থায় জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকে, সে জন্যেই আল্লাহ এ নির্দেশ দিচ্ছেন। উপরন্তু এ ব্যবস্থার ফলে বন্দিনীরা স্বামীহীন অবস্থায় থাকবে না। একটি লক্ষণীয় দিক হলো,ইসলাম যে কোন নারী ও পুরুষের বিয়ের জন্য ঈমানদার হওয়াকে মূল শর্ত বলে উল্লেখ করেছে। এ থেকে বোঝা যায়, যদি কোন ঈমানদার যুবক ও ঈমানদার যুবতি সম্পূর্ণ অপরিচিতও হয় এবং সামাজিক ক্ষেত্রে তারা একই শ্রেণীর নাও হয়ে থাকে তবুও তারা দাস্পত্য জীবনে সুখী হতে পারে। কিন্তু তাদের যদি ঈমানই না থাকে,তাহলে তারা যত সুন্দর বা সুন্দরী এবং অর্থ সম্পদ ও উচ্চ পদের অধিকারী হোক না কেন তাদের সুখ বা সুন্দর জীবনে স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ,সময়ের পরিক্রমায় এসব বাহ্যিক দিকগুলো বিলীন হয়ে যায়।
এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো,
প্রথমতঃ প্রয়োজনে দাসীকে বিয়ে করার বিষয়টি মেনে নেয়া উচিত। কিন্তু পাপের কলঙ্কে লিপ্ত হওয়া কখনও উচিত নয়।
দ্বিতীয়তঃ যারা বিয়ের খরচ বহন করতে অক্ষম,ইসলামে তাদের জন্যেও অচলাবস্থার কোন অবকাশ নেই।
তৃতীয়তঃ বিয়ের মূল ভিত্তি ও এর স্থায়ীত্বের শর্ত হলো, চারিত্রিক পবিত্রতা বজায় রাখা এবং অবৈধ সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা।
চতুর্থতঃ অসৎ চরিত্রের লোকেরা সমাজেও অসৎ কাজের বিস্তার ঘটায়। এইসব লোকদেরকে আল্লাহ পরকালে কঠোর শাস্তি দিবেন। এ ধরনের অসৎ লোকদের এ পৃথিবীতেও শাস্তি দেয়া উচিত, যাতে তাদের দেখে অন্যরাও শিক্ষা পেতে পারে।