পরোপকারেই পরম তৃপ্তি

কল্যাণকর কাজ, পরোপকার ও ভালো কাজের ফলাফল শুভ হয়। অনুগ্রহকারী ব্যক্তি সর্বপ্রথম নিজেই নিজের অনুগ্রহ দ্বারা উপকৃত হন। তার হৃদয়-মন আত্মতৃপ্তি ও প্রশান্তিতে ভরে যায়। সুতরাং আপনি কখনও কোনো পেরেশানী কিংবা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে অন্যদের জন্য কোনো না কোনো ভালো কাজ করুন। অন্যদের সাহায্য-সহযোগিতা করুন। এতে আপনি মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক পরিতৃপ্তি লাভ করবেন। কোনো বঞ্চিতকে দান করুন, অত্যাচারিতকে সাহায্য করুন, কাউকে তার বিপদ মানসিক প্রফুল্লতা ও সৌভাগ্য আপনাকে ঘিরে ধরবে। কল্যাণকর কাজ সুগন্ধির ন্যায়। এর উৎপাদনকারী, ক্রেতা, বিক্রেতা সকলেই এর দ্বারা উপকৃত হয়। আপনার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও আপনার জন্য সদকা। চেহারার অন্ধকার ও উদাসীনতা অন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-ঘোষণার শামিল; যার অশুভ পরিণতির কথা একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন। এক বেশ্যা নারী পিপাসায় কাতর এক কুকুরকে পানি পান করানোর বিনিময়ে জান্নাতের হকদার হয়ে গেছে। কারণ, দো-জাহানের মালিক মহান আল্লাহ রববুল আলামীন অতিশয় ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তিনি নিজে অনুগ্রহ করেন এবং যারা অনুগ্রহ করে তাদেরকে ভালোবাসেন। তিনি প্রসংশিত। তিনি অমুখাপেক্ষী । অতএব, ভয়-ভীতি, হতাশা ও নৈরাশ্য যাদেরকে সংকুচিত করে রেখেছে, তাদের উচিত নেকী ও কল্যাণের পথে --- আসা; অন্যদেরকে দান-সদকা ও সাহায্য-সহযোগিতা করা। আর এভাবেই আপনি আপনার কাজিহ্মত সুখ পেয়ে যাবেন যে কারও প্রতি অনুগ্রহ করে] তার প্রতি কারও অনুগ্রহের প্রতিদানে নয়; কেবল তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টির প্রত্যাশায়, সে অচিরেই সন্তুষ্টি লাভ করবে।

লেখক : শেইখ ড. আয়িদ আল ক্বরনীর
বই : লা তাহযান বা হতাশ হবেন না
পাঠ নং : ১২-পরোপকারেই পরম তৃপ্তি
প্রকাশন : হুদহুদ
( চলবে ইনসাআল্লাহ )

No comments:

Post a Comment