আল্লাহর যিকিরেই আত্মা শান্তি পায়

জেনে রেখো! আল্লাহর যিকিরেই আত্মা শান্তি পায়। [সূরা রা'দ : ২৮] সততা আল্লাহর প্রিয়। দ্ব্যর্থহীনতা আত্মার সাবান। অধিক সাওয়াব লাভ ও আত্মার শান্তির জন্য যিকিরের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। ‘তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। [সূরা বাকারা : ১৫২] আল্লাহর যিকির দুনিয়ার জান্নাত। যে এতে প্রবেশ করবে না, সে আখেরাতের জান্নাতেও প্রবেশ করবে না। যিকিরের মাধ্যমে অন্তর দুশ্চিন্তা, পেরেশানী ও অস্থিরতা থেকে মুক্তি লাভ করে। বরং যিকির হচ্ছে যাবতীয় কামিয়াবী ও সফলতার সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথ । ঐশী বাণী পড়–ন, তা হলেই আপনি এর উপকারিতা জানতে পারবেন। পরীক্ষা করে দেখুন, আপনি মুক্তি পাবেন। মহান আল্লাহর যিকিরের কারণে ভয়-ভীতি ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মেঘ কেটে যাবে। নৈরাশ্য ও হতাশা দূর হয়ে যাবে। যারা যিকির করেন তারা প্রশান্তি লাভ করেন, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কেননা, এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক। বরং আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, যারা যিকির করে না, তারা বেঁচে আছে কীভাবে? ‘তারা মৃত, জীবিত নয় এবং কবে পুনরুত্থিত হবে তা জানে না। [সূরা নাহল : ২১] ওহে! যার রাতে ঘুম আসে না! দুশ্চিন্তাও পেরেশানীতে যিনি নিমজ্জিত! যিনি বিপদ-আপদ ও বালা-মসিবতে নিপতিত! আল্লাহর নাম স্মরণ করুন। ‘তুমি কি তার সমগুণসম্পন্ন কাউকে জান? [সূরা মারইয়াম : ৬৫] আপনি আল্লাহকে যে পরিমাণ ডাকবেন, আপনার আত্মা সে পরিমাণই প্রশান্তি লাভ করবে। কারণ, আল্লাহর যিকিরের অর্থই হচ্ছে তার উপর ভরসা করা; তার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া; তার প্রতি সু-ধারণা পোষণ করা এবং তার পক্ষ থেকে বিজয়ের অপেক্ষায় থাকা। যখন তাকে আহবান করা হয়, তখন তিনি অতি নিকটেই থাকেন। তিনি বান্দার আহবানে সাড়া দেন। সমস্যার সমাধান করেন। তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করুন। তার ভয় অন্তরে পোষণ করুন। তার সামনে মাথা নত করুন। জ্বিহবাকে তার যিকিরে সিক্ত রাখুন। একত্ববাদের উপর অটল থাকুন। দোয়া-প্রশংসা ও ইস্তিগফার বেশি বেশি করুন। দেখবেন, ইনশাআল্লাহ আপনি সুখ, শান্তি ও সৌভাগ্য লাভ করবেন। ‘অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার সাওয়াব দান করেছেন এবং যথার্থ আখেরাতের সাওয়াব।'[সূরা আলে ইমরান : ১৪৮]

লেখক : শেইখ ড. আয়িদ আল ক্বরনীর
বই : লা তাহযান বা হতাশ হবেন না
পাঠ নং : ২১-আল্লাহর যিকিরেই আত্মা শান্তি পায়
প্রকাশন : হুদহুদ
( চলবে ইনসাআল্লাহ )

No comments:

Post a Comment