ভৌগলিক সীমানায় বাংলাদেশের একপ্রান্ত হলো টেকনাফ। টেকনাফের নাফ নদীর ওপারে সীমান্ত রাষ্ট্র মায়ানমার। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যটির অবস্থান শুরু এখান থেকে। রাখাইন রাজ্যের পূর্বনাম "আরাকান"। বিশ্ব মুসলিমের কাছে 'আরাকান' রাজ্যটি চেচনিয়া, বসনিয়া, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিনের মতোই পরিচিত একটি মজলুম জনপদের নাম। যুগ যুগ ধরে এ পাহাড়ি জনপদে চলে আসছে মুসলমানদের উপর বর্বর নির্যাতন ও নিপীড়ন। নতুন করে ২০১৬ সালের শেষকাল হতে আবারো শুরু হয় মুসলিম নিধন। এখনো চলছে জালাও-পোড়াও, হত্যাযজ্ঞ।
মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ নামক নরপশুদের অঘোষিত ক্রুসেড এবং আমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে গর্জে উঠে বিশ্ব বিবেক-মুসলিম। মানবতার টানে দেশান্তরি বা আগত মজলুম-মুস্তাযআফিনদের পাশে এসে দাঁড়ান অনেকেই, যার যার অবস্থান হতে । সবার সাথে এক কোনে দাঁড়াতে, আমরাও সিদ্ধান্ত নেই। রোহিঙ্গা নির্যাতিত ভাই-বোনদের সাহায্যার্থে আমরাও শুরু করি প্রাথমিক প্রচারণা। "শায়খুল কুররা মাওলানা আলী আকবর সিদ্দীক রাহ. ফাউন্ডেশন"-এর ব্যানারে পেশ করা হয় একটি মানবিক আবেদন। সাড়া দেন অনেকেই দেশ-বিদেশ হতে। গঠন হলো ত্রাণ তহবিল। জমা হলো কিছু নগদ অর্থ ও বস্ত্রসামগ্রী।
প্রথমধাপে বর্তমান তহবিল যা আছে তা পাঠিয়ে দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর মাশওয়ারা হয়। নির্ধারণ হলো বাহক। ঠিক করা হলো স্থানীয় রাহবার। সিদ্ধান্তমতে আমি ইমদাদুল হক নোমানী, ফাউন্ডেশনের জীবন সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও Haris Uddin ভাই ৭ জানুয়ারি পৌঁছাই চট্টগ্রাম। সেখানে মিলিত হন হেফাজতে ইসলামের ত্রাণ তহবিল কার্যক্রমের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হাফেজ Aslam Bin Zahir। শুরু হলো বিশেষ মাশওয়ারা। পর্যালোচনা হলো চলমান পরিস্থিতি। পরিকল্পনার ছক হলো আকা। নির্ধারণ হলো কিছু পলিসি। সিদ্ধান্ত হলো বন্ঠনণীতি, কর্মপদ্ধতি সহ আরো অনেক। শুরু হলো এবার যাত্রা। চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার। মনজিল টেকনাফের উখিয়া।
যাত্রীবাহী বাস এস আলম পরিবহন। ৮ মার্ডার খ্যাত বহদ্দারহাট টার্মিনাল ছেড়ে গাড়ি চলছে দ্রুত গতিতে আপন পথে। সামনে কর্ণফুলী ব্রিজ। কিছুদূর আগালে সর্বপরিচিত ও নন্দিত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান 'পঠিয়া।' জীবনের চারটি বসন্তের সুখ-দুখ ও সখ্যতা জড়িত ছিল শাহ আমানতের এ মাটির সাথে। দীর্ঘ এক যুগের পর আবার সেই চট্টলার জমিনে। একদিকে পুরনো স্মৃতি ভেসে ওঠছে হৃদয়ের মণিকোঠায় অন্যদিকে ভাবছি কর্মসম্পাদনের পরিকল্পনায়।
সার্বক্ষণিক চুখে ভেসে উঠছে, একজন রোহিঙ্গা ভায়ের গলাকাটা লাশ! মজলুম বোনের হাত, পা, স্তন বিচ্ছিন্ন নিতর দেহ! শিশুর হাত-পা নিয়ে রসিখেলায় উম্মাদ বৌদ্ধের মাসুম বাচ্চা হত্যার লীলাখেলা! হাত-বা বেধে, বনের ঝুপড়ী দিয়ে জীবন্ত মানুষের সুঠামদেহ অগ্নিহত্যার নমরুদীয় উল্লাস! জ্যান্ত মানুষের চামড়া ছিলে লবন লেপনের বৌদ্ধ কসাইর জানুআরি দৃশ্য! ইজ্জত হারানো টগবগে তরুণীর আর্ত চিৎকার আমার কানে সাইক্লোনের সাইরেন বেজে ওঠছে! মা-বাবা হারানো সন্তান, স্বামী-সন্তান চুখের সামনে জালিমের কতল, কাছের মানুষ আজো নিখোঁজ বিধবা নারীর করুণ আহাজারির বেদনার সূর আমাকে হারিকেন বেগে নিয়ে চলছে প্রতিশোধের রক্তিম সাগরে। সুনামি চলছে হৃদয়ের কন্দরে! দাবানল বইছে পুরো দেহে। বিষাদের উত্তাল তরঙ্গে, গাড়ীর কার্টিজের মায়ায় ঝাঁকুনির তালে তালে এগিয়ে চলা গাড়ীতে হটাৎ সম্বিত ফিরে আসে সিটমেট আসলামের মৃদুগতি ধাক্কায়। তখন আমাদের গাড়ী...
++++
চলবে। তবে সুযোগ পেলে। ঢাকা গাজীপুর যাবার পথে গাড়ীতে লিখছি। মোবাইল বাটন বেচারা কচি হাতের কম্পনকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1402626229770975&set=a.478679952165612.112091.100000708348692&type=3&theater
No comments:
Post a Comment