নাফ নদীর লুনা পানিতে ভেসে আসা জীবনবাজ ছোট্ট শিশু চুখ খুলে খোঁজে পায় না তার বাবা কিংবা মাকে!
মায়ের বুকের দুধ শুকিয়ে যাচ্ছে অনাহারে-অর্ধাহারে।
গর্ভবতী মায়ের দু:সময়ে পাশে নাই তার প্রিয় স্বামী। হয়তো জানাযাবিহীন কবরে; নয়তো ওপারে জালিমদের যিন্দানখানায়!
এপারে অজানা আতংকে জারযী জীবন পার করছে, পলিথিনের ছোট্ট ঝুপড়ি; কাদামাটির ফরশে!
স্বামী, সন্তান হারিয়ে বিধবা নারী বিলাপধ্বনি দিচ্ছে, "আমি কেন হলাম না তাদের সহযাত্রী!"
প্রসব বেদনায় কাতর নতুন সন্তান জন্মদাত্রী মা; চুখের পানি ঝরাচ্ছে সন্তানের জন্ম পরিচয় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে!
ইয়াতিম, নিষ্পাপ শিশুগুলো আগন্তুকদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে অপলক দৃষ্টিতে! কিন্তু খুঁজে পায়না তার পরিচিত মুখ!
এ কনকনে শীতে হাজার হাজার নারী, পুরুষ, শিশু রাতের আঁধারে, খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার পাশে, পাহাড়ের গলিপথে কিংবা গীরিপথে মাসুম বাচ্চা এবং গর্ভবতী মহিলারা দাঁড়িয়ে-বসে দিনাতিপাত করছে, বেঁচে থাকার আশায়। প্রাণরক্ষার জন্যে অপেক্ষা করছে, কোন এক বনি আদমের। যে দিবে একটু হাত বাড়িয়ে....!
।
উখিয়া, কুতুপালং, লেদা, হ্নীলা, টেকনাফসহ কক্সবাজারের রেজিস্টার ও আনরেজিস্টার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর করুণ আহাজারি পুরো এলাকার আকাশ-বাতাসকে ভারি করে ফেলছে। নিজ চুখে না দেখলে অনুভব করা যেমন মুশকিল; তেমনি অনুভূতি প্রকাশ করাটাও কঠিন। পাহাড়-টিলা, নদী-নালা, বস্তি, ক্যাম্পসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মজলুম মুসলমানদের খোঁজখবর নিতে এবং দেশ-বিদেশ হতে প্রাপ্ত ত্রাণ তহবিলের (শায়খুল কুররা মাওলানা আলী আকবর সিদ্দীক রাহ. ফাউন্ডেশন) নগদ টাকা আমানতের সাথে পৌঁছাতে টানা পাঁচদিন চষে বেড়িয়েছি পথে-প্রান্তরে। স্বচক্ষে দেখেছি, শুনেছি এবং জানতে চেষ্টা করেছি আমরা চারজন মুসাফির। খুজে বের করেছি নির্যাতিত অনেককে; ইতিমধ্যে মিডিয়ায় সুবাদে যাদের ছবি আমরা দেখেছি। পাশে দাঁড়িয়েছি, রাখাইন (পূর্ব নাম আরাকান) রাজ্যে হতে আসা বেশ ক'জন আলেম, ছাত্র ও জনপ্রতিনিধির। তিনটি হাসপাতাল ঘুরে সাহায্য প্রদান ও দেখে আসি আহত রোহিঙ্গাদেরে।
আজ, নির্যাতিত মুহাজিরদের রেখে চলে যেতে হচ্ছে ফিরে। তাদের দিকে তাকালে যেতে মন চায় না। কষ্ঠ হচ্ছে। কিন্তু.....। তবে ওয়াদা দিয়েছি, আবারো আসবো তোমাদের পাশে, সামর্থের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায়। আল্লাহর হাওলা!
।
১০ জানুয়ারি মাদরে ইলমীতে (হাটহাজারী মাদ্রাসা) রাত্রিযাপন করলাম। বাদ ফজর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির দায়িত্বশীল উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা ক্বারী জহিরুল হক দা.বা. এর রুমে সকালের নাস্তা সারলাম। হুজুরের উন্নতহৃদয়ে উন্নত নাস্তা পরিবেশনে সাথীরা সবাই মুগ্ধ ও সন্তুষ্ট। খাবারের ফাঁকেফাঁকে সফরের কারগুজারী শোনালাম। আমাদের হেকমত, দূরদর্শী ও বিচক্ষণতায় হুজুর প্রশংসা করলেন। আগামীর জন্য কিছু স্পট এবং জরুরী কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন। আমরা হুজুরের দুয়া নিয়ে বিদায় নিলাম। শাহী গেইটের দিকে আগাচ্ছি। আমাদেরে দেখে অনেক ভাই এগিয়ে এলেন। পরিচয় হলাম। চিরচেনা জামিয়ার গেইট দিয়ে বেরিয়ে বাসষ্টেন্ডের দিকে রওয়ানা। সিলেটগামী এনা বাস সকাল ৯টায়। যথাসময় বাসে ওঠলাম। শাহ আমানত থেকে গাড়ী চলল শাহজালালের রাহ. পূণ্যভূমি সিলেটের পথধরে...
........................
শীঘ্রই আবারো যাচ্ছি আমরা ইনশাআল্লাহ। অপনিও শরীক হতে পারেন মজলুমানদের সাহায্যে, যদি আগ্রহ এবং ইচ্ছা থাকে।
.......................
সফরনামা মুখতাছর করে নিলাম। ইচ্ছা আছে বর্ধিত কলেবরে প্রকাশের। দুয়া চাই সকলের।

No comments:
Post a Comment