বর্তমানে আমরা মানুষের সমালোচনার ভয়, এই ভয়, সেই ভয়ের জাতাকলে অন্তরে অাল্লাহর ভয়টাই উধাও। ভয় পেলে একমাত্র আল্লাহকে ভয় করা বাট আমরা কাকে ভয় পাচ্ছি…? অাল্লাহকে নাকি সমালোচনাকে…? ৯৫পারসেন মানুষ সমালোচনার ভয় করে। মানুষ আপনার সমালোচনা করলে আপনার লাভ বা লছ কী...? এই ভয় নামক মিথ্যা আচ্ছন্নতা, অজ্ঞতা কল্পনার বেরাজাল থেকে বাহির হওয়ার দরকার। মানুষ ভয় পায় কেন? অজ্ঞতা কল্পনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের মনকে প্রভাবিত করলে মানুষ ভয় পায়। কল্পনা মানুষের অচেতনজগেক জাগিয়ে তোলে। এর প্রভাবে মানুষের সত্যদৃষ্টি ও যুক্তিবোধ ক্ষীণ হয়ে যায়। যুক্তিবোধকে পরাজিত করে ভয় নামক মিথ্যা আচ্ছন্নতায় ভরে ওঠে মানুষের মন। এভাবে মানুষের মনে ভয়ের সূচনা হয়। ভয় মানেই মিথ্যা বা অজ্ঞতা।
ভয় কাকে বলে..? ভয় মনের অবচেতন স্তরের একটি বিশেষ মানসিক অবস্থা, যার নির্দিষ্টতা আছে কিন্তু ভয় যখন নির্দিষ্টা অতিক্রম করে একে ভয়রোগ/ ভীতিরোগ/ ফোবিয়া বলে। ভবিষ্যতে কোনো সমালোচনা বা বিপদের আশঙ্কা অথবা বেদনার অনুভুতির আগাম চিন্তা করে মানসিক যে অস্বস্তির সৃষ্টি হয় তা হলো ভয় বা ভীতি। ভয়ের কারণে মানুষ যেকোনো উদ্যোগে দ্বিধাগ্রস্ত হয়, ভয়ের ব্যাপারে অন্যতম মুছলিম দার্শনিক শাহ্ ফরিদ আল-আহমাদী বলেছেন,গোটাসৃষ্টি জগতের ভিতরে সকল প্রানির অন্তরে ভয় নামক অনুভূতি আছে। প্রত্যেক প্রানিই সমালোচনা বা বিপদ আপদকে ভয় পায়। আর এই ভয়টাকে কাজেলাগিয়ে বাবামা তার সন্তান থেকে, শিক্ষক তার ছাত্র থেকে বা একজন ব্যক্তি আরেকজন ব্যক্তিথেকে বিভিন্য কাজ হাসিল করেন এবং এই ভয়জিনিসটাই একটা পরাধিনতার মধ্যে বন্দিকরে রেখেছে আমাকে, আপনাকে ও প্রত্যেকটা মানুষকে। আমরা কতরকমের মিথ্যা ভয় পাই দেখুন..
• সমালোচনার ভয়।
• সিদ্ধান্ত নেয়ার ভয়।
• অকৃতকার্য হওয়ার ভয়।
• উচ্চতা অসুন্দর হওয়ার ভয়।
• সত্যিকার অথবা কল্পিত দেহ সমস্যার ভয়।
• কোন স্থান বা ঘটনার ভয় যেখানে পালানো বা সাহায্য অসম্ভব।
• যৌন নিপীড়নের ভয়।
• তীক্ষ্ন বা ধারালো বস্তুর ভয়।
• ব্যাথ্যার ভয়।
• রাস্তা পারাপারের ভয়।
• মানুষের ভয়।
• মানুষের বা মানুষের সঙ্গী হওয়ার বা এজাতীয় ভয়
• বিদ্যুত চমক বা বাজ পড়ার ভয়।
• এককীত্বের ভয়।
• অনুজীব এবং ব্যকটেরিয়ার ভয়।
• খাবারের প্রতি বিরক্তি বা ভয়।
• বদ্ধ জায়গার ভয়। যেখানে আবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
• ডেন্টিস্ট বা দাঁত সম্মন্ধীয় ব্যাপারে ভয়।
• কোন কিছু হারানো বা মুক্ত হওয়ার ভয়।
• বমি করার ভয়।
• কাজের ভয় যেমন সার্জনের সার্জারির অপারেশনের ভয়।
• যৌন বা ভালবাসা সম্মন্ধীয় প্রশ্নের ভয়।
• কৌতুক করা বা হাসাহাসি করার ভয় (নিজেকে নিয়ে)
• নগ্নতার ভয়
• ফোন ধরা বা কথা বলার ভয়।
• সন্তান জন্মদানের ভয়।
• আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ভয়।
• সূচ বা ইনজেকশনের ভয়।
• কর্মক্ষেত্রের ভয়।
• বিদেশি, অচেনা কিছু বা লোকের ভয়।
• গাছ বা বন জঙ্গলের ভয়।
• মারা যাওয়ার ভয়।
ভয় বা আতঙ্ক দূর করবেন কীভাবে?
১. প্রথমে ভালো করে লক্ষ করুন, কোন বিষয়গুলোতে আপনি ভয় পাচ্ছেন। সেখানে ভয় পাওয়ার মতো কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব আছে কি না। যে ভূতের সিনেমা দেখে আপনি ভয় পাচ্ছেন, সেটার শেষ পর্যন্ত কী ঘটে। আবার ভাবুন, আপনি সিনেমা দেখেই ভয় পাচ্ছেন আর যে নায়ক বা নায়িকা ভূতের চরিত্রে অভিনয় করল, তাদের তো ভয়ে মরেই যাওয়া উচিত, তাই না? যখনই কোনো ভূতের সিনেমা দেখবেন, তখন সেই নায়ক বা নায়িকার কোনো রোমান্টিক সিনেমার গানের কথা ভাবতে থাকুন। দেখবেন, ভয় দূর হয়ে আপনি মনে মনে হাসতে শুরু করবেন। মানে যেই বিষয়টার জন্য ভয় পাচ্ছেন সেই ভয়ের বিপরিত কাজ করুন।
২. অনেক সময় কৌতূহলের কারণেও মনের ভয় দূর হয়। আপনি যদি মনের মধ্যে ভয় পুষে রাখেন, তাহলে তা কোনো দিনই দূর হবে না। যে বিষয়টাতে আপনি ভয় পাচ্ছেন, সেই বিষয়ে কৌতূহলী হয়ে উঠুন। দেখবেন, যখন পুরোটা জেনে যাবেন, তখন আর ভয় কাজ করবে না।
৩. ভয় পেলে সঙ্গে সঙ্গে কোনো না কোনো কাজ করতে থাকুন। কোনোভাবেই চুপচাপ বসে থাকবেন না। কাজের মধ্যে থাকলে ভয়ের কথা আপনি একসময় ভুলে যাবেন।
৪. প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলুন। এটা আপনার ভয় কাটাতে সাহায্য করবে। ইতিবাচক কথাগুলো আপনার মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা ভয়কে দূর করবে।
৫. বই পড়ুন। প্রিয় লেখকের বই আপনার সব ধরনের বিষণ্ণতা, ভয়, আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে থ্রিলার বা গোয়েন্দা টাইপের বই পড়ুন, যা আপনার মস্তিষ্ককে অন্যদিকে ধাবিত করবে।
৬. বেশি করে খান। চট করে পছন্দের খাবারটি তৈরি করে ফেলুন। দেখবেন, এক নিমেষেই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। আর ভয়, সেটা তো রান্না করতে করতেই ভুলে যাবেন।
৭. সাধারণ ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন। দেখবেন, আপনার ক্লান্তি দূর হবে। মস্তিষ্ক সতেজ মনে হবে। দেখবেন, ভয়ের কারণে আপনার শরীরে যে ভার অনুভব করছেন, তখন সেটা অনেক হালকা মনে হবে।
৮. প্রার্থনা করুন। প্রার্থনা ধ্যান করার মতো। দেখবেন, মনের ভয় বা আতঙ্ক সহজেই দূর হয়ে যাবে।
এখনো মনের ঘভিরে যে প্রশ্নটা রয়েইগেল, ভয় নামক মিথ্যা আচ্ছন্নতা থেকে কখন বাহির হবো আমরা?
এখনো মনের ঘভিরে যে প্রশ্নটা রয়েইগেল, ভয় নামক মিথ্যা আচ্ছন্নতা থেকে কখন বাহির হবো আমরা?
মাহমুদ হাসান
২৯/০৩/২০১৭ইং
দুপুর ২.৫০মি.

No comments:
Post a Comment