কেউ আপনাকে গালি দিলে, আপনার কোনো সমালোচনা বা । নিন্দা করলে আপনি তাতে
কষ্ট নিবেন না। কোনো কোনো নির্বোধ তো মহান আল্লাহ রববুল আলামীনকেও গালি
দেয়। অথচ তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা। তিনি আমাদের সকলের
রিযিকদাতা। তিনি ছাড়া আর কোনো মাৰুদ নেই। তা হলে সেখানে আমি আর আপনি কে?
আমরা ভুল করি। গুনাহ করি। আমাদের তো মানুষের যৌক্তিক-অযৌক্তিক নিন্দা ও
সমালোচনার মুখোমুখী হতেই হবে। এক্ষেত্রে আমাদের ধৈর্যধারণ ও সহনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনি যতদিন দান করবেন, উন্নতি করতে থাকবেন, নিজেকে উদ্ভাসিত
করবেন, অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করতে থাকবেন, ততদিন মানুষ আপনার সমালোচনা
করতেই থাকবে; যে পর্যন্ত না আপনি জমিনের কোনো গর্তে ঢুকে যান কিংবা আকাশে
উঠে গিয়ে তাদের দৃষ্টির আড়ালে চলে যান। আপনি যতদিন মানুষের মাঝে আছেন,
ততদিন কষ্ট পাবেনই। আপনার চোখ থেকে অশ্রু ঝড়বেই। মনে রাখবেন, যে মাটিতে
বসে আছে সে কখনও পড়ে না। শাহসওয়ারই যুদ্ধের ময়দানে ঘুরে বেড়ায়। মানুষ
আপনার
উপর এজন্য অসন্তষ্ট যে, আপনি বিদ্যা-বুদ্ধি, দক্ষতা-যোগ্যতা,
স্বভাব-চরিত্র কিংবা ধন-সম্পদে তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছেন। তারা ততক্ষণ
পর্যন্ত আপনাকে ক্ষমা করবে না, যতক্ষণ না আপনি আপনার এ সকল ভালো গুণাগুণ
থেকে মুক্ত হবেন; যতক্ষণ না আপনার কাছ থেকে আল্লাহর নেয়ামতসমূহ ছিনিয়ে
নেওয়া হবে এবং আপনি সম্পূর্ণরূপে রিক্তহস্ত হবেন। আপনি যতক্ষণ না নির্বোধ,
বেকার, অথর্ব ও অপদার্থে পরিণত হবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আপনাকে ক্ষমা
করতে পারবে না। তারা এমনটিই কামনা করে। অতএব, আপনাকে তাদের নিন্দা,
সমালোচনা ও কটু কথা সহ্য করতেই হবে। আপনি উহুদ পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ় হোন।
এমন শক্ত পাথরে পরিণত হোন, যাতে শিলা পড়লে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়,
কিন্তু পাথর আপন জায়গায় স্থির থাকে। আপনি যদি তাদের সমালোচনায় কর্ণপাত
করেন, তা হলে আপনার জীবনকে ব্যর্থ ও নিস্ফল করার ক্ষেত্রে তাদের আকাঙ্ক্ষা
বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। অতএব, আপনি তাদেরকে সুন্দরভাবে এড়িয়ে চলুন; তাদের
কথায় কর্ণপাত করবেন না। মনে রাখবেন, আপনার মর্যাদা ও গুরুত্ব যতবেশি
বৃদ্ধি পাবে, আপনার বিরুদ্ধে সমালোচনা ততবেশি ব্যাপক হবে। আপনি কত জনের মুখ
বন্ধ করতে পারবেন? কিন্তু আপনি যদি তাদের দিকে দৃষ্টি না দেন, তাদেরকে
এড়িয়ে চলেন, তাদেরকে তাদের মতো থাকতে দেন, তা হলে আপনি তাদের আক্রমণ থেকে
বাঁচতে পারবেন। ‘তুমি বলে দাও, তোমরা তোমাদের আক্রোশেই মরতে থাক। সূরা আলে
ইমরান : ১১৯] শুধু তাই নয়; বরং আপনি আপনার দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও
গুণাবলিতে বৃদ্ধি ঘটিয়ে, আপনার ভুল-ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতাসমূহ দূর করে
তাদের মুখে তালা লাগিয়ে দিতে পারেন। তবে আপনি যদি চান যে, পুরো পৃথিবীর
কাছে আপনি সম্পূর্ণরূপে ক্রটিমুক্ত হয়ে যাবেন, সমস্ত মানুষের নিকট
গ্রহণযোগ্য হয়ে যাবেন, তা হলে তা হবে আপনার অসম্ভব আশা ও আকাশকুসুম
স্বপ্ন।
লেখক : শেইখ ড. আয়িদ আল ক্বরনীর
বই : লা তাহযান বা হতাশ হবেন না
পাঠ নং : ১০-নিন্দা ও সমালোচনার মোকাবিলা করবেন যেভাবে ।
প্রকাশন : হুদহুদ
( চলবে ইনসাআল্লাহ )
No comments:
Post a Comment