ইমদাদুল হক নোমানী এর রোহিঙ্গা সফরনামা-৭



একজন হাফেযে কুরআন। সুন্দর আবয়বে গড়া একজন নায়েবে নবী। গায়ে সুন্নতি লেবাস। মাথায় টুপি। মুখে লাগদাড়ি। খেদমতে কুরআনে নিবেদিতপ্রাণ একজন মুখলিছ মুয়াল্লিম। দ্বীনের খেদমত ও দাওয়াতের মেহনতে নিয়োজিত একজন সরলমনা মানুষ। ফেবুর সুবাদে আমরা অনেকেই তাকে ভার্চুয়াল জগতে দেখেছি।

.
অভিশপ্ত রাখাইন। রাজ্যের মংডু শহর।.... এলাকায় বাস করেন এই হাফেযে কুরআন। ছোট্ট সংসার নিয়ে মোটামুটি সুখেই যাচ্ছিল তাদের পারিবারিক জীবন। সুখেরনীড়ে জীবনপথ পাড়ি দিচ্ছিল তার মাসুম সন্তানাদি। হঠাৎ নেমে আসে অশান্তির কালোমেঘ। নীলিমা আকাশের বিদ্যুৎচমক আর বজ্রপাত যেন তাদের সাজানো সংসারে। চারিদিক নিরপরাধ বেসামরিক মুসলমানদের উপর সামরিক সেনাবাহিনীর আকষ্মিক হামলা। সেসাথে নরপশু বৌদ্ধদের ওপেন হোলিখেলা। ইতিহাসের বর্বর, অমানুষিক নির্যাতন।
বাড়ী-ঘরে আগুন। পাহাড়ি জনপদে অগ্নিশিখা। দাবানল দাউ দাউ। নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ বণিতার জীবনযুদ্ধের সংগ্রাম। অজানা পথের যাত্রী। আপন জীবন বাঁচাতে যার যার মতো দৌড়। এ যেন ইহজীবনে কেয়ামতের ময়দান। চারিদিকে বিকল চিৎকার। জীবন্ত লাশ! রক্তের বন্যা!বাঁচাও; বাঁচাও!

বিভীষিকাময় পরিবেশ। অনুকূল পরিস্থিতি। নির্যাতিত রোহিঙ্গা। রক্তপিপাসু বৌদ্ধ নামক হায়েনাদের পৈশাচিক অনিরামিস, অবিরত পশুত্বপনা। রেহাই পায়নি এ নারকীয় তাণ্ডবলীলার ময়দানে হাফেযে কুরআন ভাইটিও এবং তার পরিবার। নমরুদের উত্তরসূরী পাষণ্ডরা জালিয়ে দিল তার বাড়ী! আগুনদিয়ে জালিয়ে দিল আমার প্রিয় নবিজীর সা. সুন্নত মুবারক দাড়ি! কলিজায় আগুন দিয়েছে জালিমেরা। থাকার পরিবেশ, সুযোগ তারা কেড়ে নিয়েছে। হাফেয সাহেব বাড়ী-ঘর ছেড়ে, রাতের আধারে স্বপরিবারে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে চলে এলেন আমার প্রিয় বাংলায়। একটু আশ্রয় আর জীবন রক্ষার আশায়।

ছুটে গেলাম আমরা নবাগত আশ্রয়গ্রহণকারীদের ক্যাম্পে। অর্ধশতাধিক মুহাজির মানবেতর জীবন কাঠাচ্ছে এখানে। আহত শিশু ও গর্ভবতী মহিলা একাধিক। কারগুজারী শুনলাম তাদের। মজলুমানদের পাশে সময় কাটালাম কিছুক্ষণ। কথা হলো হাফেয ভাইটির সাথে। তার হৃদয় বিদারক ঘটনা আমাদের অন্তর রেখাপাত করে। একে একে বললেন তার এলাকার নির্যাতনের করুণ কাহিনি। নিজের দাড়ি পোড়ানোর বর্বরতার বর্ণনা দিলেন.......!
-------
চলবে, ইনশাআল্লাহ।

No comments:

Post a Comment